Jul 14, 2024
Headlines

Coochbehar Village still not Independent : আজও পরাধীন মেখলিগঞ্জের কলসিগ্রাম, ভোগান্তিতে 1500 ভারতীয় পরিবার

স্বাধীনতার পর পেরিয়ে গেছে সাত দশকেরও বেশি সময়। তবুও এখনো যেন পরাধীনতার অন্ধকারে ডুবে রয়েছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের কলসিগ্রাম। কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বাস। অথচ এই গ্রামে বসবাসকারী মানুষগুলোর নেই কোন স্বাধীনতা। এখনও এই অসহায় মানুষগুলোর জীবন যাত্রার নিয়ন্ত্রক সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিত্যদিনের যাতায়াতে বিএসএফের চোখ রাঙানি তো বটেই, কোন সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ পরবেও ভুগতে হয় তাদের। সর্বদা সীমান্তরক্ষীদের নজরদারি ও শাঁসানিকে উপেক্ষা করেই জীবন চালাতে হয় বলে কার্যত অসামাজিক হয়ে বাঁচতে হচ্ছে এই এলাকার মানুষদের। ভোগান্তির ভয়ে এলাকায় আসেন না আত্মীয়স্বজনরাও।

মেয়ে ও ছেলেদের বিয়ের ক্ষেত্রেও ভোগান্তি চরমে ওঠে। এমনকি বিএসএফের বাঁধায় এলাকার সামগ্রিক পরিকাঠামগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের ছিটে ফোটাও পৌঁছায়নি বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এই এলাকায়। স্বভাবতই স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাঁটাতারে শিকল ছাড়াতে পারেননি এলাকার হাজার দুয়েক বাসিন্দা। পরাধীনতার অন্ধকার যেন এখনো ছেয়ে আছে তাদের।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং এলাকাবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য দেখার আবেদন জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। যদিও বিএসএফের তরফে এ ধরনের কোন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং বিএসএফের একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত পাচার ও চোরাচালান রুখতে এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতেই এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয়। তবে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ করে না বাহিনী।

সীমান্ত ঘেরা কলসি গ্রামে যেতেই ক্ষোভ উগড়ে দিলেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল ইসলাম জানালেন, প্রতিনিয়ত বিএসএফের কড়া নজরদারিতে চলতে হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমতির জন্য বিএসএফ ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। গত কুরবানী ঈদেও আমরা সমস্যায় পড়েছি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস কাঁটাতারের ওই পারে নিয়ে যেতেও প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কোন ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানালেও বিএসএফ অনেক ক্ষেত্রে শাসানিও দিচ্ছে।

এলাকার গৃহবধূ জবেদা বিবির আক্ষেপ, এই গ্রামে বিয়ে হয়েছে। আমার ছেলে মেয়ে আছে। এলাকার রাস্তাঘাট এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টি হলে জল কাদায় ভরে যায়। যাতায়াত করা যায় না। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারে না। অনেক সময়ই কাঁটাতার থেকে ফিরে যায় আত্মীয়-স্বজনরা। বিএসএফের ভোগান্তিতেই এসব হচ্ছে। স্থানীয়দের সুরে সুর মিলিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা তথা প্রাক্তন জেলা পরিষদের সদস্যা তথা ব্লক মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ফুলতি রায়।

তাঁর কথায়, এলাকায় প্রায় ৭০০-৮০০ ভোটার রয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি জেলা পরিষদের সদস্য থাকাকালীন এলাকার জন্য একটি রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেছিলাম। তবে বিএসএফের বাধায় সেই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়নি। রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও পৌঁছায়নি এই এলাকায়। এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে এবং এই মানুষগুলোর নিত্যদিনের কষ্ট দূর করার জন্য যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

Related Post

About Us

24 Hour Online Bengali & English News Portal Registered under Government of India. Head Office in Kokata.

Need Help? Connect Now