শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
কায়রো/উত্তর সিনাই: ইতিহাসের বালির নিচে চাপা পড়ে থাকা আরেকটি বিস্ময় যেন হঠাৎ করেই উঠে এল পৃথিবীর সামনে। প্রায় ৩,৫০০ বছর ধরে মরুভূমির বুকের নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল সামরিক দুর্গের সন্ধান মিলেছে উত্তর সিনাই (North Sinai)-এ। এই আবিষ্কার শুধু একটি পুরনো স্থাপত্যের খোঁজ নয়, বরং প্রাচীন মিশর (Egypt) কীভাবে নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করত, সেনাবাহিনী পরিচালনা করত এবং সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল—সেই ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের দাবি, দুর্গটি এতটাই ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে যে তার ভিতরে এখনও পাওয়া যাচ্ছে অগ্নিকুণ্ডের চিহ্ন, রান্নার ব্যবহৃত চুলা, এমনকি হাজার হাজার বছর আগের ফসিলাইজড ডো-এর একটি অংশও। এমন আবিষ্কার অত্যন্ত বিরল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
‘হরুসের পথ’-এর ধারে লুকিয়ে ছিল দুর্গ
নতুন এই দুর্গটি আবিষ্কৃত হয়েছে টেল এল-খারুবারা (Tell El-Kharouba) এলাকায়। এটি প্রাচীন ‘হরুসের পথ’ (Way of Horus) নামে পরিচিত ঐতিহাসিক সামরিক সড়কের ধারে অবস্থিত। এই পথ একসময় নীল নদের বদ্বীপকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করত এবং বহু শতাব্দী ধরে মিশরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হত।
গবেষকদের মতে, এই পথ দিয়েই সৈন্য চলাচল, অস্ত্র পরিবহণ এবং সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। এর আগে এই একই রুটের ধারে একাধিক দুর্গের সন্ধান মিললেও, নতুন আবিষ্কারটি আকার ও সংরক্ষণের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
থুতমোস প্রথমের আমলের নির্মাণ?
প্রাথমিক গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল থুতমোস প্রথম (Thutmose I)-এর শাসনকালে। তিনিই সেই ফেরাউন, যিনি মিশরের সাম্রাজ্যকে বর্তমান সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কৌশলগত জায়গায় দুর্গ নির্মাণ মোটেও কাকতালীয় নয়। বরং এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিল প্রাচীন মিশর।
দুই একর জুড়ে সামরিক ঘাঁটি
প্রায় দুই একর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই দুর্গের পরিকল্পনা অত্যন্ত সুসংগঠিত। খননের সময় পাওয়া গেছে আবাসিক অংশ, স্টোররুম, খোলা উঠোন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার চিহ্ন।
স্থাপত্য বিশ্লেষণ করে গবেষকদের অনুমান, এখানে একসঙ্গে ৪০০ থেকে ৭০০ জন সৈন্য অবস্থান করতে পারতেন। গড় হিসেবে প্রায় ৫০০ জন সেনা এখানে মোতায়েন ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
১১টি প্রতিরক্ষা টাওয়ারে নজরদারি
দুর্গের চারপাশে এখন পর্যন্ত ১১টি প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ার শনাক্ত করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। এতগুলি টাওয়ার একসঙ্গে থাকা থেকে বোঝা যায়, এই দুর্গ ছিল সীমান্ত প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
টাওয়ারগুলির ভিত্তিতে পাওয়া গেছে বিশেষ ধরনের মাটির পাত্র। কয়েকটিতে খোদাই করা রয়েছে থুতমোস প্রথমের নাম। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে এই ধরনের ভিত্তি-উপহার প্রাচীন মিশরে প্রচলিত ছিল।
জিগজ্যাগ প্রাচীরের পিছনে ছিল বৈজ্ঞানিক ভাবনা
দুর্গের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলির মধ্যে একটি হল এর জিগজ্যাগ আকৃতির প্রাচীর। উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত এই দেয়াল পশ্চিম অংশকে আলাদা করেছে, যেখানে সৈন্যদের আবাসন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নকশা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। জিগজ্যাগ কাঠামো প্রাচীরকে আরও শক্তিশালী করত এবং মরুভূমির প্রবল বাতাস ও বালির ক্ষয় অনেকটাই কমিয়ে দিত।
চুলা আর ডো-এর টুকরো বলছে অন্য গল্প
দুর্গের বাইরের অংশে আবিষ্কৃত হয়েছে একাধিক ছোট চুলা। এগুলি সম্ভবত সৈন্যদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হত।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এই চুলাগুলির কাছেই পাওয়া গেছে হাজার হাজার বছর আগের ফসিলাইজড ডো-এর একটি অংশ। অর্থাৎ, দুর্গে বসবাসকারী সৈন্যদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র আজও মাটির নিচে সংরক্ষিত রয়েছে।
এজিয়ান আগ্নেয়শিলার সন্ধান
খননের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দুর্গের ভিতরে পাওয়া গেছে এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়শিলা।
গবেষকদের ধারণা, এই শিলা হয়তো নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছিল অথবা সমুদ্রপথে এখানে আনা হয়েছিল। সেই কারণেই এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা আশপাশে কোনও প্রাচীন বন্দর ছিল কি না, তারও সন্ধান শুরু করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের কী মত?
প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ জেমস হফমায়ার (James Hoffmeier) জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত দুর্গ এবং আগে খনন করা টেল এল-বোর্গ (Tell el-Borg)-এর দুর্গ একই সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
তাঁর মতে, এই দুর্গগুলিই প্রায় চার শতাব্দী ধরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে মিশরের প্রভাব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
অন্যদিকে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়, বার্মিংহাম (University of Alabama at Birmingham)-এর মিশরবিদ গ্রেগরি মামফোর্ড (Gregory Mumford) বলেছেন, এই আবিষ্কার উত্তর-পূর্ব সিনাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কীভাবে মিশর তার পূর্ব সীমান্ত রক্ষা করত, সে সম্পর্কেও আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যাবে।
ইতিহাসের নতুন দরজা খুলে গেল?
প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই দুর্গ শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়। এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতার পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, স্থাপত্য এবং সামরিক দক্ষতার জীবন্ত সাক্ষী।

খননকাজ এখনও চলছে। ফলে আগামী দিনে এখান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।
হাজার হাজার বছর ধরে মরুভূমির বালির নিচে চাপা থাকা এই দুর্গ কি প্রাচীন মিশরের আরও অজানা ইতিহাস সামনে আনবে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্বের প্রত্নতত্ত্ব মহল।
]]>শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎই বড় রাজনৈতিক বার্তা। ভার্চুয়াল ভাষণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) ঘোষণা করলেন, যাই ঘটুক না কেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। এমনকি দেশে ফিরে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বা প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকতে পারে—এ কথা উল্লেখ করেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষণার পরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, অন্যদিকে বর্তমান প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান—বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখলেই আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। দুই পক্ষের এই অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের প্রচার চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। তবে তাঁর কথায়, ক্ষমতায় ফেরাই তাঁর উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ বা ব্যক্তিগত ঝুঁকিও তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরাতে পারবে না।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তাঁর সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করেন না। তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
ভারতে আশ্রয় পাওয়ার প্রসঙ্গেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন পর্বে প্রবেশ করছে। যদিও এই মূল্যায়ন বিশ্লেষকদের মতামত, এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, বর্তমান বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলির আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, তিনি দেশে ফিরলে তাঁকে আদালতের সামনে হাজির করা হবে এবং আইন অনুযায়ী বিচার চলবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সমস্ত আইনি সুযোগও তিনি পাবেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে। একাংশের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। আবার অন্য অংশের মতে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
এদিকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা এবং প্রশাসনের কড়া অবস্থান—দুইয়ের সংঘাতে আগামী দিনে কী ঘটতে চলেছে, তা নিয়েই এখন কৌতূহল বাড়ছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেখ হাসিনা সত্যিই কবে বাংলাদেশে ফিরবেন? আর ফিরলে সেই দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কী নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে?
]]>
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
ফুটবলের মাঠে তিনি যতটা আলোচনায় থাকেন, মাঠের বাইরেও তাঁদের জীবন ততটাই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। আর এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে এক সাধারণ পারিবারিক গলফ ডে-ও কীভাবে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যেতে পারে, তারই আরও এক নজির মিলল।
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ (Georgina Rodríguez) সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে গলফ কোর্সে সময় কাটান। সেই মুহূর্তের একগুচ্ছ ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। তবে ছবির মূল আকর্ষণ ছিলেন জর্জিনা নিজেই।
গলফের প্রচলিত পোশাকের বদলে গোলাপি রঙের একটি স্টাইলিশ টু-পিস পোশাকে দেখা যায় তাঁকে। জানা গিয়েছে, এই পোশাক তাঁর নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড Mimoa-র সংগ্রহের অংশ। ফলে পারিবারিক অবসরের এই মুহূর্তকেই তিনি নিজের ব্র্যান্ড প্রচারের অন্যতম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় জর্জিনা লেখেন, “Mimoa এমন একটি ব্র্যান্ড, যা জীবনের প্রতিটি চলমান মুহূর্ত, পরিবার আর স্মরণীয় স্মৃতির সঙ্গে পথ চলার জন্য তৈরি।” এই বার্তার মধ্যেই ছিল তাঁর ব্র্যান্ডের দর্শন এবং ব্যক্তিগত জীবনের আবেগের মিশেল।
ছবিগুলিতে দেখা যায়, গলফের পাটিং গ্রিনে অনুশীলন করছেন রোনাল্ডো এবং জর্জিনা। কখনও সন্তানদের সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটাচ্ছেন, আবার কখনও নিরিবিলি পরিবেশে একান্ত মুহূর্ত উপভোগ করছেন। মাঠের বাইরের এই পারিবারিক রূপই ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে জর্জিনার অনুসরণকারীর সংখ্যা ৭৬ মিলিয়নেরও বেশি। ফলে তাঁর যে কোনও পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই ছবিগুলিও তার ব্যতিক্রম নয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টে ভিড় জমে লাখ লাখ লাইক এবং হাজার হাজার মন্তব্যে। অনেকেই তাঁর ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ এই দম্পতির পারিবারিক বন্ধনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং জর্জিনা রদ্রিগেজ (Georgina Rodríguez)-এর প্রেমের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। ২০১৭ সালে মাদ্রিদের একটি Gucci স্টোরে কাজ করার সময় প্রথম পরিচয় হয়েছিল তাঁদের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে বদলে যায়, আর তারপর থেকেই তাঁরা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত সেলিব্রিটি দম্পতি।
এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান—আলানা মার্টিনা এবং বেলা এসমেরাল্ডা। পাশাপাশি রোনাল্ডোর আরও তিন সন্তানের দেখভালের দায়িত্বও জর্জিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন। ফলে শুধু সঙ্গী হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল মা হিসেবেও তিনি নিয়মিত প্রশংসা পান।
গত বছর রোনাল্ডো জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেই সময় তিনি যে হীরের আংটি উপহার দিয়েছিলেন, তার মূল্য ছিল প্রায় £3.7 মিলিয়ন। এই আংটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দামি সেলিব্রিটি এনগেজমেন্ট রিংগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়।

একদিকে মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এখনও খবরের শিরোনামে থাকেন রোনাল্ডো, অন্যদিকে জর্জিনা ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ফ্যাশন, ব্যবসা, ব্র্যান্ডিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। ফলে তাঁর প্রতিটি পোস্টই এখন কেবল ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়, বরং এক সফল ব্যবসায়িক কৌশলেরও অংশ।

পরিবার, ফ্যাশন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের এই মেলবন্ধনই আবারও প্রমাণ করল—রোনাল্ডো-জর্জিনা জুটি শুধু ফুটবলপ্রেমীদের নয়, গোটা বিশ্বের লাইফস্টাইল অনুরাগীদের কাছেও সমান আকর্ষণের কেন্দ্র। এখন প্রশ্ন একটাই—বিয়ের দিনক্ষণ কবে ঘোষণা করবেন এই তারকা জুটি? সেই অপেক্ষাতেই কোটি কোটি অনুরাগী।
]]>সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
নয়াদিল্লি/লন্ডন: ভারত (India) ও যুক্তরাজ্যের (United Kingdom) অর্থনৈতিক সম্পর্কে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। বহু প্রতীক্ষিত ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (UK-India Free Trade Agreement) মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। দুই দেশের সরকারই এই চুক্তিকে গত কয়েক দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে দেখছে।
এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, পর্যটন এবং ভোক্তা বাজার—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের অর্থনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
বর্তমানে ভারত ও ব্রিটেন-র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। নতুন চুক্তির ফলে সেই অঙ্ক আরও দ্রুত বাড়বে বলে আশাবাদী দুই দেশই। সবচেয়ে বড় সুবিধা মিলবে আমদানি-রপ্তানিতে। কারণ, এখন থেকে বিপুল সংখ্যক পণ্যে শুল্ক কমবে বা পুরোপুরি উঠে যাবে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্য কার্যত শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ভারতে আসা ৯০ শতাংশ ব্রিটিশ পণ্যে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ফলে দুই দেশের বাজারে পণ্যের দাম কমার পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনও আরও সহজ হবে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে মুম্বই (Mumbai)-এ ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের (British Airways) একটি বিমানে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষভাবে আনা হয় একাধিক ব্রিটিশ পণ্য। এর মধ্যে ছিল প্রসাধনী, খাদ্যসামগ্রী এবং বিভিন্ন পানীয়, যেগুলি নতুন চুক্তির ফলে কম শুল্কের সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ব্রিটেনের ট্রেড কমিশনার হারজিন্দর কাং (Harjinder Kang)। তিনি বলেন, “এটি ভারত ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ব্যবসা ও সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুফল পাবেন। বাণিজ্য হবে আরও দ্রুত, সহজ এবং সাশ্রয়ী।”
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ভারতীয় শাখার জেনারেল ম্যানেজার ডেভিড রাইট (David Wright)-ও এই চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ভারত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৬৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হলেও গ্রীষ্মের শেষে তা বেড়ে ৭০-এ পৌঁছবে। এতে ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির সুবিধা শুধু বড় শিল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অটোমোবাইল (Automobile), উৎপাদন শিল্প (Manufacturing), ভোগ্যপণ্য (Consumer Goods), সৃজনশীল শিল্প (Creative Industries) এবং চিকিৎসা প্রযুক্তি (Medical Technology)-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
দুই দেশের সরকার ইতিমধ্যেই এই সাফল্য উদযাপনের জন্য নয়াদিল্লি (New Delhi), মুম্বই (Mumbai), বেঙ্গালুরু (Bengaluru) এবং লন্ডনের (London) ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে একাধিক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। সেখানে শিল্পপতি, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির অর্থনৈতিক প্রভাবও যথেষ্ট বড় হতে পারে। সরকারি অনুমান অনুযায়ী, প্রতি বছর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ভারতের জিডিপি প্রায় ৫.১ বিলিয়ন পাউন্ড এবং যুক্তরাজ্যের জিডিপি ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে এই চুক্তিকে দুই দেশের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। এখন নজর থাকবে, এই নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবে কত দ্রুত শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আজ শুরু হল নতুন অধ্যায়—এবার দেখার, এই ঐতিহাসিক চুক্তি ভবিষ্যতের অর্থনীতির মানচিত্র কতটা বদলে দিতে পারে।
]]>সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কল্যাণী (Kalyani), নদিয়া (Nadia)-র একটি হাসপাতালের মঞ্চে ছিল আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার উদ্বোধন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেই উঠে এল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের বিতর্ক। রোবোটিক নি-সার্জারির সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ [শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)] হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের পরিচয়পত্র বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে নথি যাচাইয়ে কোনওরকম শিথিলতা চলবে না।
মঙ্গলবার কল্যাণীর জেনারেল হাসপাতালে জেলার প্রথম রোবোটিক নি-সার্জারি পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই প্রযুক্তির ফলে হাঁটু প্রতিস্থাপন-সহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই পরিষেবা বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম খরচে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে উদ্বোধনী মঞ্চে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সামনে আনেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নদিয়া একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় রোগীদের পরিচয় যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যে কোনও রোগী চিকিৎসা পেতে পারেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত পরিচয়পত্র, বিশেষ করে আধার কার্ড, যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই করা।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “আপনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সূচনা করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ছে। রোগীর পরিচয়পত্র সঠিকভাবে যাচাই করুন। প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই আসল ও নকল নথির পার্থক্য বোঝা সম্ভব। ভবিষ্যতে কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই এই সতর্কতা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করে চিকিৎসা করিয়ে চলে যান এবং পরে অন্য কোনও মামলায় ধরা পড়েন, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন [রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission)]-এর মহারাজও। যদিও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সতর্কতা সংক্রান্ত এবং দায়িত্বশীল পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের অধিকর্তা শিলা সিং ঘোষ জানান, এই নতুন পরিষেবার মাধ্যমে নদিয়া জেলার রোগীরা বড় সুবিধা পাবেন। তাঁর বক্তব্য, এতদিন রোবোটিক নি-সার্জারির জন্য অনেককেই কলকাতা বা অন্য রাজ্যে যেতে হত। এখন সেই প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
তিনি জানান, সাধারণভাবে একটি রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচ চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই হাসপাতালে একই অস্ত্রোপচার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে করানো সম্ভব হবে। উদ্বোধনের দিন প্রথম কয়েকজন রোগীর হাঁটু প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের নির্ভুলতা অনেকটাই বাড়ে। সার্জনের পরিকল্পনাকে প্রযুক্তি আরও সূক্ষ্মভাবে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করে, ফলে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

একদিকে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সূচনা, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা ও নথি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ—এই দুই বিষয়ই মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সতর্কতার এই বার্তা আগামী দিনে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলির কাজের পদ্ধতিতে কোনও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
এবার প্রশ্ন একটাই—পরিচয়পত্র যাচাই নিয়ে এই বার্তার পরে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলিতে কি নতুন নির্দেশিকা আসবে, নাকি বিতর্ক আরও তীব্র হবে?
]]>শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল মানেই আলাদা আবেগ। আর সেই আবেগই যেন নতুন করে বিস্ফোরিত হল মায়ামির (Miami World Cup) হার্ড রক স্টেডিয়ামে। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শুধু নকআউটেই উঠল না, গোটা ফুটবল বিশ্বকে শক্তিশালী বার্তাও দিয়ে দিল ব্রাজিল (Brazil Football Team)।
তবে ম্যাচের স্কোরলাইন যতটা আলোচনায়, তার থেকেও বেশি আলোচনায় একজন মানুষ—নেইমার জুনিয়র (Neymar Jr)।
দীর্ঘ অপেক্ষা, একের পর এক চোট, জাতীয় দলের বাইরে কাটানো কঠিন সময়—সবকিছুর পর অবশেষে আবার ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন তারকা ফুটবলার। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত যেন রূপ নিল আবেগের এক সিনেমায়।
ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে ছিল উৎসবের আবহ। হাজার হাজার সমর্থকের কণ্ঠে একটাই নাম—নেইমার। কিন্তু মাঠে নামার আগেই ব্রাজিল নিজেদের কাজ প্রায় সেরে ফেলেছিল।
খেলার মাত্র সপ্তম মিনিটেই স্কটিশ রক্ষণে প্রথম ধাক্কা দেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র (Vinicius Junior)। দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন তিনি।
সেই গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে সেলেসাওদের আক্রমণভাগ। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আবারও গোল করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন ভিনি। স্কটল্যান্ড তখন কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাথিউস কুনিয়া (Matheus Cunha) স্কোরলাইনে নিজের নাম যোগ করতেই ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
স্কটল্যান্ড (Scotland Football Team) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণের সামনে তারা কার্যত অসহায় দেখিয়েছে।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায় ৭৬ মিনিটে।
সাইডলাইনে ওয়ার্ম-আপ করছিলেন নেইমার। তাঁকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে দেখেই গ্যালারি গর্জে ওঠে। হাজার হাজার সমর্থক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে।
অবশেষে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। সময়টা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু মুহূর্তটা ছিল ঐতিহাসিক।
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর জাতীয় দলের হয়ে আর খেলতে পারেননি নেইমার। গুরুতর চোট তাঁকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রেখেছিল। চলতি বিশ্বকাপেও প্রথম দুটি ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছিল।
তাই এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন ফুটবলারের মাঠে ফেরা নয়, বরং লড়াই করে ফিরে আসার এক প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নেইমার। ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর চোখের জল।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সেই দৃশ্য যেন অনেক কিছু বলে দিয়েছে। কারণ এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে প্রায় তিন বছরের অপেক্ষা, যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে ব্রাজিল শিবিরে এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid) তারকা চলতি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার।
এর ফলে গোলদাতার তালিকায় তিনি উঠে এসেছেন আর্লিং হালান্ড (Erling Haaland) এবং কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)-র সমতুল্য স্থানে।
তাঁদের সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি (Lionel Messi), যার ঝুলিতে রয়েছে পাঁচ গোল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেইমারের অভিজ্ঞতা এবং ভিনিসিয়াসের বিস্ফোরক ফর্মের সংমিশ্রণ ব্রাজিলকে নকআউট পর্বে আরও ভয়ংকর করে তুলতে পারে।
এই জয়ের ফলে আরেকটি নজিরও গড়েছে ব্রাজিল।
টানা ১৫তম বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল তারা। বিশ্ব ফুটবলে ধারাবাহিকতার এমন রেকর্ড খুব কম দেশেরই রয়েছে।

অন্যদিকে গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ষোলোয় উঠেছে মরক্কো (Morocco Football Team)। হাইতির বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জিতে তারা নিজেদের অভিযান জারি রেখেছে।

স্কটল্যান্ডের জন্য অবশ্য গল্পটা ভিন্ন।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে নেমেছিল তারা। সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। বোস্টন (Boston) থেকে মায়ামি—যেখানেই গিয়েছে, স্কটিশ সমর্থকেরা উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেছেন।

কিন্তু মাঠের ফলাফল বদলাতে পারেনি সেই আবেগ।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত একবারও গ্রুপ পর্বের বাধা টপকাতে পারেনি স্কটল্যান্ড। এবারও সেই আক্ষেপ সঙ্গী করেই বিদায় নিতে হল তাদের।
এখন অবশ্য সব নজর ব্রাজিলের দিকে। কারণ গ্রুপ পর্ব শেষ, শুরু আসল যুদ্ধ। নকআউটে একটি ভুল মানেই স্বপ্নভঙ্গ।
তবে নেইমার ফিরেছেন, ভিনিসিয়াস আগুনে ছন্দে আছেন, আর ব্রাজিল আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। ফুটবল বিশ্ব তাই একটাই প্রশ্ন করছে—এই সাম্বা বাহিনী কি সত্যিই আবার বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগোচ্ছে?
]]>শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত মঞ্চে হঠাৎ বড় মোড়। কয়েক মাসের সংঘাত, হামলা-পাল্টা হামলা এবং তেল পরিবহণ ঘিরে উদ্বেগের পর অবশেষে সমঝোতার পথে আমেরিকা ও ইরান। আর সেই খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কূটনৈতিক মহল— সর্বত্র শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। সমাজমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ওই জলপথে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের বার্তা ছিল স্পষ্ট এবং যথেষ্ট নাটকীয়। তাঁর কথায়, “চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সকলকে অভিনন্দন। এবার বিশ্বের জাহাজগুলো তাদের ইঞ্জিন চালু করুক, তেল পরিবহণ আবার স্বাভাবিক হোক।”
যদিও বাস্তবে এখনও চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হয়নি। সূত্রের দাবি, আগামী ১৯ জুন সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় (Geneva, Switzerland) দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিপত্রে সই করবেন। তারপরই কার্যকর হবে নতুন ব্যবস্থা।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। পশ্চিম এশিয়ার (Middle East) এই সরু জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কৌশলগত রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে হরমুজ় খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির বার্তা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, তাঁর প্রশাসনের এই উদ্যোগ পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, “আমার আগে অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। এই চুক্তি অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে।”
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইজ়রায়েলি যৌথ অভিযানের পর ইরান এবং আমেরিকার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। এরপর একাধিকবার পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় হরমুজ় প্রণালী ঘিরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
সূত্রের মতে, ওই সময়ে জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এখন চুক্তি কার্যকর হলে ধাপে ধাপে সেই বাধাগুলি সরানোর কাজ শুরু হতে পারে।
চুক্তি নিয়ে প্রথমে পাকিস্তান (Pakistan) আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশ করে। পরে মার্কিন প্রশাসন এবং ইরানের তরফ থেকেও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যদিও তেহরান প্রথমদিকে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল এবং রবিবার চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল।
তবে পরবর্তীতে দুই পক্ষই আলোচনার অগ্রগতির কথা স্বীকার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনও পূর্ণাঙ্গ বা চূড়ান্ত চুক্তি নয়। আপাতত হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া এবং বাণিজ্যিক পরিবহণ স্বাভাবিক করাই প্রধান লক্ষ্য। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (Iran Nuclear Program) এবং অন্যান্য সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও জটিল আলোচনা হতে পারে।

ফলে আপাতত বিশ্ববাজারে স্বস্তির হাওয়া বইলেও কূটনৈতিক লড়াই যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি, তা স্পষ্ট। বরং শুক্রবারের জেনেভা বৈঠকই ঠিক করে দিতে পারে আগামী দিনে আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক কোন পথে এগোবে।
এখন প্রশ্ন একটাই— হরমুজ়ের দরজা খুললে কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমবে, নাকি এটি আরও বড় কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা মাত্র?
]]>শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
নয়াদিল্লি | ভারতের ক্রীড়া জগতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! আগামী দিনে কি বিদেশে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত অ্যাথলিটরাও ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন? সেই সম্ভাবনাই এখন জোরালো হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রক (Ministry of Youth Affairs and Sports) ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় (PMO) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটির মূল বিষয়—একটি নতুন ‘Sports Passport’ কাঠামো তৈরি করা, যার মাধ্যমে যোগ্য OCI (Overseas Citizens of India) এবং PIO (Persons of Indian Origin) ক্রীড়াবিদদের ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পারফরম্যান্স আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটবল (Football), বাস্কেটবল (Basketball), টেনিস (Tennis)-এর মতো খেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিভাদের দেশের হয়ে খেলানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কারণ, বর্তমানে ভারতের নাগরিকত্ব আইন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিয়মের কারণে OCI বা PIO কার্ডধারীরা সরাসরি ভারতের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।
একটি সূত্র কলকাতা সারাদিন নিউজকে জানিয়েছে, “ক্রীড়া মন্ত্রক একটি বিস্তারিত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী দফতর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠিয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই Sports Passport Framework নিয়ে ভাবনা চলছে। তবে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও ছয় থেকে আট মাস সময় নিতে পারে।”
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের ফুটবল এবং অন্যান্য দলগত খেলায় বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পেশাদার লিগে খেলছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা হিসেবে পরিচিত।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চীন, ফিলিপিন্স, আয়ারল্যান্ড কিংবা একাধিক আফ্রিকান দেশ অতীতে প্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে লাভবান হয়েছে। ভারতও যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে বিশেষ কিছু খেলায় দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার যোগ্যতা বিধি এবং আইনি জটিলতার মতো একাধিক প্রশ্ন সামনে আসবে। ফলে প্রস্তাবটি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিস্তারিত পর্যালোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ক্রীড়াপ্রেমীদের একাংশ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ মনে করছেন দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিভা বিকাশের ওপর জোর দেওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে Sports Passport নিয়ে বিতর্কও কম হবে না।
এখন নজর দিল্লির সিদ্ধান্তের দিকে। যদি সবুজ সংকেত মেলে, তাহলে ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। আর যদি না মেলে, তাহলে এই প্রস্তাবও হয়তো ফাইলবন্দি হয়ে যাবে।
প্রশ্ন একটাই—বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের জন্য কি এবার প্রবাসী ভারতীয় প্রতিভাদের দিকে হাত বাড়াবে ভারত?
]]>শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল ব্রাজিলকে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ডাগআউটে রয়েছেন কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে সমর্থকদের মুখে উচ্ছ্বাসের বদলে দেখা গেল উদ্বেগ।
নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে [Brazil National Team] বনাম [Morocco National Team] ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সেলেসাওদের। স্কোরলাইন যতটা সমতা দেখাচ্ছে, মাঠের খেলা কিন্তু ততটা নয়। বহু সময়েই মনে হয়েছে, মরক্কোর বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট বাঁচানোই যেন ব্রাজিলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝড় তোলে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। প্রথম দশ মিনিটেই একের পর এক আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে তারা। গোলরক্ষক [Alisson Becker] কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না করলে ম্যাচের ছবি আরও ভয়াবহ হতে পারত।
অবশেষে ২১ মিনিটে ভেঙেই পড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ। দুর্দান্ত এক থ্রু বল থেকে সুযোগ পান [Ismael Saibari]। মুহূর্তের মধ্যে ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারকে ছাপিয়ে এগিয়ে গিয়ে আলিসনের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে প্রথম ধাক্কা দেয় মরক্কো।

গোল খাওয়ার পরও ব্রাজিলকে খুব একটা ছন্দে দেখা যায়নি। মাঝমাঠে বলের দখল থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। ঠিক সেই সময় দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন [Vinicius Junior]।

৩২ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতার ঝলক দেখিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ব্রুনো গুইমারেসের সঙ্গে দ্রুত পাস বিনিময়ের পর বক্সে ঢুকে ডান পায়ের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে মরক্কোর গোলরক্ষক [Yassine Bounou]-কে পরাস্ত করেন তিনি। বল সোজা জালের ওপরের কোণায় আশ্রয় নেয়। মুহূর্তের মধ্যে স্টেডিয়ামে ফিরিয়ে আনেন ব্রাজিল সমর্থকদের আশা।
তবে সেই আশাই শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তব রূপ পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ ক্রমশ কৌশলগত লড়াইয়ে পরিণত হয়। দুই কোচই একাধিক পরিবর্তন আনেন। আক্রমণের ঝাঁজ কমে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মাঝমাঠে। সেখানে মরক্কোই ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী।
শেষ ২০ মিনিটে একাধিকবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে মরক্কো। কয়েকটি সম্ভাবনাময় সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু আলিসনের দৃঢ়তা এবং কিছুটা ভাগ্য ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচিয়ে দেয়।
ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। হাকিমির কড়া মার্কিংয়ের মধ্যেও তিনি ছিলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার। গোলের পাশাপাশি পুরো ম্যাচে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
অন্যদিকে [Bruno Guimaraes] আক্রমণে কার্যকর ভূমিকা রাখলেও তার অতিরিক্ত এগিয়ে যাওয়ার প্রবণতায় মাঝমাঠে বড় ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বারবার আক্রমণ সাজিয়েছে মরক্কো।
সবচেয়ে হতাশ করেছেন [Raphinha]। বার্সেলোনা তারকাকে ম্যাচজুড়ে প্রায় অচেনা লেগেছে। ডান প্রান্তে তিনি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। এমনকি বক্সের মধ্যে পাওয়া একটি সোনালি সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি।

তবে ব্রাজিল শিবিরের জন্য এখনও সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েও ট্রফি জেতা সম্ভব। ২০২২ সালে সৌদি আরবের কাছে হার দিয়ে শুরু করেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—আনচেলত্তির ব্রাজিল কি সেই পথ অনুসরণ করতে পারবে, নাকি প্রথম ম্যাচের এই সতর্কবার্তাই ভবিষ্যতের বড় বিপদের ইঙ্গিত?
পরবর্তী ম্যাচেই মিলবে সেই উত্তর। আর সেখানেই হয়তো ঠিক হয়ে যাবে, এই ব্রাজিল সত্যিই শিরোপার লড়াইয়ে আছে, নাকি শুধুই অতীতের গৌরবের ভার বহন করছে।
]]>
সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে কি সত্যিই শুরু হল এক নতুন যুগ?
যে মানুষটি একসময় অনলাইন পেমেন্ট, বৈদ্যুতিক গাড়ি আর মহাকাশ প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন হিসেবে দেখতেন, সেই এলন মাস্ক (Elon Musk) এখন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছুঁয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে।
এই খবর সামনে আসতেই প্রযুক্তি, ব্যবসা এবং বিনিয়োগের দুনিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। কারণ, ইতিহাসে এর আগে কেউই ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যক্তিগত সম্পদের মালিক হতে পারেননি।
অর্থনীতির দীর্ঘ ইতিহাসে সম্পদের বিবর্তন যেন এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে।
১৭১৯ সালে জন ল (John Law)-কে বিশ্বের প্রথম মিলিয়নিয়ার হিসেবে দেখা হয়েছিল। সেই সময়ে ইউরোপের আর্থিক ব্যবস্থায় তাঁর উত্থান ছিল এক বিরল ঘটনা।
এরপর প্রায় দুই শতাব্দী পরে, ১৯১৬ সালে জন ডি. রকফেলার (John D. Rockefeller) বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। মার্কিন তেল শিল্পে তাঁর আধিপত্য তাঁকে সেই উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
আর ২০২৬ সালে এসে সেই তালিকায় যুক্ত হল নতুন নাম— এলন মাস্ক (Elon Musk)।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, তিনজনের সম্পদের উৎস ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জন ল-এর উত্থান এসেছিল আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে। রকফেলার গড়েছিলেন তেল সাম্রাজ্য। আর মাস্কের সম্পদের মূল ভিত্তি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা এবং ভবিষ্যতমুখী উদ্ভাবন।
মাস্কের যাত্রাপথও কম নাটকীয় নয়।
১৯৯৯ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম মিলিয়নিয়ার হন। তখনও তিনি বিশ্বমঞ্চের পরিচিত মুখ নন। পরে একের পর এক প্রযুক্তি উদ্যোগ তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
২০১২ সালে, ৪১ বছর বয়সে তিনি বিলিয়নিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টেসলা (Tesla), স্পেসএক্স (SpaceX), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে তাঁর আগ্রাসী বিনিয়োগই সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও কম নয়।
বিশ্বজুড়ে অনেক অর্থনীতিবিদ প্রশ্ন তুলছেন— একজন ব্যক্তির হাতে এত বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়া কি সুস্থ অর্থনীতির লক্ষণ? সম্পদের এই বৈষম্য ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অন্যদিকে মাস্ক-সমর্থকদের দাবি, তিনি শুধুমাত্র ব্যবসায়ী নন; বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের অন্যতম মুখ। বৈদ্যুতিক গাড়ির জনপ্রিয়তা, বেসরকারি মহাকাশ গবেষণার বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির পেছনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই খবর ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন এটি আধুনিক পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য, আবার কেউ দেখছেন বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্যের প্রতীক হিসেবে।

তবে একটা বিষয় স্পষ্ট— মিলিয়নিয়ার থেকে বিলিয়নিয়ার, আর সেখান থেকে ট্রিলিয়নিয়ার। এই যাত্রা শুধু একজন মানুষের সম্পদের গল্প নয়, বরং গত তিন শতাব্দীতে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং ব্যবসার বদলে যাওয়া মানচিত্রের প্রতিচ্ছবি।
এখন প্রশ্ন একটাই— এলন মাস্কের পর বিশ্বের দ্বিতীয় ট্রিলিয়নিয়ার কে হবেন, আর সেই দৌড় শুরু হয়ে গেছে কি ইতিমধ্যেই?
]]>