শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“যে সরকার তার সন্তানদের ভরণ পোষণ করতে পারেনা তাদের কি ক্ষমতায় থাকা সাজে?” এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে মহার্ঘ ভাতা ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলায় মুথ থুবড়ে পড়েছে রাজ্য। আদালতের নির্দেশ অগাস্টে পরবর্তী শুনানির আগেই বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে।
এই নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা প্রথম নয়। আগেও কোর্ট বহুবার বলেছে। সরকার মানেনি। বলেছে টাকা নেই। যে সরকার তার সন্তানদের ভরণ পোষণ করতে পারেনা তাদের কি ক্ষমতায় থাকা সাজে? আইন আদালত মানেনা। নিজের পক্ষে রায় গেলে সেটা রায়। বিপক্ষে গেলে সেই রায় মানে না। এখন মানুষকে ভাবতে হবে আলাদা আলাদা আন্দোলন হবে নাকি সরকারকে পাল্টে নিজের অধিকার বুঝে নেবেন।”
বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জ প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সুপ্রতিমবাবু যা বলছেন হয়তো কিছুটা ঠিক। এই সহিংস আন্দোলন রাজ্যে নতুন নয়। কিন্তু ওরা যেদিন প্রথম শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছিল সেদিন প্রথম কে লাথি মেরেছিল? কে লাঠিপেটা করেছিল? শিক্ষকদের লাথি মারা হল কেন? পায়ে হাত দিয়ে প্রনামের বদলে লাথি মারা হচ্ছে? যুগ পাল্টে গেছে? পুলিশের এই কু যুক্তি চলবে না। এসপার ওসপার করো। কোর্ট গিয়ে সরকারের বলা উচিত এই ১৮ হাজার যোগ্য। আমরা এদের চাকরি দিতে চাই। পারবেন উনি? স্বেচ্ছাচারী সরকার। বিজেপির সঙ্গে বহু জায়গায় এই জিনিস হয়েছে। আন্দোলনে আমরা মার খেয়েছি। আবার আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এইভাবে যদি আটকে রাখা যেত তাহলে তো দেশে কোথাও সরকার পরিবর্তন হতো না।”
আন্দোলন চলাকালীন বিকাশ ভবনে গিয়ে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত বচসায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। বচসা থেকে হাতাহাতি, ধাক্কা এমনকী সংবাদ মাধ্যমের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সব্যসাচীর বিরুদ্ধে এই নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, “আমার জানা নেই। তবে ওনার অভিব্যক্তিতে বোঝা গেছিল কিছুটা। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওনার যা ভাষা ছিল। হতে পারে উনি ওখানকার কাউন্সিলর। তাই বলে যা ইচ্ছা করবেন? আন্দোলনকারীদের একটা সেন্টিমেন্ট আছে। তাদের উস্কে দেওয়ার কি দরকার? খবরে থাকার জন্য অহেতুক এই বিতর্ক উনি তৈরি করেছেন।”
অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতির পরে শুক্রবার গুজরাটের ভূজ এয়ারবেসে সফর করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শুক্রবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভূজে পৌঁছে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন এবং সীমান্ত সন্ত্রাস ও যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন জানান, “অপারেশন সিন্দুর এখনও শেষ হয়নি। যা হয়েছে তা কেবল ট্রেলার, সময় মতো আমরা পুরো চিত্রটি বিশ্বের সামনে আনব।”