‘একসময়ের নিরাপদ পাড়া এখন আতঙ্কের’— টানা দুই ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিনেত্রী, রাজনৈতিক বার্তাতেও তীব্র আক্রমণ
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতার ( Kolkata) অন্যতম শান্ত ও নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পাটুলি ( Patuli) নিয়ে এবার উঠল বড় প্রশ্ন। টানা দু’দিনের ব্যবধানে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন টলিউড অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য (Rupa Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অভিনেত্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু সম্প্রতি এলাকায় কিছু অচেনা যুবকের আনাগোনা বেড়েছে বলেই তাঁর পর্যবেক্ষণ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দু’টি আলাদা ঘটনায় তিনি হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
রূপা জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৪ জুন সন্ধ্যায়। প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়ে পাটুলির R ব্লক থেকে বাইপাস সংলগ্ন রাস্তা ধরে এগোচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় এক সাইকেল আরোহী যুবক পিছন থেকে তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। এরপর আচমকাই ইউ-টার্ন নিয়ে তাঁর খুব কাছে চলে আসে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।
নিজের উপস্থিত বুদ্ধিতে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাঁর ডান হাতে চোট লাগে বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর তিনি পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানেই তাঁর সামনে আসে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য। অভিনেত্রীর দাবি, থানায় উপস্থিত আর এক তরুণীও প্রায় একই ধরনের হেনস্থার অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গেও আগের দিন একই এলাকায় একই কায়দায় দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ফলে এলাকায় একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
রূপার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, ২৬ জুন সন্ধ্যায় ফের নতুন করে হেনস্থার মুখে পড়েন তিনি। এবার ঘটনাস্থল পাটুলির T ব্লকের খেলার মাঠ সংলগ্ন রাস্তা।
অভিনেত্রীর দাবি, একটি খাবার সরবরাহকারী সংস্থার ডেলিভারি কর্মী বাইক নিয়ে তাঁর খুব কাছ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে চলে যায়। তিনি প্রতিবাদ করতেই ওই ব্যক্তি বাইক থামিয়ে হিন্দিতে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রূপা লেখেন, আগের ঘটনার রেশ তখনও কাটেনি। তাই তিনি সরাসরি ওই ব্যক্তিকে থানায় যাওয়ার কথা বলেন। ঠিক সেই সময় এক টোটোচালক এগিয়ে আসতেই অভিযুক্ত বাইক নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে শুধু নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। তিনি পাটুলির বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এলাকায় অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর পোস্টের রাজনৈতিক অংশ ঘিরে। সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, কিছু বহিরাগত ও অসামাজিক ব্যক্তি ভুল বার্তা পাচ্ছে এবং সেই কারণেই এমন ঘটনা বাড়ছে। যদিও এই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।
পোস্টের শেষদিকে রূপা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মহিলাদের একা বেরোনো নিয়ে ‘জ্ঞান’ দেওয়ার বদলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত। তাঁর মতে, সমস্যার মূল কারণ নারীদের চলাফেরা নয়, বরং অপরাধীদের মানসিকতা।

ঘটনার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীর পোস্ট ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এখন প্রশ্ন একটাই— কলকাতার অন্যতম নিরাপদ বলে পরিচিত পাটুলিতে যদি এমন অভিযোগ উঠতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? নজর এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।