সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার সংস্থাগুলিকে উপেক্ষা করে গুজরাতের একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী সামগ্রী সরবরাহের টেন্ডারের। বুধবার, বিধানসভায় জিরো আওয়ারে এই অভিযোগ তুলে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “এটা ঠিক নয়। জনসাধারণের টাকা এভাবে ব্যয় করা যায় না।”
আগামীকাল বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ১০০টি মাউন্টেড ভেহিকেল এ ওয়েব কাস্টিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের তরফে। এর জন্য তিনটি কোম্পানি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আসে যেথা বৃহস্পতি, আই নেট এবং ভি মুক্তি। এর মধ্যে ভিমুক্তি কোম্পানিটি গুজরাতের এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন তাদের ১০০ এর মধ্যে ১০০ শতাংশ নাম্বার দিয়েছে। তাই গুজরাতের এই কোম্পানিটিই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জয়ী হয়েছে। এদিন বিধানসভায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, টেন্ডারে বাংলার একাধিক সংস্থা অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত বরাত দেওয়া হয়েছে গুজরাতের একটি সংস্থাকে। “এটা কীভাবে হচ্ছে, তার জবাব দিতে হবে ভারতের নির্বাচন কমিশনের দফতরকে। এটা স্বচ্ছতার প্রশ্ন। বাংলার সংস্থাগুলিকে বাদ দিয়ে অন্য রাজ্যের সংস্থাকে সুযোগ দেওয়া নীতিগতভাবে ভুল”- মত মন্ত্রীর। তৃণমূলের তরফে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি চেয়ে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিন ফিরহাদ সাফ জানিয়ে দেন, জনতার করের টাকায় কোনও পক্ষপাতিত্ব চলবে না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কে বা কারা, সেই উত্তর বিধানসভা ও জনতার সামনে আনা উচিত।” পরে তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চন্দ্রিমার কথায়, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে মানি। তার স্ট্যান্ড যে নিরপেক্ষ হবে এটা আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু এই ধরনের কাজ নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। কমিশন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে।”
চন্দ্রিমার কথায়, ” আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হবে। সে কোনও পলিটিক্যাল পার্টির হয়ে কাজ করবে না। কিন্তু কমিশনের কাজকর্ম দেখে মনে হচ্ছে ওরা যেন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে? না হলে বেছে বেছে গুজরাতের সংস্থাকে কেন এত নম্বর দেওয়া হল?” চন্দ্রিমা বলেন, “কালীগঞ্জের নির্বাচনে কমিশন একাধিক পদক্ষেপ করছে, তা প্রশংসনীয়। কিন্তু ওয়েব কাস্টিংয়ের জন্য যে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল সেখানে মাত্র তিনটি কোম্পানি অংশ নেয়। তাতে একটি কোম্পানিকে দেওয়া হল শূন্য নম্বর, একটিকে ১৫ আর গুজরাতের সংস্থাকে ১০০ তে ১০০ নম্বর দেওয়া হল। কীভাবে একটি সংস্থা ১০০ তে ১০০ পায়? নাকি সবটাই পূর্ব পরিকল্পিত?”

অন্যদিকে, ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত মামলায়,রাজ্য সরকারের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির উপর কলকাতা হাই কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের প্রেক্ষিতে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্যার সমাধান চান। কিন্তু যারা আমাদের নেত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও দেবনাথ হাঁসদাকে নিয়ে কটাক্ষ করেছে, আর বলেছে যে তারা আমাদের জুতোর নিচে থাকে, তাদের হৃদয়ে পুরো ওবিসি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ভরে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই বিষয়টিকে আইনি দিক থেকে দেখছে। যারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেছে, তারা এই বিষয়ের সমাধান চায় না, তারা আসলে ওবিসি বিরোধী।” তিনি আরও বলেন, “যেটা দেখার বিষয়, বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস বিরোধীরা…ছাব্বিশ হাজারের সকলের চাকরি খেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী আইনি স্বস্তি দিচ্ছেন গ্রুপ সি-গ্রুপ ডি-দের। আর ওরা বলছে, না এটা চলবে না। গোটা প্যানেল বাতিল করতে হবে। পৈশাচিক বিবৃতি সকলের চাকরি খাব, যাঁদের লক্ষ মানুষের ক্ষতি করা।”