Warning: Cannot modify header information - headers already sent by (output started at /home/kolkatas12857/public_html/index.php:21) in /home/kolkatas12857/public_html/wp-includes/feed-rss2.php on line 8
#BengaliMigrantHarassment – Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com Kolkata Saradin : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News Sat, 27 Dec 2025 16:22:49 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1 https://kolkatasaradin.com/wp-content/uploads/2026/06/cropped-FB_IMG_1782608202564-32x32.jpg #BengaliMigrantHarassment – Kolkata Saradin News : বাংলা, কলকাতা, Bengali News, Latest Bengali News, Bangla News, বাংলা খবর, Breaking News https://kolkatasaradin.com 32 32 Mamata against Odisha lynching: “বাংলা ভাষা কোনো অপরাধ নয়”, ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ মমতার https://kolkatasaradin.com/2025/12/28/mamata-against-odisha-lynching-bengali-migrant-workers-attack/ https://kolkatasaradin.com/2025/12/28/mamata-against-odisha-lynching-bengali-migrant-workers-attack/#respond Sun, 28 Dec 2025 02:18:59 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=25990 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

বাংলায় কথা বলার অপরাধে বিজেপি শাসিত ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলাদেশি সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল মুর্শিদাবাদের পরিচয় শ্রমিক জুয়েল রানাকে। গতকাল নিহত শ্রমিক জুয়েল রানার মৃতদেহ এসে পৌঁছেছে মুর্শিদাবাদ এর বাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রথম থেকেই নিহত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল এবং স্থানীয় প্রশাসন।

এবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টিম গঠন করে এই হত্যার ঘটনার তদন্তের জন্য পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ২৪ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে জুয়েল রানা নামে মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিককে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। এই হামলায় আরও ২ পরিযায়ী শ্রমিক জখম হয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহত শ্রমিকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের সুতি ১ নম্বর ব্লকের তিন বাসিন্দা জুয়েল রানা, আকির শেখ এবং পলাশ শেখ গত ২০ ডিসেম্বর জীবিকার সন্ধানে ওড়িশার সম্বলপুরে যান। ২৪ ডিসেম্বর রাতে ওই তিন যুবকের কর্মক্ষেত্রে অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির গুন্ডা হিসেবে পরিচিত একদল লোক মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে ওই শ্রমিকদের উপর চড়া হয়। আরিক ও পলাশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পারলেও জুয়েলকে ধরে ফেলে উন্মত্ত জনতা। তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাদের তরফে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য দুই জখম এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই ঘটনায় আজ বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রতিটি বিজেপি – শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর যে নির্মম অত্যাচার ও নিগ্রহ নেমে এসেছে আমরা তাকে তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। আমরা নিগৃহীত, সন্ত্রস্ত ও অত্যাচারিত সেইসব পরিযায়ী বাংলাভাষী পরিবারের পাশে আছি, সেই সব পরিবারকে আমরা সমস্ত রকম সমর্থন দেবো। মানুষের জীবনের বিনিময়ে কোন মূল্য হয় না, কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটছে সেইসব ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার রইল। অতি সম্প্রতি জঙ্গিপুর এলাকার কিছু পরিযায়ী শ্রমিকের উপর বিজেপি- শাসিত ওড়িশা রাজ্যে নানা অত্যাচার নেমে এসেছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে জঙ্গিপুরের সুতি এলাকার এক তরুণ পরিযায়ী শ্রমিককে সম্বলপুরে ২৪ শে ডিসেম্বর তারিখে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মুর্শিদাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকরা ওড়িশা থেকে সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা পরিবারগুলির সঙ্গে আছি এবং নিহতের পরিবারের প্রতি আমাদের আর্থিক সহায়তাও পৌঁছে যাবে। বিজেপি – শাসিত রাজ্যগুলির এই সমস্ত ঘটনায় নিগ্রহকারীদের প্রতি আমাদের নিন্দা ও নিগৃহীতদের জন্য আমাদের সব রকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রইল। বাংলা ভাষা বলা কোনো অপরাধ হতে পারে না। নিহত তরুণ জুয়েল রানার ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যে সুতি থানায় জিরো এফ আই আর রুজু করেছে এবং ইতিমধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার রাজ্যের পুলিশ টিম ওড়িশা গিয়েছে তদন্তের জন্য।’

এর আগেই অবশ্য তৃণমূলের তরফে ওড়িশার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ‘বিজেপি যে বাঙালি বিদ্বেষী তা ফের প্রমাণ করল। বাংলার প্রতি প্রতিহিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করছে গেরুয়া শিবির। ফের বাংলাদেশি অপবাদ দিয়ে বাঙালিকে খুন করা হল। অনুপ্রবেশকারী না হওয়া সত্ত্বেও একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে বিজেপি বাংলাভাষী ভারতীয়দের অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। বাংলা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করতে না চাওয়ায় বাঙালিদের আর কতদিন এসব সহ্য করতে হবে? বাঙালি হওয়ার কারণে যদি এভাবে লাঞ্ছনা সহ্য করা হয়, তাহলে তা আমরা সহ্য করব না। বাংলা মাথা নত করবে না।’

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/12/28/mamata-against-odisha-lynching-bengali-migrant-workers-attack/feed/ 0
Odisha Bengali migrant detention : ওড়িশায় বাংলায় কথা বলায় আটক ১০ বাঙালি হকার! মমতার সাহায্য প্রার্থনা—বিতর্কে ডাবল ইঞ্জিন সরকার https://kolkatasaradin.com/2025/11/20/odisha-bengali-hawker-detention-for-speaking-bengali/ https://kolkatasaradin.com/2025/11/20/odisha-bengali-hawker-detention-for-speaking-bengali/#respond Thu, 20 Nov 2025 01:52:58 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=24943 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশী সন্দেহে বাংলার বাসিন্দাদের পুলিশের হাতে হেনস্থার শিকার হতে হল BJP শাসিত ডাবল ইঞ্জিন ওড়িশায়। আধার কার্ড রেশন কার্ড এবং ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য নথিপত্র দেখানো সত্বেও। পূর্ব মেদিনীপুর এবং মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা এই বাংলাভাষী বাঙালিদের চরম হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল ওড়িশার BJP সরকারের বিরুদ্ধে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় পরিচিতদের সাহায্যে ভিডিও করে মমতার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন ওড়িশায় ডাবল ইঞ্জিন BJP সরকারের পুলিশের হাতে আটক ১০ বাঙালি হকার।

গত বেশ কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন BJP শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি অথবা রোহিঙ্গা সন্দেহে কখনো গ্রেফতার কখনো নির্যাতন আবার কখনো বা বিএসএফের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ছেড়ে দিয়ে আসার মত ঘটনা ঘটেছে বারে বারে। আগেই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের মুখ্য সচিব পর্যন্ত ওড়িশা সহ দেশের প্রায় সবকটি BJP শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যের মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে এভাবে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাঙ্গালীদের হেনস্থা বন্ধ করার জন্য সচেষ্ট হতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো প্রতিবেশী ওড়িশায়।

ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার আবহে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের ১০ ফেরিওয়ালাকে আটক করেছে BJP শাসিত ওড়িশা পুলিশ। থানায় কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পরও বিস্কুট ছাড়া কিছু খেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পেশার তাগিদে ওড়িশা যান পূর্ব মেদিনীপুরের ৫ জন ও মুর্শিদাবাদের ৫ জন ফেরিওয়ালা।

জানা গিয়েছে, বাংলার ওই পরিযায়ী শ্রমিকরা দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে ওই রাজ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যুক্ত। ওড়িশার জাজপুর টাউন থানা এলাকায় একটি বাড়িতে তাঁরা ভাড়া থাকতেন। সোমবার রাতে কাজ সেরে ভাড়া বাড়িতে খেতে বসেছিলেন তাঁরা। সেইসময় পুলিশ এসে বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁদের আটক করে। থানায় নিয়ে যায়। নথিপত্র যাচাইয়ের নামে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ বাংলার ওই ফেরিওয়ালাদের। তাঁরা বলেন, আগে তথ্য যাচাইয়ের জন্য নথি দিয়েছিলেন। তারপরও ফের তাঁদের তুলে আনা হয়।

ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে আসা ভিডিওতে হেনস্থার শিকার বাঙালি ফেরিওয়ালারা বলেন, আমরা ব্যবসার জন্য এখানে এসেছি। আমাদের বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করে সোমবার রাতে পুলিশ নিয়ে আসে। ২ গাড়ি পুলিশ এসেছিল। আমরা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুরোধ করব, যাতে আমাদের এখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে বাংলার শ্রমিকদের এভাবে হেনস্থার খবর পাওয়ার পরেই ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপদে বাংলায় ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে পূর্ব মেদিনীপুর এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ।

 

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/11/20/odisha-bengali-hawker-detention-for-speaking-bengali/feed/ 0
HC against Bengali Deportation : প্রেগন্যান্ট সোনালি বিবি সহ ৬ জনকে ফেরান- ‘পুশ ব্যাক’ বিতর্কে নির্দেশ হাইকোর্টের https://kolkatasaradin.com/2025/09/27/hc-against-bengali-deportation-pushback-order/ https://kolkatasaradin.com/2025/09/27/hc-against-bengali-deportation-pushback-order/#respond Sat, 27 Sep 2025 02:10:49 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=23701 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা ৬ ভারতীয় নাগরিককে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি-সহ মোট ৬ জনকে অবিলম্বে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।
এই বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সামিরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ কলকাতা হাইকোর্ট বিজেপি-র ভুয়ো প্রচারকে জনসমক্ষে এনে দিলেন। বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী খাতুন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও পাঁচজনকে (শিশুসহ) ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ বলে চালানোর যে চেষ্টা তারা করেছিল, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এফআরআরও দিল্লির আটক/নির্বাসন আদেশ বেআইনি। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে এই পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি কোনওদিন ভুলব না, যখন আমি এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিলাম — তখন কিভাবে বিজেপির দালালরা আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে নীচু, ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়েছিল। এটি শুধু আমাদের জয় নয়; এটি বাংলার জয় — বিজেপির বাঙালি-বিরোধী, গরিব-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এক তীব্র জবাব। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে আমরা লড়াই চালিয়ে যাব, যতদিন না এই বিষাক্ত, জনগণ-বিরোধী শক্তিগুলিকে গণতান্ত্রিক পথে পরাজিত করা যায়।’
ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুনে। অভিযোগ ওঠে, দিল্লি পুলিশ বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা সোনালি বিবি, তাঁর স্বামী দানিশ এবং আট বছরের ছেলেকে আটক করে। এরপর বাংলায় কথা বলার অভিযোগে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁদের। তাঁদের বেআইনিভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। সেই সময় সোনালি বিবি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরই সে দেশের পুলিশ তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। বিষয়টি সামনে আসে যখন সোনালির বাবা ভদু শেখ কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, মেয়ের সঙ্গে জুন মাস থেকে তিনি কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি এবং বীরভূমের পাইকার থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করেছিলেন।
এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ মামলাটির শুনানির আগে আইন অনুযায়ী এই বিষয়ের নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন৷ এদিকে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী রঘু চক্রবর্তী বলেন, ‘বীরভূমের পাইকরে সোনালির বাবার চাষের জমি রয়েছে৷ বসত বাড়ি রয়েছে৷ জমির কাগজপত্র রয়েছে৷ প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি রয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘তাঁদের (সোনালি বিবি ও তাঁর পরিবার) ধরার পর তাঁরা নিজেদের ভারতীয় বলে আবেদনই করেননি ৷ তাঁরা যে ভারতীয়, তার সমর্থনে কোনও তথ্যপ্রমাণ নথি দেননি৷ তাহলে কেন এখন কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাসের মামলা হচ্ছে? দিল্লি হাইকোর্ট থেকে হেবিয়াস করপাস ও ডিপোর্টেশন দু’টি মামলাই প্রত্যাহার করা হয়৷’ এএসজি-র কথায়, ‘মামলা করতে হলে বিচারের এক্তিয়ার অনুযায়ী দিল্লি বা গুয়াহাটি হাইকোর্টে করতে পারেন৷ কলকাতা হাইকোর্টে কোনওভাবে এই মামলা করা যায় না৷ এখানে মামলার কোনও আইনি এক্তিয়ার নেই৷ তাহলে কি আদালত এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে? মামলাকারীরা কেন 26 জুন থেকে এতদিন চুপচাপ ছিলেন?’
তাঁর প্রশ্ন, ‘তাঁরা যে বাংলাদেশি নন, এই বক্তব্য জানিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনের সঙ্গে কি যোগাযোগ করা হয়েছিল ? বাংলাদেশ সরকারের তরফেও এদেশের সরকারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।’

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/09/27/hc-against-bengali-deportation-pushback-order/feed/ 0
Highcourt on Bengali Migrant : বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশে পাঠাতে কেন্দ্রের এত কীসের তাড়া? একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দেশের বাইরে পাঠানোর আগে সব নিয়ম মেনেছিলেন তো? তীব্র ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি তলব কলকাতা হাইকোর্টের https://kolkatasaradin.com/2025/09/12/highcourt-on-bengali-migrant-workers-india-bangladesh/ https://kolkatasaradin.com/2025/09/12/highcourt-on-bengali-migrant-workers-india-bangladesh/#respond Fri, 12 Sep 2025 02:25:15 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=23085 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

বাংলার বাইরে কাজ করতে যাওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশে পাঠাতে কেন্দ্রের এত কীসের তাড়া? একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দেশের বাইরে পাঠানোর আগে সব নিয়ম মেনে ছিলেন তো? এভাবেই আজ তীব্র ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রের মোদি সরকারের লিখিত জবাবদিহি তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলাদেশি সন্দেহে বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা সোনালিকে তাঁর পরিবার-সহ দিল্লি পুলিশ গত ২৬ জুন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। স্বামী দানিশ শেখ ও আট বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই তাঁকে সীমান্তের ও পারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সোনালির পরিবার এখন প্রশ্ন তুলছে—বাংলাদেশে যদি তাঁদের মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন, তবে সেই নবজাতকের নাগরিকত্ব কী হবে? ভারতীয় জনতা পার্টি শাসিত দিল্লির ডাবল ইঞ্জিন সরকার বিএসএফের সাহায্যে সোনালীর পরিবারকে বাংলাদেশ ে পাঠিয়ে দিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কোনো রকম ভাবে যোগাযোগ করা হয়নি অথবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আধার কার্ড রেশন কার্ড এবং ভোটার কার্ড সহ যে সমস্ত ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র জমা দেওয়া হয়েছিল তা দেখার পরেও নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে হেভিয়াস কর্পাস মামলা দায়ের করেছিল তার পরিবার এবং পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ।

বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করার বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের তরফে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। গত ১৪ অগস্ট শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলা এবং সেই ভাষায় থাকা নথির কারণে অনেককে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আটক করা বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের ভিত্তিতে কোনও অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ না দিলেও জরুরী ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্টকে এই মামলার শুনানি করার জন্য নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ।

তার প্রেক্ষিতেই আজ কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন মামলা শোনার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলায় কলকাতা হাই কোর্টের সমালোচনার মুখে পড়ল মোদি সরকার। মামলা শোনার এক্তিয়ারের প্রশ্নে কেন্দ্রের দাবি খারিজ করে দিল বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলে, বাংলাদেশে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাঠাতে কেন্দ্রের এত কীসের তাড়া? যে ভাবে এবং যে পদ্ধতিতে ওই পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, সেই বিষয়ে হলফনামা দিয়ে তাদের বক্তব্য জানাবে কেন্দ্র। তার পাল্টা জবাব দেবে রাজ্য ও ম্যামলাকারীরা। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৩ সেপ্টেম্বর।

কেন্দ্রের দেওয়া হলফনামা দেখিয়ে আদালতে মামলাকারী পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার দাবি করেন, ২৪ জুন পুলিশ খতিয়ে দেখেই তাদের একদিন পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারা প্রকৃত এই দেশের নাগরিক কি না, তার খোঁজের কোনও চেষ্টা হয়নি। আদতে তারা মুরারাই পাইকরের আদি বাসিন্দা। ডিপোর্ট করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। কেন্দ্রের ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিএম যাবতীয় খোঁজখবর নিয়ে জানাবেন। একমাসে সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া না গেলে তখনই দেশ থেকে বিতাড়িত করা যাবে। এখানে সেটা হয়নি। তারা এই রাজ্যের বাসিন্দা। এটাই এখানে মামলা হওয়ার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি।

আগের দেওয়া রিপোর্ট উল্লেখ করে রাজ্য জানায়, এঁরা বীরভূমের বাসিন্দা সেসব তথ্য প্রমাণ-সহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জানানো হয়েছে আগেই। অথচ সেই রিপোর্টের এখনও কোনও জবাব দিল্লি প্রশাসন দেয়নি। এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/09/12/highcourt-on-bengali-migrant-workers-india-bangladesh/feed/ 0
Mamata Banerjee Jalpaiguri : “বাংলা বাংলার মতো চলবে, দিল্লী থেকে কেউ কন্ট্রোল করতে পারবে না” জলপাইগুড়ি থেকে হুঙ্কার মমতার https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/mamata-jalpaiguri-bengal-will-run-own-way/ https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/mamata-jalpaiguri-bengal-will-run-own-way/#respond Thu, 11 Sep 2025 02:05:17 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=22982 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

বাংলা বাংলার মতো চলবে, দিল্লী থেকে কেউ কন্ট্রোল করতে পারবে না। সম্প্রতি দেশের এক বিজেপি শাসিত রাজ্যের বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এভাবেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে হুংকার দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জলপাইগুড়ির এবিপিসি ময়দানে সরকারি পরিষেবা বিলি, প্রকল্প উদ্বোধন ও শিলান্যাসের পাশাপাশি বুধবারের সভা থেকে দেশের একের পর এক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলা বাঙালি শ্রমিকদের ওপরে হেনস্থার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা জানান, ইতিমধ্যেই ২৪ হাজার পরিযায়ী পরিবারকে রাজ্যে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরের রাজ্য থেকে দেড় কোটি মানুষ বাংলায় থাকেন, তাঁদের পরিষেবা দিই আমরা। অথচ ডবল ইঞ্জিন সরকার আমাদের ভাইবোনদের মেরে তাড়ায়। অসম থেকে নোটিস পাঠাচ্ছে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়িতে। বাংলায় কথা বললে আমাদের লোকেদের বাংলাদেশে পুশ করে দিচ্ছে। আমরা মাতৃভাষায় কথা বলব, অন্য ভাষাও শিখব। কোনও ভাষাকে আমরা অসম্মান করি না। কিন্তু তোমরা আমাদের বাংলাকে কন্ট্রোল করতে পারবে না। বাংলা বাংলা চালাবে, দিল্লি নয়। এবার পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মানে আরও একটি পদক্ষেপের কথা জানালেন তিনি৷ বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মানে এবার থেকে বিশ্বকর্মা পুজোয় ছুটি থাকবে।
সেইসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতদিন রাজনীতি করব, মাথা উঁচু করে করব। পার্লামেন্ট থেকে পেনশন নিলে কয়েক কোটি টাকা হতো। কিসের জন্য আমাকে এত বদনাম করা হবে? আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে লজ্জায় মাথা খারাপ হয়ে পালিয়ে যেত। বাংলা ভালো থাকল দেশ ভালো থাকবে। জয় বাংলা বলব। আমি বাংলা থেকে এসেছি বলে আমাকে প্রতিদিন অপমান করা হয়, কিন্তু আমি তা সহ্য করি কারণ আমি জানি যে আমি যদি আগামীকাল এখানে না থাকতাম, তাহলে চোরেরা সবকিছু চুরি করে নিত। তারা বাংলাকে আরও একটি গুজরাটে পরিণত করবে।

সকলে আধার কার্ড করে নিন

সকলে যেন আধার কার্ড করেন, সেই বার্তাও দিয়ে মমতা বলেন, জেলাশাসককে বলব, আধার কার্ড যাদের নেই দুয়ারে সরকার করে আধার কার্ড করিয়ে দাও। ভোটাধিকার না থাকলে এনআরসি করে দেবে কিন্তু। ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না তা আগামী ৬-৭ মাস দেখতে হবে।

জাতপাতের ভাগাভাগি করে যারা দেশের নেতা নয়

প্রধানমন্ত্রীর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার নামে খেলা হবে, আমার নামে স্টেডিয়াম হবে। আমি আমার নামে কিছুই করিনি। মনিষীদের নামে করতে হবে। দেশের নেতা হতে গেলে গান্ধীজির মতো হতে হয়। ওরা বড়দিনের ছুটি পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলার টাকাও আটকে রাখে, অথচ বলে বাংলা কাজ করে না। দেশের কাণ্ডারী সাধারণ মানুষ। দেশের নেতা মহাত্মা গান্ধী, বাবা সাহেব আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসেরা, যাঁরা দেশকে বুঝতেন। জাতপাতের ভাগাভাগি করে যারা, তারা দেশের নেতা নয়।

আরও ২১ হাজার পোস্ট খালি আছে

মমতা বলেন, কোর্টের রায়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আবার শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-এর নোটিফিকেশন হয়েছে। বাদবাকি যা আছে, আইনের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে। আইনের জটিলতা কেটে গেলে আমরা আইন মেনেই চেষ্টা করব সঙ্গে থাকার। ৩৫ হাজার পোস্টের জন্য বিজ্ঞাপন আমরা দিয়েছি, আরও ২১ হাজার পোস্ট খালি আছে। এটা হয়ে গেলে বাকিটা আমরা আবার দেখে দেবো। কী করবেন, যখনই শিক্ষক নিয়োগ করতে যাচ্ছেন, কোর্টে জনস্বার্থের মামলা করে দিচ্ছে, আটকে যাচ্ছে। আমি তো চাকরি দিতে চাই। কোর্টে গিয়ে আটকে দিচ্ছ কেন?

জগন্নাথ ধামের আদলে দুর্গা অঙ্গন

২০২৪ সালে ১৯ কোটি পর্যটক বাংলায় এসেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, সারা পৃথিবী এখন অশান্তির আগুনে জ্বলছে। পর্যটকদের যাওয়ার জায়গাও নেই। আমরা শান্তির পক্ষে। আমাদের এই অশান্তি দেখতে ভালো লাগে না। জগন্নাথ ধামের মতো করেই দুর্গা অঙ্গন তৈরি হবে।

ডিভিসি-র ভূমিকার নিন্দা

বন্যা পরিস্থিতি ও উত্তরবঙ্গের জল সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, দক্ষিণবঙ্গে ডিভিসি আর উত্তরবঙ্গে ভুটান জল ছাড়ে। আমরা ডুবব আর ওরা জল ছাড়বে এটা হতে পারে না। কেন্দ্রকে ইতিমধ্যেই অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ বার বর্ষা অত্যন্ত বেশি হচ্ছে। ডিভিসি অকারণে জল ছাড়ায় দক্ষিণবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঞ্চেত, মাইথনের জল ছাড়ায় ক্ষতি হয়। আমরা ভারত সরকারকে বলেছি, ইন্দো-ভুটান রিভার কমিশনে পশ্চিমবাংলাকে সদস্য করা হোক। যাতে আমরা সমন্বয় রাখতে পারি। আমরা শুধু জল নেব, আমরা ডুবব, ওরা জল ছাড়বে? ওরা আমাদের বন্ধু দেশ। উভয়ে কিছু ব্যবস্থা করতে পারি যাতে ওরাও ভালো থাকে, আমরাও ভালো থাকি। প্রতিবেশীরা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকি।

দিল্লির দয়া ভিক্ষা চাই না

বাংলার বাড়ি-সহ একাধিক প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা নিয়েও এ দিন কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, টাকা আটকে রেখে দিয়েছে দিল্লি, বাংলাকে বঞ্চনা করা হচ্ছে সব ক্ষেত্রে, বাংলার বাড়ি মানুষ কেন পাবে তা বলার অধিকার তোমাদের নেই। আগে ৪৭ লক্ষ করে দিয়েছি। ১২ লক্ষ এ বছর করা হয়েছে, ১৬ লক্ষ ডিসেম্বরে প্রথম ফেজ় পাবে। মে-জুনে সেকেন্ড ফেজ়। যা বাকি থাকবে ফেজ় ধরে করে দেবো। দিল্লিকে বলব, তোমাদের দয়া, ভিক্ষা চাই না। আমরা মাথা নত করতে শিখিনি।

উত্তরবঙ্গে বিজয়া সম্মেলনী

মমতা বলেন, পুজোর পরে উত্তরবঙ্গে এসে বিজয়া সম্মিলনী করার চেষ্টা করব। মানুষের মুখে হাসি দেখতে পেলেই আমার ভালো লাগে।

উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের খতিয়ান

এদিনের বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে, আমরা ৬.৫৬ লক্ষ পাট্টা দিয়েছি। এর মধ্যে ৩.১৭ লক্ষ গৃহপাট্টা, ১.৯৩ লক্ষ কৃষি পাট্টা, ৫৯,০০০ শরণার্থী পাট্টা, ৪৭,০০০ বনপাট্টা এবং ৩৯,০০০ চা বাগানের পাট্টা। ২৪ আগস্ট, আমরা উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ৭,০০০ এরও বেশি পাট্টা বিতরণ করেছি। আজ, আমরা ১১,৬০০ পাট্টা দিচ্ছি।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/mamata-jalpaiguri-bengal-will-run-own-way/feed/ 0
Bengali migrant worker ransom Malda : ভিনরাজ্যে আটক বাঙালি শ্রমিক, মুক্তিপণের ফোনে আতঙ্কে মালদহের পরিবার https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/bengali-migrant-worker-kidnapped-ransom-demand-malda/ https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/bengali-migrant-worker-kidnapped-ransom-demand-malda/#respond Thu, 11 Sep 2025 02:02:46 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=22978 মালদহ: ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মুক্তিপণের জালে আটকালেন এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক। পরিবারের কাছে অচেনা নম্বর থেকে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহ জেলার চাঁচল থানার কলিগ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলিগ্রামের ইমামবাড়ার যুবক নুর আলম দুই মাসের দাদন চুক্তিতে দিল্লিতে রাজমিস্ত্রির কাজে যান। পরিবারের আশা ছিল কাজ শেষ হলেই ঘরে ফিরবেন তিনি। কিন্তু চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও নুর আলম বাড়ি ফেরেননি।

অভিযোগ, হঠাৎ মঙ্গলবার নুর আলমের স্ত্রীর ফোনে আসে এক ভয়ঙ্কর বার্তা। অচেনা নম্বর থেকে এক যুবক দাবি করে, নুর আলমকে ছাড়াতে হলে দিতে হবে দুই লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে না দিলে শ্রমিককে জীবিত ফেরত পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। নুর আলমের স্ত্রী সাহাজাদি খাতুন চোখের জলে বলেন, “আমার স্বামী তো রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়েছিল। রাতে হঠাৎ ফোনে জানানো হল—দুই লাখ টাকা না দিলে ওকে মেরে ফেলা হবে। আমি দুই নাবালক ছেলেকে নিয়ে চরম আতঙ্কে আছি।”

পরিবার সূত্রে খবর, নুর আলমকে কাজে পাঠিয়েছিলেন এলাকারই এক শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার পিয়ার মোহাম্মদ। কিন্তু মুক্তিপণের ফোন আসার পর পিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তাঁর পরিবার জানায়, তিনি কোথাও বেরিয়ে গিয়েছেন এবং মোবাইলও বন্ধ। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

পরিবারের দাবি, হয়তো পিয়ার মোহাম্মদ টাকার গরমিল করে চম্পট দিয়েছেন, আর একই এলাকার হওয়ায় নুর আলমকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। এদিকে ট্রু কলার মারফত ফোন নম্বর খতিয়ে দেখে পরিবার জানতে পারে, মুক্তিপণ দাবি করা ব্যক্তির নাম ইন্তাজ শেখ। তাঁদের আশঙ্কা, এই ব্যক্তি হয়তো মূল ঠিকাদার, যিনি কালিয়াচকের বাসিন্দা।

ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, দাদন ব্যবস্থায় ভিনরাজ্যে বহু মানুষ কাজ করতে যান। কিন্তু এমন ভয়াবহ ঘটনার ফলে অন্য শ্রমিক পরিবারগুলোও ভীত।

এই বিষয়ে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নুর আলমের স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত নুর আলমের সঠিক অবস্থান জানা যায়নি। তবে পরিবার, গ্রামবাসী এবং সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি তুলেছেন—অবিলম্বে পরিযায়ী শ্রমিককে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হোক।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/09/11/bengali-migrant-worker-kidnapped-ransom-demand-malda/feed/ 0
Supreme Court on Bengali language arrest : বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার কেন? কেন্দ্রের জবাবদিহি তলব সুপ্রিম কোর্টের https://kolkatasaradin.com/2025/08/30/sc-historic-observation-on-bengali-language-arrest/ https://kolkatasaradin.com/2025/08/30/sc-historic-observation-on-bengali-language-arrest/#respond Sat, 30 Aug 2025 02:26:36 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=22562 প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এমন এক নির্দেশ দিয়েছে যা দেশের গণতান্ত্রিক এবং বহুভাষিক কাঠামোকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে বহু মানুষকে “বাংলাদেশি” সন্দেহে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে অথবা জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে Supreme Court observation on Bengali language arrest একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে সামনে এসেছে।

বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহ?

গত কয়েক মাস ধরে দেশের নানা রাজ্যে বিশেষ করে ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিচালিত রাজ্যগুলোতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, শুধু বাংলায় কথা বলার কারণেই তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে। কারও কারও ক্ষেত্রে এমনকি বিএসএফ পর্যন্ত হুমকি দিয়েছে—“পালাও না হলে গুলি করব।”

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমে। সোনালী বিবি নামে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে দিল্লি পুলিশ আটক করে এবং বাংলাদেশি সন্দেহে বিএসএফের সাহায্যে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। যদিও তাঁর পরিবার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করার মতো সমস্ত নথি জমা দেয়, তবুও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেই প্রমাণ গ্রহণ করেনি।

 

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ

এই ঘটনা কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস মামলা আকারে আসে। কিন্তু কেন্দ্র দাবি করে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। পরে সমাজকর্মী ও আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ Supreme Court-এর তিন সদস্যের বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন।

 

বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম. পাঞ্চোলির বেঞ্চ স্পষ্টভাবে মন্তব্য করে—

ভারতের মতো বহুভাষাভাষী দেশে শুধুমাত্র ভাষার ভিত্তিতে কাউকে বিদেশি বলা যায় না।

পশ্চিমবঙ্গ ও পাঞ্জাবের মতো সীমান্ত রাজ্যে একই ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রয়েছে। শুধুমাত্র ভাষার কারণে কাউকে সন্দেহ করা অযৌক্তিক।

কেন্দ্রকে সাত দিনের মধ্যে জানাতে হবে, বিদেশি সন্দেহে কাউকে দেশ থেকে বের করার জন্য কী ধরনের প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী অনুসরণ করা হয়।

 

এই পর্যবেক্ষণ Supreme Court observation on Bengali language arrest হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।

 

কেন্দ্র সরকারের অবস্থান

 

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন যে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তিনি আরও দাবি করেন, যদি কেউ ভুক্তভোগী হয় তবে তাদের সরাসরি মামলা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এর নেপথ্যে রাজ্য সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে আদালত এই যুক্তি সরাসরি খারিজ করে দেয়।

 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া

 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য— “বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা অন্যায়। আজকের নির্দেশে বাংলার অসংখ্য পরিযায়ী শ্রমিকরা বড় ভরসা পেলেন। বিচারবিভাগ প্রমাণ করল, বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও শ্রমিকদের সম্মান রক্ষার জন্য আইন আছে।”

 

তিনি আরও বলেন, বাংলার শ্রমিকরা দেশের নানা প্রান্তে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। তাঁদের উপর অন্যায় আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?

 

1. পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা: বাংলাভাষী শ্রমিকদের ভয় কমাবে।

2. বহুভাষার সম্মান রক্ষা: ভারতের সংবিধানে বহুভাষিক ঐতিহ্যের মর্যাদা আরও একবার নিশ্চিত হলো।

3. মানবাধিকারের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ আদালতের পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ল।

4. কেন্দ্রকে জবাবদিহি: ভবিষ্যতে এই ধরনের আটক ও বিতাড়ন রোধে স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে কেন্দ্র বাধ্য হবে।

Supreme Court observation on Bengali language arrest শুধু বাংলার মানুষের জন্য নয়, ভারতের সমস্ত ভাষাভাষীর জন্য এক ঐতিহাসিক বার্তা। ভাষা কোনও অপরাধ নয়, বরং পরিচয়, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। আদালতের এই নির্দেশ ভারতীয় সংবিধানের বহুত্ববাদী চেতনা ও গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করল।

বাংলা বলার কারণে যদি কাউকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়, তবে তা কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, দেশের ঐক্য ও সংহতির জন্যও হুমকি। তাই সুপ্রিম কোর্টের এই হস্তক্ষেপ শুধু আইনি নয়, নৈতিক বিজয়ও বটে।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/08/30/sc-historic-observation-on-bengali-language-arrest/feed/ 0
Mamata on Bengali workers harassment : “বাংলার বাসিন্দাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জামাই আদর করে, তাহলে কেন ওড়িশা, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে?” বর্ধমান থেকে তীব্র আক্রমণ মমতার https://kolkatasaradin.com/2025/08/27/mamata-attack-burdwan-bengali-workers-harassment/ https://kolkatasaradin.com/2025/08/27/mamata-attack-burdwan-bengali-workers-harassment/#respond Wed, 27 Aug 2025 02:24:16 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=22368 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

“বাংলাকে সহ্যই করতে পারে না। বাংলা দেখলেই গা জ্বলে, আর লুচির মতো ফোলে।” এভাবেই আরো একবার বাংলা ভাষা ইসুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম না করে বর্তমানে সভা মঞ্চ থেকে তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভিনরাজ্যে ‘জামাই আদর’ করে নিয়ে গিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার, বর্ধমান শহরের পরিষেবা প্রদান মঞ্চ থেকে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মেধার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার মেধাকে তাড়াতে পারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বর্ধমানের সভা থেকে আরও একবার বাংলা ভাষা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তুলে আনলেন পাকিস্তান প্রসঙ্গও। কেন্দ্রকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “এখানে নাকি সব বাংলাদেশ হয়ে গিয়েছে। পঞ্জাবের পাশে পাকিস্তান, পাকিস্তানেরও একটা পঞ্জাব রয়েছে, সেকথা তো বলো না। আমাদের পাশে বাংলাদেশ তো আমরা তৈরি করিনি। তোমাদের প্রপিতামহরা করেছে। আমাদের ভাষা যদি এক হয়, আমরা কী করতে পারি?” তার প্রেক্ষাপট বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, “১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা আন্দোলনের পর দেশভাগ হয়। ভারত ভাগ করতে গিয়ে বাংলাকে ভাগ করেছিলেন আর পঞ্জাবকে ভাগ করেছিলেন। আন্দামান সেন্ট্রাল জেল থেকে রেপ্লিকা তুলে এনেছি, দেখা যাতে ৭০০ ওপর বাঙালি গ্রেফতার ছিলেন, যাঁরা স্বাধীনতা আন্দোলন করেন। ১০ শতাংশ ছিলেন পঞ্জাবীরা।”

এদিন মঞ্চ থেকে ফের ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার শ্রমিকরা বাইরে গেলেও, বাংলায় ভিনরাজ্যের দেড় কোটি মানুষ রয়েছেন। তাঁদের উপর এই বাংলায় কোনও অত্যাচার করা হয় না।তাঁর কথায়, পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে ‘জামাই আদর’ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বলেন, “দয়া করে ওঁদের নিয়ে যাওয়া হয়নি। কেউ সোনার কাজ ভালো করে। কেউ জামা-কাপড় ভালো তৈরি করেন। কেউ কনস্ট্রাকশনের কাজ ভালো পারে। ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জামাই আদর করে। কিন্তু তাঁদের ভাগ্যে আজ জুটছে লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অত্যাচার, অনাচার।” মমতা প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কেন ওড়িশা, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে? আমাদের মানুষকে কি মানুষ বলে মনে করেন না?”
পাশাপাশি, মমতা জানান, বাংলার মেধা ছাড়া বিদেশের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট গুজরাটের লোকদের কোমরে শিকল বেঁধে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলার মেধাকে তাড়াতে পারে না।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বাংলার ছাত্রছাত্রীদের মেধা, গবেষকদের মেধা সারা বিশ্ব সম্মান করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট গুজরাটের লোকদের কোমরে শিকল বেঁধে পাঠিয়ে দিয়েছে। বাংলার মেধাকে তাড়াতে পারে না। ওদের ছাড়া হার্ভার্ড, কেমব্রিজ চলবে না। নাসা থেকে ভাষা ওঁরাই আছে।”
তাঁর কথায়, “আমাদের রাজ্যে ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আছে যারা বাইরে আছে। এমনি দয়া করে নিয়ে যায়নি। তাঁদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে জামাই আদর করে। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা দক্ষ। অথচ তাঁদের কপালে এখন লাঞ্ছনা, অত্যাচার জুটছে।”

শ্রমশ্রী প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

সদ্য ঘোষিত প্রকল্প শ্রমশ্রীর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকে ফের একবার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভিনরাজ্য থেকে বাংলায় পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরলেই ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য পাবেন। একইসঙ্গে শ্রমিকের সন্তানদের পড়াশোনা থেকে সমস্ত সরকারি প্রকল্প আওতায় তাঁদের নিয়ে আসা হবে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ‍্যমন্ত্রী বলেন, ”আমি কর্মশ্রী প্রকল্প করেছি। ৭৮ লক্ষ লোককে জব কার্ড দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। ”

দুর্গা পুজোর জন্য গান মমতার

বর্ধমানে সভামঞ্চ থেকে তিনি জানান, তাঁকে দুর্গা পুজোর জন্য গান লিখতে হয়। এই বছর ইতিমধ্যেই এক পুজো মণ্ডপের জন্য তিনি গান লিখেছেন। সেই পুজো মণ্ডোপের থিম ও গানের প্রথম লাইন জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গানের প্রথম লাইন – “ধনধান্য ভরে মা এসেছেন ঘরে।”
তিনি বলেন, “আমাকে পুজোয় কিছু গান লিখতে হয়। কলকাতার একটা প্যান্ডেল সব শস্য দিয়ে প্যান্ডেল করছে। গানটা আমিই তৈরি করে দিয়েছি। প্রথন লাইন হল, ‘ধনধান্যে ভরে, মা এসেছে ঘরে’। বর্ধমান কিন্তু ধান উৎপাদনে প্রথম। অভিনন্দন, বাংলা এবার ধান উৎপাদনে প্রথম। এই মাটিকে সম্মান জানাই।”

বাংলায় উন্নয়নের খতিয়ান

মঙ্গলবার বর্ধমানের সভামঞ্চ থেকে ২০১১ সালে বাংলার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যের উন্নয়নে কি কি কর্মকান্ড করেছে তার খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ৭২ হাজারের বেশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। বর্ধমানে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস এবং পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে জেলার জন্য আরও একাধিক প্রকল্পের কথা জানান। এদিন বর্ধমানের প্রশাসনিক সভায় একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। ২৫০০-এর বেশি মানুষকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সাহায্য। প্রবল বৃষ্টিপাত, ডিভিসি, পাঞ্চেত, মাইথনের ছাড়া জলে বিভিন্ন জেলা ভাসছে। মেমারি, গুসকরার বিভিন্ন স্কুলে সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার ৫৪ টি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম হয়েছে। ১৫ টি আদিবাসী কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় ৪৯ টি বাসস্ট্যান্ড তৈরি হয়েছে। কৃষি ও শিল্পকে মেলাতে চেয়েছিলাম। কৃষি সেতু আছে, শিল্প সেতুও তৈরি হচ্ছে ৩৪৭ কোটি ১১ লক্ষ টাকায়। রানিগঞ্জ, আসানসোলে পৌরনিগমের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ। কাঁকসা, সালানপুরে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনটি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। দুর্গাপুরে কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বহু রাস্তা নির্মাণ ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজে শিলান্যাস হয়েছে।”

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/08/27/mamata-attack-burdwan-bengali-workers-harassment/feed/ 0
Suvendu vs Mamata on migrant worker funds : “পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ঘোষণা করা ৫ হাজার টাকাও তৃণমূল নেতাদের পকেটে ঢুকবে” বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর https://kolkatasaradin.com/2025/08/26/suvendu-alleges-tmc-will-loot-migrant-worker-funds/ https://kolkatasaradin.com/2025/08/26/suvendu-alleges-tmc-will-loot-migrant-worker-funds/#respond Tue, 26 Aug 2025 01:37:28 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=22316 শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।

“এই সরকারই নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করছে, যা আদতে তৃণমূল নেতাদের পকেটেই ঢুকবে। ভাতার সরকার, আর নেই দরকার!” ভিন রাজ্য থেকে বাংলায় ফিরে আসা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের মাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়ার যে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার শুভেন্দু অধিকারী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে একটা সরকার প্রায় পনেরো বছর ক্ষমতায়। এই পনেরো বছরে পশ্চিমবঙ্গে বহু ছোট-মাঝারি থেকে বৃহৎ শিল্প কল কারখানা বন্ধ হয়েছে, অনেক সংস্থা পাততাড়ি গুটিয়ে ভারতবর্ষের অন্য রাজ্যে চলে গেছে। সিঙ্গুর থেকে শুরু করে আজকের হলদিয়া শিল্পাঞ্চল, সর্বত্রই বিসর্জনের ব্যাথা।
আজ পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিকদের কাছে ছবিটা স্পষ্ট। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ দেখে না। হলদিয়ার কিছু তৃণমূলপন্থী শ্রমিকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার ভাইপোর ছবি লাগিয়ে নিজেদের কাজ হারানোর প্রতিবাদ করছেন, বিকল্প কর্মসংস্থানের আর্তি জানাচ্ছেন। গত একবছর ধরে তাঁরা কর্মহীন অথচ তাদের দল ও সরকার পাশে নেই। আর ভাবুন এই সরকারই নাকি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করছে, যা আদতে তৃণমূল নেতাদের পকেটেই ঢুকবে। ভাতার সরকার, আর নেই দরকার!”
অন্যদিকে, সোমবার আবার গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার তাঁকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকেই নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল বিধায়কের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে শুভেন্দুর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া – “জীবনকৃষ্ণ ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ভাইপো, কালীঘাটের কাকু, মানিক ভট্টাচার্যের অন্যতম বড় এজেন্ট। বীরভূম-মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত তালিকা তুলে দেওয়া, টাকা লেনদেন, একটা অংশ রাখা, এই ছিল তাঁর কাজ।”

বিরোধী দলনেতার দাবি, কান্দি-নবগ্রাম সহ একাধিক এলাকার বিধায়কদের দিয়ে তিনি তালিকা তৈরি করাতেন, টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কাজ করেছেন। তাই কান টানা হয়েছে ঠিক আছে, মাথাও টানতে হবে। ইডি যখন সোমবার জীবনকৃষ্ণর বাড়িতে যায় তখন তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। ইডি আসছে জানতে পেরেই বাড়ির পিছনের পাঁচিল টপকে পালাতে গিয়েছিলেন তিনি। তাড়াহুড়োর মধ্যে নিজের মোবাইল ফোন পুকুরের দিকে ছুড়ে দেন। তবে ফোন গিয়ে পড়ে পুকুর পাড়ের পাশের নর্দমায়।

শুভেন্দুর খোঁচা, ”শাসক দল যখন বলছে রাজনীতি হচ্ছে, তখন এটাও বলা উচিত যে, কেন তিনি পালাতে গেলেন! উনি যদি বিপ্লবী বা রাজনৈতিক সংগ্রামী হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে ইডিকে ফেস করা উচিত ছিল। কিন্তু কী হয়েছে সবাই দেখেছে।” আগামী বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। বলা হচ্ছে, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। শুভেন্দুর কথায়, প্রথম গ্রেফতারি ২০২১ সালে হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্তভার নিয়েছিল। সেই সময় তো কোনও ভোট ছিল না। আর এখন এই গ্রেফতারি হয়েছে পিএমএলএ অ্যাক্টে। তাই ইডি যুক্ত হবেই। তাই এসব অবান্তর কথা।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/08/26/suvendu-alleges-tmc-will-loot-migrant-worker-funds/feed/ 0
Shramsree Scheme Mamata : শ্রমশ্রী প্রকল্প – পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন ঘোষণা https://kolkatasaradin.com/2025/08/19/shramsree-scheme-mamata-banerjee-announcement-migrant-workers/ https://kolkatasaradin.com/2025/08/19/shramsree-scheme-mamata-banerjee-announcement-migrant-workers/#respond Tue, 19 Aug 2025 02:22:34 +0000 https://kolkatasaradin.com/?p=21897 সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন ।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন এক উদ্যোগ ঘোষণা করলেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ভিনরাজ্যে গিয়ে অত্যাচারিত হওয়া ও কাজ হারিয়ে ফেরা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন করা।

গত কয়েক মাস ধরে বারবার শোনা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকরা ভাষা ও পরিচয়ের কারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাঁদের অনেককেই বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে অত্যাচার করার অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

শ্রমশ্রী প্রকল্পে কী সুবিধা মিলবে?

মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, বাংলায় ফিরেই শ্রমিকরা একাধিক সুবিধা পাবেন।

1. এককালীন ভাতা – বাংলায় ফিরে আসার পরপরই প্রতিটি শ্রমিককে ৫০০০ টাকা এককালীন সহায়তা দেওয়া হবে।

2. মাসিক ভাতা – নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত ১২ মাস ধরে প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।

3. সরকারি প্রকল্পের সুবিধা – স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী সহ অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে।

4. কাজের সুযোগ – দক্ষতা যাচাই করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মশ্রী প্রকল্পের আওতায় কাজে যুক্ত করা হবে।

5. পরিবারের সুবিধা – যদি কারোর নিজস্ব বাড়ি না থাকে, তবে কমিউনিটি কিচেনে থাকার ব্যবস্থা ও সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেবে রাজ্য।

 

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন: “বিভিন্ন রাজ্যে, যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার আছে, সেখানে বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয়ের উপর পরিকল্পতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কেউ বাংলায় কথা বললে তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন: “এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে আনা এবং তাঁদের জীবিকার জন্য, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সাহায্য করা। যাঁরা ফিরে আসবেন, এককালীন ভ্রমণ সহায়তা-সহ আমরা পাঁচ হাজার টাকা দেব। ফিরে আসার পর, বারো মাস, অর্থাৎ এক বছর, নতুন কাজে ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।”

কেন প্রয়োজন শ্রমশ্রী প্রকল্প?

পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বর্তমানে প্রায় ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই অত্যাচারিত হয়ে রাজ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার ফিরে এসেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, “প্রায় ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ হেনস্থার স্বীকার হয়েছে। বাংলার বাইরে যারা পরিযায়ী শ্রমিক, যাদের জন্য তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটা পরিকল্পনা করেছি – ‘শ্রমশ্রী’।’’

 

শ্রমশ্রী প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া

যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তাঁদের শ্রমশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের শ্রম দফতরের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে এবং একটি পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এছাড়াও জেলা প্রশাসন – যেমন DM, BDO ও IC – এই কাজের দায়িত্বে থাকবেন।

অন্যান্য প্রকল্পের ধারাবাহিকতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দেন, করোনা পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ‘প্রচেষ্টা’, ‘সমর্থন’, ‘স্নেহের পরশ’-এর মতো একাধিক উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প।

তিনি বলেন: “আমাদের যে পোর্টাল আছে, তা অনুযায়ী, আমাদের এখানে ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আছে। কিন্তু বাংলার বাইরেও অন্যান্য রাজ্য থেকে আমাদের রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। যারা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন, অত্যাচারিত হয়ে ফিরে আসছেন, ভাষা সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের জন্যই এই প্রকল্প।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প একদিকে যেমন বাঙালি পরিচয়ের উপর আক্রমণের প্রতিবাদ, অন্যদিকে শ্রমিকদের প্রতি মমতা সরকারের মানবিক মুখকে তুলে ধরে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘোষণার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়: “কাল শুনলাম অন্ধ্র প্রদেশে একজন খুন হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য যারা ফিরে আসবে তাদের ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। যত দিন না পর্যন্ত কাজ পাচ্ছেন প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে দেব। তাছাড়া কারোর প্রশিক্ষণ দরকার হলে আমরা প্রশিক্ষণ দেব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’ নিঃসন্দেহে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে যে শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে গিয়ে হেনস্থা, বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প একটি নিরাপদ ছায়া দেবে।

বাংলার শ্রমিকদের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই প্রকল্প বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার প্রতীক হিসেবেও উঠে এসেছে।

]]>
https://kolkatasaradin.com/2025/08/19/shramsree-scheme-mamata-banerjee-announcement-migrant-workers/feed/ 0