সেক্টর V-নিউ টাউন রুটে নজর, অ্যাপ-ভিত্তিক যাতায়াতে নতুন প্রতিযোগিতা—স্বস্তি না নতুন চ্যালেঞ্জ?
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতার যাতায়াতে কি এবার বড় বদল আসতে চলেছে? ভিড়, জ্যাম আর অনিশ্চয়তার শহরে হঠাৎই এন্ট্রি নিল অ্যাপ-ভিত্তিক বাস পরিষেবা Cityflo—আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
প্রথম ধাক্কাতেই প্রায় ২০০ বাস নিয়ে রাস্তায় নামছে Cityflo। লক্ষ্য একটাই—দৈনন্দিন যাত্রীদের জন্য ‘নির্ভরযোগ্য’ ও ‘প্রেডিক্টেবল’ যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিশেষ করে সেক্টর V, নিউ টাউন-এর মতো ব্যস্ত আইটি হাবের সঙ্গে আবাসিক এলাকা যুক্ত করতেই বেশি জোর দিচ্ছে সংস্থা।
বর্তমানে কলকাতার রাস্তায় যে ভিড় আর বিশৃঙ্খলা, তা নতুন কিছু নয়। অফিস টাইমে বাসে ওঠা মানেই যুদ্ধ, আর অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া অনেকের নাগালের বাইরে। ঠিক এই জায়গাতেই নিজেদের জায়গা তৈরি করতে চাইছে Cityflo।
সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেরিন ভেনাড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “দিল্লি-এনসিআর এবং কলকাতা—এই দুই শহরেই কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ভয়াবহ জ্যামের মধ্যে যাতায়াত করেন। এখনও বড় অংশের মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরশীল।” তাঁর মতে, এই জায়গাতেই অ্যাপ-ভিত্তিক সংগঠিত পরিবহণের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
Cityflo ইতিমধ্যেই মুম্বই, হায়দরাবাদ এবং দিল্লি-এনসিআর-এ নিজেদের পরিষেবা চালাচ্ছে। কলকাতায় ঢোকার পর তাদের মোট বাসের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেল—যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। বছরে ৫০ লক্ষেরও বেশি যাত্রী ব্যবহার করছেন এই পরিষেবা, আর গত এক বছরে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫০%।
এই পরিসংখ্যানই ইঙ্গিত দিচ্ছে—যাত্রীরা ধীরে ধীরে ‘প্রি-বুকড’, সময়মতো পৌঁছনো পরিষেবার দিকে ঝুঁকছেন। অনিশ্চিত পাবলিক ট্রান্সপোর্ট আর ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত গাড়ির মাঝে একটা ‘মিডল গ্রাউন্ড’ খুঁজছেন অনেকেই।
তবে Cityflo-র এন্ট্রি এমন সময়, যখন এই সেগমেন্টের একাধিক ছোট অপারেটর পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে বা সমস্যায় পড়েছে। ফলে বাজারে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছিল। সেই ফাঁকই কাজে লাগাতে চাইছে এই সংস্থা—তাদের মূল ভরসা ‘নিয়মিততা’ ও ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’।
অন্যদিকে, কলকাতায় Uber Shuttle-এর মতো পরিষেবার বিকল্প হিসেবেও উঠে আসছে Cityflo। এতে কি চাপ কমবে শহরের গাদাগাদি বাসে? নাকি নতুন প্রতিযোগিতা আরও জটিল করে তুলবে বাজার—এই প্রশ্নও উঠছে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। প্রতিটি শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি আলাদা, নিয়মকানুনও ভিন্ন। সেই জটিলতার মধ্যে পরিষেবা ঠিক রাখা কতটা সম্ভব—সেদিকেই এখন নজর বিশেষজ্ঞদের।

সব মিলিয়ে, Cityflo-র এই আগমন কলকাতার নিত্যযাত্রায় নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—এই ‘স্মার্ট যাত্রা’ কি সত্যিই স্বস্তি দেবে, নাকি নতুন লড়াইয়ের দরজা খুলে দেবে? এখন নজর সবার—এবার কী হবে?