সুমন তরফদার | কলকাতা সারাদিন
প্রয়াত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক দীপক ঘোষের লেখা বিতর্কিত বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বারাসত ফার্স্ট কোর্ট। আদালতের নির্দেশে, আপাতত বইটি ছাপানো, বিক্রি, বিতরণ ও প্রচার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
সোমবার বারাসতের সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) এই অন্তর্বর্তিকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের তরফে দায়ের করা একটি মানহানির মামলার ভিত্তিতে এই রায়। অভিযোগ, বইটিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অশালীন ও অশ্রদ্ধাজনক মন্তব্য রয়েছে।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার জানান, “আমার মা ও বাবাকে (প্রাক্তন মন্ত্রী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার) নিয়েও বইটিতে অসত্য ও মানহানিকর মন্তব্য রয়েছে। আমরা তাই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “শুধু বই নয়, যারা এটি ছেপেছেন, প্রকাশ ও পরিবেশন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আমরা আইনি পথে এগোব।”

আদালতের অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশ বলছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত বইটির কোনও ধরনের বিক্রি, বিতরণ, পিডিএফ শেয়ার, বা প্রকাশ করা যাবে না। কেউ এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীপক ঘোষের জীবনের একটি বড় সময় কেটেছে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে। অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলের হয়ে মহিষাদল থেকে বিধায়ক হন তিনি। পরবর্তীকালে যাদবপুর ও মেদিনীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে পরাজিত হন। দলের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে বই লেখেন দীপক, যা প্রথম প্রকাশের সময় থেকেই বিতর্ক সৃষ্টি করে।
বিরোধী দলগুলির অনেক নেতা এই বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছিলেন। এর আগে তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ও দীপক ঘোষের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন, যদিও সেই মামলার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।
এই বই সংক্রান্ত মামলাটি এখন শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। কোর্টের নিষেধাজ্ঞার ফলে বইটির পিডিএফ ফাইল, অনলাইন লিঙ্ক, বা যেকোনো ধরনের প্রচার পুরোপুরি বেআইনি বলে বিবেচিত হবে।