Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/kolkatas12857/public_html/index.php:21) in /home/kolkatas12857/public_html/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com Kolkata Saradin : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News Wed, 12 Aug 2026 17:08:48 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1 https://kolkatasaradin.com/wp-content/uploads/2026/06/cropped-FB_IMG_1782608202564-32x32.jpg Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com 32 32 ৩৫০০ বছরের রহস্য ফাঁস! সিনাই মরুভূমির বালির নিচে মিলল মিশরের হারানো সামরিক দুর্গ, চাঞ্চল্য প্রত্নতত্ত্ব মহলে https://kolkatasaradin.com/2026/08/16/3500-year-old-egyptian-fortress-discovered-sinai/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/16/3500-year-old-egyptian-fortress-discovered-sinai/#respond Sun, 16 Aug 2026 02:33:16 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=29801 উত্তর সিনাইয়ের (North Sinai) মরুভূমিতে আবিষ্কৃত প্রাচীন দুর্গে মিলল ১১টি প্রতিরক্ষা টাওয়ার, সৈন্যদের আবাসন, অগ্নিকুণ্ড, এমনকি হাজার হাজার বছর আগের ডো-এর টুকরোও। থুতমোস প্রথমের (Thutmose I) সাম্রাজ্য বিস্তারের নতুন প্রমাণ মিলছে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কায়রো/উত্তর সিনাই: ইতিহাসের বালির নিচে চাপা পড়ে থাকা আরেকটি বিস্ময় যেন হঠাৎ করেই উঠে এল পৃথিবীর সামনে। প্রায় ৩,৫০০ বছর ধরে মরুভূমির বুকের নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল সামরিক দুর্গের সন্ধান মিলেছে উত্তর সিনাই (North Sinai)-এ। এই আবিষ্কার শুধু একটি পুরনো স্থাপত্যের খোঁজ নয়, বরং প্রাচীন মিশর (Egypt) কীভাবে নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করত, সেনাবাহিনী পরিচালনা করত এবং সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল—সেই ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে।

 

প্রত্নতত্ত্ববিদদের দাবি, দুর্গটি এতটাই ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে যে তার ভিতরে এখনও পাওয়া যাচ্ছে অগ্নিকুণ্ডের চিহ্ন, রান্নার ব্যবহৃত চুলা, এমনকি হাজার হাজার বছর আগের ফসিলাইজড ডো-এর একটি অংশও। এমন আবিষ্কার অত্যন্ত বিরল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

 

‘হরুসের পথ’-এর ধারে লুকিয়ে ছিল দুর্গ

নতুন এই দুর্গটি আবিষ্কৃত হয়েছে টেল এল-খারুবারা (Tell El-Kharouba) এলাকায়। এটি প্রাচীন ‘হরুসের পথ’ (Way of Horus) নামে পরিচিত ঐতিহাসিক সামরিক সড়কের ধারে অবস্থিত। এই পথ একসময় নীল নদের বদ্বীপকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করত এবং বহু শতাব্দী ধরে মিশরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হত।

গবেষকদের মতে, এই পথ দিয়েই সৈন্য চলাচল, অস্ত্র পরিবহণ এবং সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো। এর আগে এই একই রুটের ধারে একাধিক দুর্গের সন্ধান মিললেও, নতুন আবিষ্কারটি আকার ও সংরক্ষণের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

থুতমোস প্রথমের আমলের নির্মাণ?

প্রাথমিক গবেষণায় প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, দুর্গটি নির্মিত হয়েছিল থুতমোস প্রথম (Thutmose I)-এর শাসনকালে। তিনিই সেই ফেরাউন, যিনি মিশরের সাম্রাজ্যকে বর্তমান সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অংশ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কৌশলগত জায়গায় দুর্গ নির্মাণ মোটেও কাকতালীয় নয়। বরং এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সাম্রাজ্য বিস্তারের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছিল প্রাচীন মিশর।

 

দুই একর জুড়ে সামরিক ঘাঁটি

প্রায় দুই একর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই দুর্গের পরিকল্পনা অত্যন্ত সুসংগঠিত। খননের সময় পাওয়া গেছে আবাসিক অংশ, স্টোররুম, খোলা উঠোন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থার চিহ্ন।

স্থাপত্য বিশ্লেষণ করে গবেষকদের অনুমান, এখানে একসঙ্গে ৪০০ থেকে ৭০০ জন সৈন্য অবস্থান করতে পারতেন। গড় হিসেবে প্রায় ৫০০ জন সেনা এখানে মোতায়েন ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

১১টি প্রতিরক্ষা টাওয়ারে নজরদারি

দুর্গের চারপাশে এখন পর্যন্ত ১১টি প্রতিরক্ষামূলক টাওয়ার শনাক্ত করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। এতগুলি টাওয়ার একসঙ্গে থাকা থেকে বোঝা যায়, এই দুর্গ ছিল সীমান্ত প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

 

টাওয়ারগুলির ভিত্তিতে পাওয়া গেছে বিশেষ ধরনের মাটির পাত্র। কয়েকটিতে খোদাই করা রয়েছে থুতমোস প্রথমের নাম। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে এই ধরনের ভিত্তি-উপহার প্রাচীন মিশরে প্রচলিত ছিল।

 

জিগজ্যাগ প্রাচীরের পিছনে ছিল বৈজ্ঞানিক ভাবনা

 

দুর্গের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলির মধ্যে একটি হল এর জিগজ্যাগ আকৃতির প্রাচীর। উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত এই দেয়াল পশ্চিম অংশকে আলাদা করেছে, যেখানে সৈন্যদের আবাসন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই নকশা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। জিগজ্যাগ কাঠামো প্রাচীরকে আরও শক্তিশালী করত এবং মরুভূমির প্রবল বাতাস ও বালির ক্ষয় অনেকটাই কমিয়ে দিত।

 

চুলা আর ডো-এর টুকরো বলছে অন্য গল্প

 

দুর্গের বাইরের অংশে আবিষ্কৃত হয়েছে একাধিক ছোট চুলা। এগুলি সম্ভবত সৈন্যদের দৈনন্দিন রান্নাবান্না বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হত।

 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এই চুলাগুলির কাছেই পাওয়া গেছে হাজার হাজার বছর আগের ফসিলাইজড ডো-এর একটি অংশ। অর্থাৎ, দুর্গে বসবাসকারী সৈন্যদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র আজও মাটির নিচে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

এজিয়ান আগ্নেয়শিলার সন্ধান

 

খননের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। দুর্গের ভিতরে পাওয়া গেছে এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জের আগ্নেয়শিলা।

 

গবেষকদের ধারণা, এই শিলা হয়তো নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয়েছিল অথবা সমুদ্রপথে এখানে আনা হয়েছিল। সেই কারণেই এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা আশপাশে কোনও প্রাচীন বন্দর ছিল কি না, তারও সন্ধান শুরু করেছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের কী মত?

 

প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ জেমস হফমায়ার (James Hoffmeier) জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত দুর্গ এবং আগে খনন করা টেল এল-বোর্গ (Tell el-Borg)-এর দুর্গ একই সামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।

 

তাঁর মতে, এই দুর্গগুলিই প্রায় চার শতাব্দী ধরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে মিশরের প্রভাব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

 

অন্যদিকে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়, বার্মিংহাম (University of Alabama at Birmingham)-এর মিশরবিদ গ্রেগরি মামফোর্ড (Gregory Mumford) বলেছেন, এই আবিষ্কার উত্তর-পূর্ব সিনাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কীভাবে মিশর তার পূর্ব সীমান্ত রক্ষা করত, সে সম্পর্কেও আরও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যাবে।

 

ইতিহাসের নতুন দরজা খুলে গেল?

 

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই দুর্গ শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়। এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতার পরিকল্পনা, প্রযুক্তি, স্থাপত্য এবং সামরিক দক্ষতার জীবন্ত সাক্ষী।

খননকাজ এখনও চলছে। ফলে আগামী দিনে এখান থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকরা।

হাজার হাজার বছর ধরে মরুভূমির বালির নিচে চাপা থাকা এই দুর্গ কি প্রাচীন মিশরের আরও অজানা ইতিহাস সামনে আনবে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্বের প্রত্নতত্ত্ব মহল।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/16/3500-year-old-egyptian-fortress-discovered-sinai/feed/ 0
নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যে জিরো টলারেন্স! বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, প্রতিটি বিধানসভায় ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:10:11 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30246 ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবাই পরিষেবা পাবেন, বিধায়কদের সেবাকেন্দ্রে থাকবে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির ছবি; আপত্তিকর পোস্টে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের অভিযোগে এবার সরাসরি কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী [Suvendu Adhikari]-র। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর ঘোষণা—নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য বা আপত্তিকর পোস্ট করলে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড়া হবে না। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক কিংবা কোনও দলের নেতা—আইনের আওতায় সবাই সমান।

 

শুধু সতর্কবার্তাতেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়কদের একটি করে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি। অর্থাৎ নেতাজির নামকে কেন্দ্র করে একদিকে কড়া আইনি অবস্থান, অন্যদিকে জনপরিষেবার নতুন মডেল—দুই বার্তাই একসঙ্গে দিল রাজ্য সরকার।

 

প্রতিটি বিধানসভায় ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে অনেক বিধায়কেরই নিজস্ব দফতর বা পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। এবার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় একটি করে সেবাকেন্দ্র চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সেখানে এলাকার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যাঁরা সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি যাঁরা ভোট দেননি, তাঁরাও সমানভাবে পরিষেবা পাওয়ার অধিকারী হবেন।

এই সেবাকেন্দ্রগুলির নাম হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র [Netaji Subhas Chandra Bose Seva Kendra]।

শুধু নামেই নয়, সেবাকেন্দ্রগুলির সঙ্গে নেতাজির স্মৃতিকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে বিধায়কদের কাছে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির ছবি পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। সেই ছবি সেবাকেন্দ্রে রাখার নির্দেশ থাকবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই পরিষেবা কেন্দ্রের কাজ নির্দিষ্টভাবে চালু করতে পারলে মাসিক ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

 

নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যে এবার কড়া বার্তা

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টির দিকে নজর রাখছিল। উত্তরবঙ্গের কয়েকজন বিধায়কও এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা [Siddhinath Gupta]-কে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা পোস্টের ক্ষেত্রে পুলিশ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে।

তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম—কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয়ই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

অনন্ত মহারাজকে ঘিরে বিতর্ক

এই বিতর্কের সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে অনন্ত মহারাজ [Ananta Maharaj]-এর নাম। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজবংশী নেতা অনন্ত মহারাজ নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ। তবে ওই ভিডিওগুলির বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন—এমন বিষয়ও মাথায় রাখা জরুরি।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, নেতাজির দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।

 

বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তোলে, বিজেপির সাংসদ হয়েও এমন মন্তব্যের অভিযোগ ওঠার পর দলের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?

 

এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্য নতুন মাত্রা পেল।

 

‘দল দেখে আইন চলবে না’

 

কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম করে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াতে চান না বলেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যে-ই আপত্তিকর পোস্ট করে থাকুন না কেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

 

এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি কোনও রাজনৈতিক দলের মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়কও হন, তাহলেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট করা ব্যক্তিদের প্রয়োজনে পোস্ট সরিয়ে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে পোস্ট মুছে ফেললেই আইনি পদক্ষেপ থেকে অব্যাহতি মিলবে না—এমন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

 

তদন্ত ও আইনি ধারায় পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত পুলিশই নেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকার সেই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না বলেও দাবি তাঁর।

‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা

নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে কঠোর, এদিন বারবার সেটিই তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—নেতাজি শুধু বাংলার নন, গোটা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

রাজনৈতিক মহলের নজর তাই এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া পোস্ট বা ভিডিওগুলির ভিত্তিতে কোনও মামলা বা গ্রেফতারি হয় কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

 

প্রাক্তন বিধায়কদের জন্যও ঘোষণা

নেতাজি বিতর্কের পাশাপাশি এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এতদিন প্রতি মাসে চিকিৎসা খরচ বাবদ ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হত। এবার সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলে একদিকে বর্তমান বিধায়কদের জন্য নতুন সেবাকেন্দ্রের পরিকল্পনা, অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি—বিধানসভায় এদিন একাধিক প্রশাসনিক ঘোষণাও সামনে এসেছে।

 

আদ্যাপীঠে পুজো, গোসেবাও

এর আগে বুধবার সকালে আদ্যাপীঠ [Adyapeath Temple, Kolkata]-এ যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মন্দিরে তাঁকে স্বাগত জানান আদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই।

মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি গোশালায় গিয়ে গোসেবাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক ব্যস্ততার দিনের শুরুতেই ধর্মীয় পরিসরে তাঁর এই কর্মসূচিও ছিল নজরকাড়া।

 

সব মিলিয়ে বুধবারের দিনটি রাজ্য রাজনীতিতে একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা নিঃসন্দেহে নেতাজিকে ঘিরে।

একদিকে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁর নামে সেবাকেন্দ্র তৈরির ঘোষণা, অন্যদিকে নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে দল-মত নির্বিশেষে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি।

এবার আসল নজর—নেতাজিকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের অভিযোগে পুলিশ বাস্তবে কতটা কঠোর পদক্ষেপ নেয়, আর ঘোষিত ‘নেতাজি সেবাকেন্দ্র’ কত দ্রুত রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভায় বাস্তব রূপ পায়।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/suvendu-adhikari-netaji-seva-kendra/feed/ 0
Neha Bora : নেহা বোরার বক্তব্যে হইচই! কলকাতায় ISI-তে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, পাল্টা উঠল ‘ISI বিল বাতিল করো’ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:00:47 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30242 বরানগরের ISI-তে বক্তব্য রাখতে উঠে বিক্ষোভের মুখে নেহা বোরা, ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’ স্লোগান; প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই বক্তব্য শেষ করলেন তিনি

সুমনা মিশ্র। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নেহা বোরা, আর ঠিক তখনই হল হইচই! কলকাতার বরানগর ISI [Indian Statistical Institute, Baranagar]-তে বক্তব্য চলাকালীন একদল ছাত্রছাত্রীর প্রতিবাদে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের তরফে ওঠে ‘জয় শ্রীরাম’, ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’ এবং ‘চীনের দালাল দূর হটো’—এর মতো স্লোগান।

 

তবে সেই প্রতিবাদে থামেননি নেহা। মঞ্চে নিজের বক্তব্য চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত বক্তৃতা সম্পূর্ণ করেন। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষা ও রাজনীতি—দুই মহলেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

 

দিল্লির পর কলকাতাতেও নেহাকে ঘিরে বিক্ষোভ

নেহা বোরা [Neha Bora] দিল্লির যন্তর মন্তর [Jantar Mantar]-এ NEET পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান [Dharmendra Pradhan]-এর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন বলে আয়োজকদের দাবি।

সেই আন্দোলনের পর এবার কলকাতায় তাঁর বক্তব্য ঘিরে প্রকাশ্যে এল প্রতিবাদের ছবি।

বরানগরের ISI-র ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণে এদিন বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন নেহা। আর তাঁর বক্তৃতা শুরু হতেই একদল ছাত্রছাত্রী প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে ছিল ‘Students of India Reject’ লেখা প্ল্যাকার্ড বলে আয়োজকদের দাবি।

 

স্লোগানে উত্তপ্ত সভাস্থল

বিক্ষোভকারীরা নেহা বোরার বক্তব্যের বিরোধিতা করে একাধিক স্লোগান দেন। ‘গো ব্যাক নেহা বোরা’-র পাশাপাশি ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘চীনের দালাল দূর হটো’ স্লোগানও শোনা যায়।

 

এর ফলে কিছু সময়ের জন্য সভাস্থলের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে নেহা নিজের বক্তব্য থামাননি।

 

বিক্ষোভকারীদের প্রতিবাদকে কার্যত উপেক্ষা করেই তিনি বক্তব্য চালিয়ে যান এবং নির্ধারিত বক্তব্য শেষ করেন।

 

ISI বিল নিয়ে নেহার তীব্র আপত্তি

 

নেহার কলকাতা সফরের মূল বিষয় ছিল অবশ্য অন্য। কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে ISI Bill আনতে চলেছে—এই প্রেক্ষাপটে বরানগরের ছাত্রছাত্রীদের সামনে সেই প্রস্তাবিত বিল নিয়ে সরব হন তিনি।

 

নেহার অভিযোগ, এই বিল শিক্ষাক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। তাঁর দাবি, শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রভাব বাড়ানো উচিত নয়।

 

তিনি প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একইসঙ্গে ISI-র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তাও দেন।

 

‘মহলা নবীশের অপমান মানছি না’

নেহার বক্তব্যের পর ISI বরানগর চত্বরে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ‘ISI বিল বাতিল করো’ স্লোগান ওঠে বলে আয়োজকদের দাবি।

এর পাশাপাশি উঠে আসে—‘মহলা নবীশের অপমান মানছি না’—এই স্লোগানও।

অর্থাৎ, একদিকে নেহা বোরার বক্তব্য বানচাল করার চেষ্টা, অন্যদিকে প্রস্তাবিত ISI বিলের বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদ—একই মঞ্চে তৈরি হল দুই বিপরীত সুর।

ঘটনাটি ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির আন্দোলনের পর কলকাতাতেও কি নেহা বোরা আরও বড় ছাত্র আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠতে চলেছেন? আর ISI বিল নিয়ে এই বিতর্কই বা আগামী দিনে কোন পথে যাবে?

কলকাতার মাটিতে নেহাকে ঘিরে যে প্রতিবাদের ছবি দেখা গেল, সেটাই কি বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের ইঙ্গিত—নাকি এখানেই থেমে যাবে এই উত্তাপ?

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/neha-bora-kolkata-protest-isi/feed/ 0
মেয়েকে স্কুলে দিয়ে নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন বধূ, কেষ্টপুরের পুকুরে মর্মান্তিক পরিণতি https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/#respond Thu, 13 Aug 2026 02:00:44 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30234 ড্রাইভিং শেখার প্রস্তুতি নিতে বেরিয়ে আর ফেরা হল না সুমিত্রার, প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পুকুর থেকে উদ্ধার গাড়ি ও দেহ

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই। মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন সুমিত্রা দাস [Sumitra Das]। তারপর নিজের স্কুটি রেখে স্বামীর কেনা নতুন গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ড্রাইভিং শেখা, আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই যাত্রা পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়।

 

কেষ্টপুর [Kestopur]-এর একটি পুকুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি পড়ে যায়। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন সুমিত্রা। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকল ও বাগুইআটি থানার পুলিশ [Baguiati Police Station] গাড়িটি জল থেকে তুলতে সক্ষম হয়। তবে ততক্ষণে সব শেষ।

 

মেয়েকে স্কুলে দিয়ে, নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন [Prafulla Kanan, Kestopur] এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে দিয়ে আসেন।

 

এরপর স্কুটি বাড়িতে রেখে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস [Krishnendu Das]-এর কেনা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। গাড়ি চালানো শেখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই লক্ষ্যেই নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

পুলিশের দাবি, সুমিত্রার এখনও ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়নি। আগামী ২২ অগস্ট তাঁর ড্রাইভিং পরীক্ষার কথা ছিল। তার আগে গাড়ি চালানোর অভ্যাস করতেই এ দিন সকালে বেরিয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু আচমকাই ঘটে বিপত্তি।

 

ব্রেকের বদলে অ্যাক্সিলারেটরে পা?

 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনওভাবে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন সুমিত্রা। সম্ভবত ব্রেকের পরিবর্তে তাঁর পা অ্যাক্সিলারেটরে চলে যাওয়ায় গাড়িটি আচমকা এগিয়ে যায়।

 

এরপর রাস্তার ধার থেকে গাড়িটি পুকুরের দিকে চলে গিয়ে জলে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল এবং বাগুইআটি থানার পুলিশ। পুকুরের জলে গাড়িটি কোথায় রয়েছে, তা শনাক্ত করার পর শুরু হয় উদ্ধার অভিযান।

 

দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার

 

জলমগ্ন গাড়িটিকে পুকুরের মাঝামাঝি অংশ থেকে তুলতে বেশ বেগ পেতে হয় উদ্ধারকারী দলকে। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর গাড়িটি জল থেকে বের করা সম্ভব হয়।

 

তারপরই সামনে আসে মর্মান্তিক দৃশ্য। গাড়ির ভিতরে পাওয়া যায় সুমিত্রার দেহ।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির ভিতরের অবস্থান দেখে মনে হয়েছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন ওই মহিলা। উদ্ধার করার সময় তাঁর মুখ পিছনের দরজার দিকের দিকে ছিল এবং পা স্টিয়ারিংয়ের দিকে ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

 

তবে এই অবস্থান কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

 

২২ অগস্টের পরীক্ষার আগেই থেমে গেল সব

 

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। মাত্র কয়েকদিন পরেই ছিল পরীক্ষা। তার আগেই নতুন গাড়ি নিয়ে শেখার সেই চেষ্টা এমন মর্মান্তিক পরিণতি নেবে, তা কেউ ভাবেননি।

একটি নতুন গাড়ি, লাইসেন্স পাওয়ার প্রস্তুতি এবং কয়েক মিনিটের একটি দুর্ঘটনা—সব মিলিয়ে কেষ্টপুরের এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে যে মা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন, তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না—কেষ্টপুরের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এখন একটাই প্রশ্ন, ঠিক কোন মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল গাড়িটি?

 

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kestopur-car-accident-woman-dies/feed/ 0
ওবিসি সংরক্ষণে বড় ধাক্কা! মমতার আমলের সমস্ত OBC সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/#respond Thu, 13 Aug 2026 01:50:11 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30230 মমতা আমলের সংশোধিত ব্যবস্থায় জারি শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, সংরক্ষণ সুবিধা নিয়ে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা

প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: এক রায়ে বদলে গেল পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ছবিটাই! কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)-এর ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে OBC-A ও OBC-B—এই পৃথক শ্রেণিবিভাগ আর কার্যকর থাকছে না। সংশোধিত ব্যবস্থায় জারি হওয়া শংসাপত্রগুলির বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়ল। বুধবারের এই নির্দেশের পর চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে জোরালো অনিশ্চয়তা।

 

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা (Justice Rajasekhar Mantha) এবং বিচারপতি অনুজ সিংহ (Justice Anuj Singh)-এর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে, রাজ্যে আর OBC-A এবং OBC-B নামে পৃথক দুই শ্রেণির কাঠামো থাকছে না। আগের শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিতে জারি হওয়া সংশোধিত শংসাপত্রগুলি তাদের আইনি ভিত্তি হারিয়েছে বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।

 

এক ধাক্কায় বদলে গেল সংরক্ষণের হিসাব

 

এই রায়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের উপর, যাঁরা সংশোধিত নিয়মে OBC শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র আর সংরক্ষণের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ফলে তাঁদের সাধারণ বা আনরিজার্ভড শ্রেণির হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরির আবেদন করেছেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন কিংবা ভবিষ্যতের সুযোগের জন্য OBC সার্টিফিকেটের উপর নির্ভর করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এখন কী হবে?

 

এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে বড় সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে।

 

কোথা থেকে শুরু এই OBC বিতর্ক?

 

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Reservation) নিয়ে আইনি টানাপোড়েন অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের পর রাজ্যের OBC তালিকাকে মূলত OBC-A এবং OBC-B—দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং সম্প্রসারণের পদ্ধতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও মামলা সামনে আসে।

 

২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ৬৬টি সম্প্রদায়কে OBC তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে সংশোধিত তালিকা তৈরির কথাও বলা হয়। পরে সেই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ হলেও হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকে।

 

এরপর রাজ্যের তরফে নতুন সমীক্ষা চালিয়ে OBC তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু সেই সমীক্ষার পদ্ধতিও আদালতের নজরে আসে। প্রায় ২,৫০০ নমুনার ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে OBC তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

চাকরি ও পড়াশোনায় কী প্রভাব?

 

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের মধ্যে। কারণ, OBC সংরক্ষণ শুধুমাত্র একটি শংসাপত্রের বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি এবং বিভিন্ন সুযোগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণের অধিকার।

 

যাঁরা সংশোধিত নিয়মে পাওয়া শংসাপত্রের উপর নির্ভর করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোন প্রক্রিয়া কীভাবে চলবে, ইতিমধ্যে আবেদন করা প্রার্থী বা ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা হবে—তা নিয়ে প্রশাসনিক স্পষ্টীকরণের অপেক্ষা থাকবে।

 

অন্যদিকে রাজনৈতিক দিক থেকেও এই রায় যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকারের আমলে তৈরি OBC কাঠামো নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক চলছিল। এবার আদালতের নতুন নির্দেশে সেই বিতর্ক আরও একবার রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এল।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এটি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়। তাই আদালতের রায়ের পর প্রশাসন কী নির্দেশিকা দেয়, সেটিই এখন নজরে।

OBC-A ও OBC-B বিভাজন যখন আর থাকছে না, সংশোধিত শংসাপত্রের ভবিষ্যৎও যখন অনিশ্চিত—তখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, সংরক্ষণের সুবিধার অপেক্ষায় থাকা পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এবার পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

 

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/west-bengal-obc-reservation-verdict/feed/ 0
২৪ ঘণ্টায় ফের গেরুয়া! অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের টিকিট কাউন্টার ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/academy-fine-arts-saffron-colour-row/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/academy-fine-arts-saffron-colour-row/#respond Thu, 13 Aug 2026 01:45:59 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30226 বামপন্থী শিল্পী-নাট্যকর্মীরা সাদা রং করার পরই ফের গেরুয়া রঙে রাঙানো হল টিকিট কাউন্টার, তুলিতে পাল্টা জবাব দুই বিজেপি বিধায়কের

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা: মাত্র ২৪ ঘণ্টা! মঙ্গলবার যে টিকিট কাউন্টার সাদা রঙে ফিরেছিল, বুধবার বিকেলেই সেই কাউন্টার ফের গেরুয়া। আর এই রং বদলকে ঘিরেই অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস (Academy of Fine Arts), কলকাতা চত্বরে শুরু হল নতুন রাজনৈতিক তরজা।

 

একদিন আগে বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও নাট্যকর্মীদের একাংশ উদ্যোগ নিয়ে অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টারের গেরুয়া রং মুছে সাদা করে দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিক রঙের এমন সংযোগ তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।

 

কিন্তু সেই রং বেশিক্ষণ টিকল না। বুধবার বিকেলে বিজেপির দুই বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ [Rudranil Ghosh] এবং সন্তু পান [Santu Pan] বিজেপি-সমর্থক নাট্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফের হাতে তুলে নিলেন তুলি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাদা কাউন্টার আবার গেরুয়া হয়ে গেল।

 

রং নিয়ে শুরু, বিতর্ক এখন রাজনীতি ঘিরে

পুরো ঘটনার সূত্রপাত ১২ জুলাই। ওই সময় অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টারের রং গেরুয়া করা হয়েছিল। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শিল্পী ও নাট্যজগতের একাংশের মধ্যে আপত্তি তৈরি হয়।

 

বামপন্থী নাট্য ব্যক্তিত্বদের একাংশ এই রং পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য [Samik Bhattacharya]-কে চিঠিও দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, কোনও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি যেন দলীয় রাজনীতির রঙে নির্ধারিত না হয়।

 

সেই সময় শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, যেখানে-সেখানে রং করে দেওয়া বিজেপির কর্মসূচি নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, এমন ঘটনা যদি দলের কেউ করে থাকেন, তা ভুল এবং বিষয়টি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কিন্তু বিতর্ক সেখানেই থামেনি।

 

সাদা করার পরেই পাল্টা গেরুয়া

মঙ্গলবার বামপন্থী বুদ্ধিজীবী ও নাট্যকর্মীদের একাংশ নিজেরাই অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টার সাদা রঙে রাঙিয়ে দেন। তাঁদের দাবি ছিল, আগের গেরুয়া রং সরিয়ে সাংস্কৃতিক পরিসরের নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই তাঁদের উদ্দেশ্য।

 

এর ঠিক পরের দিনই এল পাল্টা ছবি।

 

বুধবার শিবপুর [Shibpur]-এর বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ এবং আরামবাগ [Arambagh]-এর বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান অ্যাকাডেমি চত্বরে গিয়ে নিজেরাই গেরুয়া রং করেন। টিকিট কাউন্টারের ভিতর ও বাইরেও রাখা হয় ভারত মাতার ছবি।

 

ফলে মাত্র একদিনের ব্যবধানে অ্যাকাডেমির সেই কাউন্টার কার্যত হয়ে উঠল রাজনৈতিক প্রতীকী লড়াইয়ের কেন্দ্র।

 

রুদ্রনীলের বক্তব্যে আরও তীব্র হল তরজা

 

অ্যাকাডেমি চত্বরে দাঁড়িয়ে রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, তিনি কোনওভাবেই প্রতিষ্ঠানটির রাজনীতিকরণ চান না। তাঁর বক্তব্যের যুক্তি ছিল, অতীতে টিকিট কাউন্টারে গেরুয়া ও চকোলেট রঙের ব্যবহার ছিল।

 

পুরনো কিছু ছবি দেখিয়ে তাঁর দাবি, বর্তমানে যে রং নিয়ে এত বিতর্ক হচ্ছে, সেটি একেবারে নতুন কোনও বিষয় নয়।

 

তবে এখানেই থামেননি বিজেপি বিধায়ক। অ্যাকাডেমির ওয়ার্কিং কমিটি ও ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নানা সমস্যা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বামপন্থী মহলের আপত্তি নেই।

 

রুদ্রনীলের বার্তা স্পষ্ট—“যে রং ছিল, সেই রংই হবে।”

 

এবার নজরে রবীন্দ্রসদন-নন্দন চত্বর

 

অ্যাকাডেমির রং-বিতর্কের মধ্যেই আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। রবীন্দ্রসদন-নন্দন-শিশির মঞ্চ [Rabindra Sadan-Nandan-Shishir Mancha] চত্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের [Mamata Banerjee] নাম থাকা একাধিক ফলকে গাঢ় গেরুয়া রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে নন্দনের সামনে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর [Jyoti Basu] নামাঙ্কিত ফলকে এখনও সেই ধরনের রং করা হয়নি।

সব মিলিয়ে, একটি টিকিট কাউন্টারের রং বদলের ঘটনাই এখন কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিসরে বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের চেহারা নিয়েছে। শিল্প, সংস্কৃতি ও রাজনীতি—এই তিনের সীমারেখা কোথায়, সেই প্রশ্নই ফের সামনে।

আজ গেরুয়া, কাল সাদা, আবার গেরুয়া—অ্যাকাডেমির এই রং-যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে?

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/academy-fine-arts-saffron-colour-row/feed/ 0
বিধানসভায় পাশ হল ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংশোধনী বিল, ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ল কলকাতা ও হাওড়ার https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/#respond Thu, 13 Aug 2026 01:36:26 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30238 সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল কলকাতা ও হাওড়া- রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সংশোধনী বিল। পাশাপাশি এদিন বিল পেশের সময় হাওড়ার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলেও পূর্বতন সরকারকে তুলোধোনা করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসকে আইনি বৈধতা দিতে আজ, বুধবার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল রাজ্য বিধানসভা। এই অধিবেশনেই কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন সংশোধনী বিল, ২০২৬ এবং হাওড়া মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দ্বিতীয় সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাশ হয়ে গেল বিধানসভায়।

রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই দুই বিল অনুমোদন করেছিল। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হবে ২০৯। অন্যদিকে হাওড়ায় ৫০টি ওয়ার্ডের পরিবর্তে হবে ৬৮টি ওয়ার্ড। অর্থাৎ দুই পুরনিগম মিলিয়ে মোট ৮৩টি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হতে চলেছে।

হাওড়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পুরনির্বাচনের প্রশ্নও ফের সামনে এসেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হয়নি। ফলে নতুন ওয়ার্ড কাঠামো এবং পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করার পথ তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

যদিও এই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কীসের ভিত্তিতে? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট জবাব, ‘আমরা কোনও বাউন্ডারি টেনে লোকসংখ্যা নির্ধারণ করে নতুন মানচিত্র বানাচ্ছি না। এটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। সেই কাজটা করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।’ এরপরেও অভিযোগ এবং দাবি জানানোর সুযোগ জনগনের থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। দ্য কলকাতা কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ পেশের আগে এদিন আলোচনায় অংশ নেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সজল ঘোষ। ফিরহাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার তো আরও ৬ মাস মেয়াদ ছিল। তা শেষ হওয়ার আগেই আপনি পালালেন কেন? পুরসভা একটা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি। মানুষকে পরিষেবা আপনাকে দিয়ে যেতেই হবে। কিন্তু তা না করে আপনি পালিয়ে গেলেন।’ পালটা ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও কীসের ভিত্তিতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি নীতিগত ভাবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছি না। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কীসের নীতিতে হচ্ছে?’

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র আরও জানান, পুরো বিষয়টি আমলাদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে, ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে না ছেড়ে দিয়ে জন প্রতিনিধিদের যুক্ত করে সর্বদল বৈঠক করে করলে আরও ভাল হত। এর পালটা জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘হাউসে এই বিল এনে আসন সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আজ আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। এর পরের কাজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের।’ শুধু তাই নয়, দুটো সর্বদল বৈঠকও যে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/13/kolkata-howrah-ward-number-increase-bill/feed/ 0
Sundarban Tiger Death: ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে আচমকাই মৃত্যু ১৩ বছরের বাঘিনীর, শোকে সুন্দরবন https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/jharkhali-tiger-death/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/jharkhali-tiger-death/#respond Wed, 12 Aug 2026 04:16:03 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30203 চুলকাটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার, দীর্ঘ চিকিৎসার পর ঝড়খালিতে ঠাঁই—হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বাঘিনীর

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

ঝড়খালি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একের পর এক লড়াই পেরিয়েও শেষরক্ষা হল না। সুন্দরবনের [Sundarbans] জঙ্গল থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সেই ১৩ বছরের বাঘিনীর মৃত্যু হল ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে [Jharkhali Rescue Centre]। সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

 

বন দফতর সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবনের চুলকাটি জঙ্গল [Chultakati Forest] থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাঘিনীটিকে উদ্ধার করেছিলেন বনকর্মীরা। শারীরিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও তার যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছিল।

 

উদ্ধারের পর শুরু হয় চিকিৎসা। প্রথমে বাঘিনীটিকে নিয়ে যাওয়া হয় আলিপুর চিড়িয়াখানায় [Alipore Zoo]। সেখানে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে চলে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাকে ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়।

 

সেখানেই গত কয়েক মাস ধরে ছিল বাঘিনীটি। কিন্তু সোমবার সকালে আচমকাই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন রেসকিউ সেন্টারের কর্মীরা এবং চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত আর সাড়া দেয়নি বাঘিনীটি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।

 

চিকিৎসা শুরু হলেও বাঁচানো গেল না

বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বাঘিনীটি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। খবর পাওয়ার পরই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলাকালীনই মৃত্যু হয় তার।

 

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিয়ম মেনে বাঘিনীর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাধারণভাবে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের [Royal Bengal Tiger] আয়ু প্রায় ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে হতে পারে। ফলে ১৩ বছর বয়সি এই বাঘিনী ইতিমধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্ক বয়সের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

 

তবে তার মৃত্যু নিছক একটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা নয়। কারণ, এই বাঘিনীকে একসময় সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দীর্ঘ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। সেই লড়াইয়ের পর ঝড়খালিতে তার মৃত্যু স্থানীয়দের কাছেও যথেষ্ট আবেগের হয়ে উঠেছে।

 

গত বছরও মৃত্যু হয়েছিল আরও এক বাঘের

 

ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে বাঘের মৃত্যু অবশ্য এই প্রথম নয়। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরও এখানে একটি বাঘের মৃত্যু হয়েছিল। সেই বাঘটির মৃত্যু হয়েছিল বয়সজনিত স্বাভাবিক কারণে।

 

তবে এবার ১৩ বছরের বাঘিনীর আকস্মিক অসুস্থতা এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে রেসকিউ সেন্টারের বন্যপ্রাণী পরিচর্যার বিষয়টিও।

 

বর্তমানে ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে একটি বাঘ রয়েছে। আগে সেখানে একটি বাঘ ও একটি বাঘিনী ছিল। বাঘিনীটির মৃত্যুর পর এখন একমাত্র বাঘটিই রয়েছে সেন্টারে।

 

শোকের ছায়া ঝড়খালিতে

 

বাঘিনীটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঝড়খালি ও সংলগ্ন এলাকায় নেমে আসে বিষাদের আবহ। সুন্দরবনের সঙ্গে এই এলাকার মানুষের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। জঙ্গলের বাঘকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের আবেগও তাই আলাদা।

চুলকাটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়ার পর চিকিৎসা, সুস্থ হয়ে ওঠা এবং ঝড়খালি রেসকিউ সেন্টারে নতুন করে আশ্রয়—দীর্ঘ এই যাত্রার পর সোমবার রাতে থেমে গেল ১৩ বছরের বাঘিনীর জীবন।

এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই নজর বন দফতরের। হঠাৎ ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বাঘিনীটি, আর তার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও শারীরিক জটিলতা ছিল কি না—উত্তর মিলবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই।

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/jharkhali-tiger-death/feed/ 0
Supreme Court TMC Account: সুপ্রিম কোর্টে মমতা-পন্থী তৃণমূলের বড় স্বস্তি, ৩ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে খরচ চালানোর অনুমতি বহাল https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/supreme-court-tmc-account-case/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/supreme-court-tmc-account-case/#respond Wed, 12 Aug 2026 02:19:15 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30207 কলকাতা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশেই সিলমোহর শীর্ষ আদালতের—চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নজর এখন স্পেশাল অফিসারের দিকে

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

নয়াদিল্লি: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস [Mamata Banerjee | TMC]। কলকাতা হাইকোর্ট [Calcutta High Court] যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, তা-ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট [Supreme Court of India]। ফলে নির্দিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দলের দৈনন্দিন এবং প্রশাসনিক খরচ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের পথ আপাতত খোলা থাকল।

 

মঙ্গলবার বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ [Justice M.M. Sundresh] এবং বিচারপতি পিবি ভারালে [Justice P.B. Varale]-র বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানিতে তৃণমূলের হয়ে দলের আর্থিক প্রয়োজন এবং অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার প্রভাব তুলে ধরেন আইনজীবী কপিল সিব্বল [Kapil Sibal]।

শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের ৯ জুলাইয়ের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি শীর্ষ আদালত।

 

কী নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট?

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় ৯ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন ও প্রশাসনিক কাজের জন্য অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।

 

সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অধিকার নিয়ে অন্য দাবিদারদের পক্ষ থেকেও আবেদন সামনে আসে।

 

মঙ্গলবার সেই মামলাতেই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়।

 

তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে কপিল সিব্বল প্রথমেই দলের মাসিক পরিচালন ব্যয়ের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় দলের কর্মীদের বেতন দেওয়া-সহ দৈনন্দিন কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

‘৬০ কোটি টাকার মামলায় ৪০০ কোটি কেন?’

 

শুনানিতে সিব্বলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি ছিল বাজেয়াপ্ত অর্থের পরিমাণ নিয়ে। তাঁর দাবি, ইডি [Enforcement Directorate] যে মামলায় প্রায় ৬০ কোটি টাকার ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’-এর কথা বলেছে, সেখানে ব্যাঙ্কে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।

 

তাঁর প্রশ্ন, অভিযোগের পরিমাণের তুলনায় এত বিপুল অর্থ কেন আটকে রাখা হবে?

 

তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকায় দলের কর্মীদের বেতন দেওয়া যাচ্ছে না এবং সাংগঠনিক কাজ চালাতেও সমস্যা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে ইডির পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়, একটি অ্যাকাউন্টেই মাত্র ২০ দিনের মধ্যে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। তদন্তের স্বার্থেই অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য।

 

স্পেশাল অফিসারের হাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

 

শুনানিতে উঠে আসে কলকাতা হাইকোর্টের নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের বিষয়টিও। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উঠলেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিকে ফের ফ্রিজ করা হয়েছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল থাকবে। তবে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যবহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের উপর।

 

অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেয়নি; বরং হাইকোর্টের নির্ধারিত প্রক্রিয়াকেই বহাল রেখেছে।

 

বিশ্বনাথ দাসের আবেদনে কী বলল শীর্ষ আদালত?

 

এদিকে ঋত ব্লকের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস [Biswanath Das]-এর আবেদনও শুনানিতে সামনে আসে। তাঁর পক্ষ থেকে দলের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দাবি তোলা হয়েছিল।

 

এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট—হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের কাছেই আবেদন জানাতে হবে। যদি দলের উপর সংশ্লিষ্ট অধিকার বা দাবির আইনি ভিত্তি থাকে, তাহলে স্পেশাল অফিসার তা খতিয়ে দেখবেন।

 

তৃণমূলের পক্ষে কপিল সিব্বলের পাশাপাশি অভিষেক মনু সিংভি [Abhishek Manu Singhvi] এবং মানেকা গুরুস্বামী [Menaka Guruswamy] সওয়াল করেন।

 

রাজনীতিতে নতুন চাপানউতোরের ইঙ্গিত?

 

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে আইনি লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখায় মমতা-পন্থী তৃণমূল আপাতত বড় স্বস্তি পেলেও, অর্থ ব্যবহারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন নির্ভর করবে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।

 

একদিকে দলের দৈনন্দিন খরচ চালানোর প্রশ্ন, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার আর্থিক লেনদেন নিয়ে আপত্তি—দুইয়ের মাঝখানে আইনি লড়াই আরও কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের পথ আপাতত বন্ধ হল না—কিন্তু সেই অর্থ বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, এবার কি সেই সিদ্ধান্তই তৃণমূলের জন্য নতুন আইনি পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে?

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/supreme-court-tmc-account-case/feed/ 0
Mamata Shyambazar Protest: হালিশহরের পর শ্যামবাজারেও প্রতিবাদের মুখে মমতা, উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/ https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/#respond Wed, 12 Aug 2026 01:50:19 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=30214 Mamata Hackled : হালিশহরের পরে এবারে শ্যামবাজারে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ফের চোর চোর স্লোগানের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

মাত্র ৪৮ ঘন্টাও হয়নি উত্তর চব্বিশ পরগনার হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে চোর চোর স্লোগান দিয়ে কাঁদা গোবর এবং ইট ছুঁড়েছিল কিছু দুষ্কৃতী। এবারে খাস কলকাতা শহরে শ্যামবাজারে কালীঘাট তৃণমূল আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সভায় হঠাৎ করেই যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর মৃত্যুদিন। সরকারের তরফে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

 

একইভাবে ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা ও নেতাজিকে অপমানের জবাব দিতে ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র তরফে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই কারণেই মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে জমায়েত করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের কর্মীরা। নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করেন মমতা। এরপর নিশানা করেন বিজেপিকে। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করা হচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।

 

তাঁর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনসহ একাধিক প্রথম সারির নেতৃত্ব। কর্মসূচি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী হাতে স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর ছবি নিয়ে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কর্মসূচি যখন পুরোদমে চলছে, ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। আচমকা একদল মানুষ জমায়েত হয়ে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভাস্থলের একেবারে কাছে চলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। অতর্কিত এই বিক্ষোভে সমাবেশস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্লোগান-প্রতি স্লোগানে পুরো শ্যামবাজার এলাকা থমথমে ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

সেখান থেকে ফেরার সময় আচমকাই হাজির হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগান তোলেন তাঁরা। রাস্তায় বসে পড়ে কেউ কেউ স্লোগান তোলেন, ‘চোর হ্যায়, চোর হ্যায়, মমতা ব্যানার্জী চোর হ্য়ায়।’ স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে। এদিকে বিজেপি কর্মীদের সাফ কথা, ‘বিপ্লবীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আমরা বাধা দিইনি। ফেরার সময় চোরকে চোর বলেছি, এতে অসুবিধার তো কিছু নেই।’

এই ঘটনার পরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট একদল লোক পরিকল্পিতভাবে কর্মসূচি বানচাল করতে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করতেই এই বিক্ষোভ সাজিয়েছিল।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2026/08/12/mamata-shyambazar-protest-chor-chor-slogan/feed/ 0