শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান। এর জন্য গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর আবেদনের দ্রুত শুনানির জন্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন অভিষেক। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েও হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন। বিচারপতি তাঁর দ্রুত শুনানির আবেদন ফেরালেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তালিকায় যে ক্রমানুসারে বিষয়টি রয়েছে, সেই নিয়ম মেনেই শুনানি সম্পন্ন হবে; আলাদা করে কোনো দ্রুত শুনানির সুযোগ নেই।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে যে আবেদন বা মামলা করা হয়েছিল গতকাল, সেই মামলায় তাঁর বক্তব্য ছিল, তাঁকে ৭ দিনের জন্য যেন বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তার কারণ হিসাবে তিনি বলেছিলেন, তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি মামলায় রক্ষাকবচও দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।
আর এই রক্ষাকবচ দেওয়ার সময় বিচারপতি জানিয়েছিলেন, এই সময়ের মধ্যে কোনও ভাবে বিদেশ যেতে পারবেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই রক্ষাকবচের শর্ত মেনেই তিনি চাইলেই এখুনি বিদেশ যেতে পারবেন না। আর সেই কারণেই আইনজীবীরা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যাতে দ্রুত শুনানি হতে পারে। কিন্তু আজ সেই আর্জি খরইজ করছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে তাদের কাছে যে তালিকা রয়েছে, সেই তালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে এই মামলার।

প্রসঙ্গত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিদেশে যাওয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানোর পরেই বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করে দাবি করেন, ‘গোটা ভারতবর্ষের 140 কোটি মানুষ যদি ভারতেই চিকিৎসা করাতে পারে তাহলে ভাইপো এখানে চিকিৎসা করাতে পারবে না কেন? বিদেশে গেলে আর ফিরবে কিনা সেই সন্দেহ রয়েই যাচ্ছে। আমাদের দাবি চিকিৎসা যদি করাতেই হয় তাহলে ভারতের যেকোনো জায়গায় চিকিৎসা করান। বিদেশে চিকিৎসা করানোর কি প্রয়োজন?’