সন্দীপ ঘোষের মতো এমন অপরাধীরা, বাংলা চলচ্চিত্র জগতেও আছে। আর এখানকার কলাকুশলীরাও কাজ করতে গিয়ে তাঁরাও ভয় পাচ্ছেন। বিস্ফোরক দাবি অভিনেত্রী দেবলীনা দত্তের। আরজি কর-কাণ্ডে প্রতিবাদী আন্দোলনকারী ডাক্তারদের সঙ্গেই আছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়ার চিকিৎসকদের আন্দোলনে সারা রাত দেখা যায় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি সহ দেবলীনা দত্ত ও তাঁর মাকে।
দেবলীনা দত্ত বলেন, মা ও তিনি বাড়িতে রাতে ঘুমাতে পারছেন না তিলোত্তমার ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত। চিকিৎসকদের যে প্রতিবাদ চলছে, তাতে তাঁরাও বাড়িতে থাকতে পারছেন না। তাই মাকে নিয়ে গভীর রাতে চলে এসেছেন প্রতিবাদী মঞ্চে। তাঁর মা শারীরিকভাবে খানিক অসুস্থ হলেও এখানে এত চিকিৎসকদের মাঝে এসে প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাঁর মা ভালোই আছেন।
এরপরই তিনি দাবি করেন, সন্দীপ ঘোষের মতো এমন অপরাধী সমাজের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। তাদের গোড়া থেকে তুলে ফেলা উচিত। আর এই প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে তা হবে। তিলোত্তমা যদি বিচার না পায়, তাহলে সমাজে ও তাদের কর্মজীবনে এরকম সন্দীপ ঘোষরা আনন্দে ধেই ধেই করে নাচবে। তাই যতদিন না তিলোত্তমা বিচার পাবে, ততদিন তাঁরা প্রতিবাদ জানাবেন।
অভিনেত্রী আরও বলেন, সামনের দুর্গাপুজোয় দশমীতে মায়ের বিসর্জন হবে না। তিলোত্তমারও বিসর্জন হবে না। সারা জীবন তিলোত্তমা প্রতিটা মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবে। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্য়ায় বলেন, বিচারের জন্যই এই আন্দোলন। আন্দোলন থেকে তিনি পিছু হঠবেন না। চিকিৎসকদের পাশে তিনি থাকবেন।
এর আগেও তিনি আন্দোলনে ছিলেন, আজও তিনি সারা রাত থাকবেন। তিনি তিলোত্তমার বিচার চান। এই নিয়ে আজ সপ্তম দিনে পড়ল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান। আগামিকাল সুপ্রিম কোর্টে ফের শুনানি রয়েছে। ওদিকে দুর্নীতির পর এবার ধর্ষণ-খুন মামলাতেও সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার সন্দীপ ঘোষ। সিবিআই-এর দাবি, আরজি কর-কাণ্ডে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
]]>অভিনেত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে অরিন্দম শীলকে সাসপেন্ড করেছে ডিরেক্টর্স গিল্ড। তার ঠিক পরেই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন একাধিক অভিনেত্রী। দেবলীনা দত্তও সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘সময় সব বলে দেয়। সময়কে কখনওই চুপ করিয়ে রাখা যায় না।’ অরিন্দম সম্পর্কে দেবলীনার তুতো ভাই হন।
দেবলীনা বলেন, ‘সহকর্মীদের থেকে অরিন্দমদার নামে বহু অভিযোগ শুনেছি। গত বেশ কয়েক বছর ধরে শুনে এসেছি। তার মধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ আমি ব্যক্তিগত ভাবে শুনেছি। সেগুলো প্রকাশ্যেই আসেনি।’
শুধু অভিনেত্রী নন, অরিন্দম শীলের সঙ্গে সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এমনও অনেকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। দেবলীনা বলেছেন, ‘আমি এত দিন এ বিষয়ে কিচ্ছু বলিনি। আসলে মানুষটা তো সম্পর্কে আমার দাদা! আমার কাছে সম্মানের ছিলেন। কিন্তু, তিনি সম্মান হারিয়েছেন। রাগের থেকেও বেশি দুঃখ হচ্ছে। আমি ও মা, দু’জনেই খুব আহত।’
সহকর্মীদের থেকে নানা অভিযোগ শুনেছেন। কিন্তু দাদার সঙ্গে কখনও সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি। দেবলীনা বলেন, ‘এক বারই একটা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বেশ কিছু বছর আগের কথা। অভিযোগ যিনি করেছিলেন, তিনি আমার খুব কাছের বন্ধু। কিন্তু অরিন্দমদা বলেছিলেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। পুরো ঘটনাই মিথ্যে। তাই আমি একটু সংশয়ে ছিলাম। কিন্তু তার পর থেকে একাধিক অভিযোগ শুনেছি। একই মানুষের বিরুদ্ধে তো একই রকম অভিযোগ বার বার উঠতে পারে না!’
অরিন্দম শীলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে অনেকেই দাবি করছেন, এমন বহু মানুষ এখনও রয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিতে। বিনোদন জগতে যৌন হেনস্থার ঘটনা নিয়েও তাঁরা মুখ খুলছেন। দেবলীনারও রয়েছে এমন একটি অভিজ্ঞতা। অভিনেত্রীর কথায়, ‘বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একদল মানুষ নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন। বাংলার এক অভিনেতা গিয়েছিলেন, যিনি জাতীয় স্তরেও বিখ্যাত। বাংলা ও হিন্দি দুই ক্ষেত্রেই তিনি বড় তারকা। আমার মা-ও গিয়েছিলেন।’
ঘটনার বিবরণ দিতে দিয়ে দেবলীনা বলেন, ‘হোটেলে এক দিন সেই তারকার ঘরে বসে আমরা সকলে মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। ভুলবশত আমার মা গায়ের শালটা ওঁর ঘরে ফেলে আসেন। সে দিন নৈশভোজের সময় সেই তারকা আমার রুম নম্বরটা জেনে নেন। আমি এক প্রথম সারির অভিনেত্রীর সঙ্গে একটা ঘর ভাগ করে নিয়েছিলাম। রাত ঠিক ১২টা বাজে, তখন আমাকে ফোন করেন সেই তারকা। ঘর থেকে শালটা নিয়ে যেতে বলেন। আমি তখন অনেকটাই ছোট। এই ডেকে পাঠানোর ইঙ্গিত না বুঝেই ওঁর ঘরে যাই। তিনি বলেন, সোফায় রাখা রয়েছে শাল। আমি শালটা আনতে গেলেই তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং মদ্যপ অবস্থায় আমার সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। আমি দৌড়ে এসে ঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করতে থাকি।’
তখন সেই তারকা নিজেই দেবলীনাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তুই কি চলে যেতে চাস?’ দেবলীনার সম্মতি নেই দেখে অভিনেত্রীকে তিনি যেতে দেন।
দেবলীনার কথায়, ‘এই একটি কারণেই আমি ওই লোকটির পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চাই না। এর পরে বহু বার ওই অভিনেতার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি প্রতি বার খুব সম্মানের সঙ্গে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাধারণত এত বড় মাপের অভিনেতারা প্রত্যাখ্যান নিতে পারেন না। কিন্তু, তিনি পরে কখনও খারাপ আচরণ করেননি আমার সঙ্গে।’
]]>