শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘এবার বিধানসভা জিতব আর ডিসেম্বরে পুরসভা জিতবে বিজেপি।’ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দুই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি রয়েছেন বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকাতেও। আজ কলকাতায় বিজেপির চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পেশ উপলক্ষে রোড শোতে যোগ দিয়ে এভাবেই তৃণমূলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মনোনয়ন পেশের আগে চৌরঙ্গী বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক, এন্টালির বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, কাশিপুর বেলগাছিয়ার প্রার্থী রীতেশ তিওয়ারি এবং বেলেঘাটার প্রার্থী পার্থ চৌধুরী- চার কেন্দ্রের প্রার্থীদের নিয়ে পথসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
খাস কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আজ যা মানুষের উন্মাদনা তাতে জিতবেন উত্তর কলকাতার সকল বিজেপি প্রার্থী । ইভিএম-এ সকলে প্রতীকের সঙ্গে মুখ দেখবেন। পরিবর্তন চাই রাজ্যের। সীমান্ত বেড়া দিয়ে সুরক্ষিত করতে চাই, চাকরি চাই , টাটাকে চাই, আবার তাই বিজেপি চাই। স্কোয়ার ফুটের কাউন্সিলর আর পুলিশের তোলাবাজি কলকাতাকে শেষ করেছে। মোদিজি গ্যারান্টি বিকশিত ভারত। এবার বিধানসভা জিতব আর ডিসেম্বরে পুরসভা জিতবে বিজেপি। আমাদের লড়াই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয় । মা দুর্গার মূর্তি ভাঙে এরা রাম নবমীর মিছিলে পাথর বাজি হয়। ভাগাও তৃণমূলকে। চোর মুক্ত বাংলা চান তাহলে ২৬-এ নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন।’
কয়েকদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলে যে মন্তব্য করেছিল সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘জঙ্গলরাজ ছিল উত্তরপ্রদেশে এখন বিকশিত হয়েছে। দিল্লির হয় আমাদের হয়েছে এবার বাংলার পালা। নন্দীগ্রামে আগের বার হারিয়েছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার ভবানীপুরে হারবে। এবার বিধানসভায় একসঙ্গে বসবো তাপস রায় সন্তোষ পাঠক প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল পার্থ চৌধুরী বিজয় ওঝা। এস আই আর এর পর মানিকতলা থেকে বহু ভোটার এর নাম বাদ গেছে । আর পান্ডে জি কে ডাকছে ইডি আসুন জলদি আসুন । সব কা বিকাশ এর সঙ্গে হিসেব হবে।’
অন্যদিকে, ভবানীপুরে নির্বাচনী প্রচার ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীদের নজরদারির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ইমেলের মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ভবানীপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের সময় সাদা পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁর ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যেসব সাধারণ ভোটার তাঁর সঙ্গে দেখা করছেন বা কথা বলছেন, তাঁদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য পরিচয় নথিভুক্ত করা হচ্ছে। শুভেন্দুর আশঙ্কা, এই তথ্য পরবর্তীতে ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা সাহস করে আমার সঙ্গে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং ভোটারদের উপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।’ একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কলকাতা পুলিশকে শাসকদল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা।