ঘাটাল সহ চন্দ্রকোনা, দাসপুর ও কেশপুরের বহু এলাকা ইতিমধ্যেই প্লাবিত। ঘাটাল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড জলের নিচে। নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে আরগোড়া এলাকার চাতাল নম্বর ১-এ।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রাজ্য কন্ট্রোল রুমে ২১ ঘণ্টা ধরে তদারকি করছেন। প্রতিমুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে কোথায় কতটা জল ঢুকছে, কীভাবে ত্রাণ পৌঁছানো যাবে। সেচমন্ত্রী জানান, তিনি গত দেড় মাস ধরে এলাকা ঘুরে দেখছেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন।
মানস ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্র নদী সংস্কারের জন্য এক টাকাও দেয়নি। এমনকি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজের জন্যও কেন্দ্র কোনও বরাদ্দ দেয়নি। রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগে ১৫৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে এবং ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে।
জলমগ্ন এলাকায় চালু হয়েছে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, ওষুধ, বিশুদ্ধ জল সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। বিডিও, এসডিও, জেলা শাসক এবং জলসম্পদ দফতরের আধিকারিকরা সবসময় মাঠে রয়েছেন। রাজ্যের ইমারজেন্সি কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা সচল।
সেচ মন্ত্রী স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন, সহযোগিতা করুন। সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে নজর রাখছেন। আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করা।”
ঘাটাল বন্যা পরিস্থিতি ২০২৫ সালে আবার একবার রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার উপর বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। একদিকে ডিভিসির জল ছাড়া, অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টি — সব মিলিয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়।
]]>ঘাটালে বন্যা। ডুবছে স্থানীয় মানুষজনদের ঘর-বাড়ি। স্কুল-পাঠশালা লাটে উঠেছে। দুর্গতদের ভরসা ত্রাণ। আর বন্যা হতেই ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। কেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করা হল না? সেই প্রশ্ন তুলে সাংসদকে ‘ঢপবাজ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়েছে।
প্রতিবছরই বর্ষায় বন্যায় ডুবে যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল। ধসে যায় একের পর এক বাড়ি, তলিয়ে যায় আপনজন, গবাদী পশু থেকে সব….। বন্যার হাত ঘাটালবাসীকে উদ্ধারের জন্যই এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় সাংসদ দেবকে নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। এবার তার পালটা দিলেন সাংসদ দেব। সোশাল মিডিয়ায় কেন্দ্রকে নিশানা করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, কেন্দ্রের অসহযোগিতার কারণেই ভোগান্তির শিকার ঘাটালের মানুষ।
বর্ষার শুরুতেই ভেসেছে ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের একের পর এক গ্রাম। জলবন্দি প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্য়ান নিয়ে দেবকে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরা। বিজেপি বিধায়ক সোশাল মিডিয়ায় নিশানা করেন সাংসদ দেবকে। লেখেন, “এবার দেখবেন পাগলু ঘাটালে শ্যুটিং করতে আসবেন। আর কতবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন? আপনি নিজের ঢাক নিজেই বাজিয়েছিলেন। এখন মানুষ ওনাকে ঢপবাজ বলছেন। আপনি শুধু মিথ্যা কথা বলতে জানেন, অভিনয় করতে জানেন। সিনেমা আর বাস্তবকে এক মনে করেছেন। ঘাটালের মানুষ আজ জবাব চাইছে।”
রবিবার তার পালটা দিলেন দেব। সোশাল মিডিয়া পোস্টে মনে করিয়ে দিলেন তিনি বারবার কেন্দ্রের কাছে আর্জি করলেও লাভ হয়নি। কেন্দ্রকে কার্যত দুষে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কেন কার্যকত হয়নি সে কথা বলেন তৃণমূল নেতা। লেখেন, “বিগত দশ বছর ধরে লোকসভার সকল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সপক্ষে সওয়াল করে এসেছি । অনেক চেষ্টার পরও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক তৃতীয়াংশ বাজেট (৫০০কোটি) বরাদ্দ করে।” আর কতদিন এই প্রোজেক্ট তৈরি হতে সময় লাগবে? সেই নিয়েও জানিয়েছেন তিনি। দেব লেখেন, “ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কাজ শুরু হয়। এই মাস্টার প্ল্যানের। ৭৮ কিলোমিটার + ৫২ কিলোমিটার নদীর ড্রেজিং থেকে শুরু করে বাঁধ,ব্রিজ ,খাল কাটা,খালের সংস্করণ,কৃত্রিম নদী তৈরি করা,জমি অধিগ্রহণ সবই আছে। যার সময়সীমা কমপক্ষে ৪-৫ বছর।”
]]>ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণ তুলে দেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ,ঘাটাল সংগঠনিক জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা অসিত পাল, আবির আগরওয়াল, সৌমেন ঘোষ, শেখ ইমরান সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্বরা।
ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকায় বানভাসি দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার পর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ বলেন এখনো ঘাটালের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার জল রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ঘাটাল ব্লকের গ্রামীণ এলাকা গুলির বাসিন্দারা, পাশাপাশি ঘাটাল পৌরসভা এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে এখনো বন্যার জল রয়েছে। তাই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘাটাল ব্লকের মনসুকা অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে এবং ঘাটাল পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বানভাসি দুর্গত মানুষদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় জলের বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন এভাবেই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘাটাল মহকুমার বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে বানভাসি মানুষদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় জলের বোতল তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
]]>অনেক আশা কর্মীর নিজের বাড়িও বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে। পাঁশকুড়া, ঘাটাল সহ আরও অন্যান্য বন্যা কবলিত এলাকা গুলিতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতিও পরিলক্ষিত হয়েছে। ধান চাষ থেকে শুরু করে পান, ফুল এবং সব্জি চাষের বিপুল ক্ষতি লক্ষণীয়।
এছাড়াও অসংখ্য ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, বহু মানুষের বাসস্থান চিরতরে হারিয়ে গেছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে বর্তমানে নেই পানীয় জল,যথোপযুক্ত খাবার, বিদ্যুৎ, মেডিক্যাল পরিষেবা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা।
এই বন্যা দুর্গত এলাকাবাসীদের পরিষেবায় কর্মরত আশা কর্মীরা। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন। এভাবেই সারা বছর সাধারণ মানুষের পাশে পরিষেবা দিতে থাকেন গ্রামের আশা কর্মীরা।
]]>ওই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ সহ উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক খুরশেদ আলি কাদেরি, পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার, ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আধিকারিকর। ওই বৈঠকে ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ।
ঘাটাল মহকুমার পাঁচ টি ব্লকের বন্যা কবলিত দুর্গত মানুষের কাছে সরকার এর দেওয়া ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কিনা তা নিয়ে তিনি আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিতভাবে খবর নেন।
সেই সঙ্গে তিনি দুর্গত মানুষদের কাছে ত্রিপল, খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশে দেন। এছাড়াও তিনি বন্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। সেই সঙ্গে তিনি ঘাটালের বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন।
]]>কেশপুর ব্লকের চকজ্যোতি এলাকায় বাড়ির সবার অলক্ষে ওই তিন বছরের শিশুটি খেলতে খেলতে বাড়ির পাশে থাকা জলাশয়ে পড়ে যায়। তার পরিবারের লোকেরা প্রতিবেশীদের সাহযোগিতায় তার বাড়ির পাশে থাকা জলাশয় থেকে ওই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে। যার ফলে তার পরিবারে ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
খবর পেয়ে কেশপুর থানার পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে বন্যার জলে ডুবে মৃত শিশুর দেহ টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেই সঙ্গে মৃত শিশুর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবার বর্গ কে সমবেদনা জানান কেশপুর ব্লকের বিডিও, কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই, তৃণমূল কংগ্রেসের কেশপুর ব্লকের সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ করা যায় যে কয়েক দিন আগে কেশপুর ব্লকের জগন্নাথপুর এলাকায় বন্যার জলে ডুবে দশ বছরের এক নাবালক এর মৃত্যু হয়েছিল। যার ফলে কেশপুর ব্লকে চলতি বন্যায় দুই জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
]]>জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে বহু এলাকাতে বাঁধ ভেঙে জল গ্রামে ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে বিস্তৃর্ন এলাকা । ঘাটালের বরদা চৌকান এলাকাতে রাজ্য সড়কের উপরে জল উঠে যাবার কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঘাটালে বন্যা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক ভাবে অবনতি হওয়ার জন্য, বিদ্যুৎ দপ্তর প্রায় ৪৫০ টি ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের মনোহরপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংচা গ্রামে শিলাবতী নদীর বাঁধ ভেঙেছে। এরফলে পার্শ্ববর্তী প্রায় ১০ টি গ্রাম বন্যার জলে ভেসে যায় সেই সঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি জমিয়ে বন্যার জলের তলায়।
অন্যদিকে, ঘাটালের বন্দর এলাকায় রূপনারায়ণ নদের জল মঙ্গলবার রাত থেকেই বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (অভিনেতা দেব) বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি মহকুমা প্রশাসনের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে জল বাড়লে কিভাবে মোকাবিলা করা হবে, ত্রাণ ও আশ্রয়এবং বন্যার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হয়।
ঘাটালের সেই চিরাচরিত বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ আবারো দেখা গেল। ঘাটাল পৌরসভার ভেতরের রাস্তার উপর জল এতটাই বেশি যে মানুষকে ডিঙ্গিতে করে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।
ঘাটাল পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ইতিমধ্যেই জলমগ্ন। ঘাটাল বাসীর কাছে জল-যন্ত্রণা যেন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। ঘাটাল থানায় জল ঢুকে যাওয়ায় স্থানীয় একটি বেসরকারি অতিথি সালায় চলছে ঘাটাল থানার কাজ। এছাড়াও একাধিক স্কুল ও সরকারি অফিস গুলি এখন জলের তলায়। যার ফলে সমস্যায় পড়েছেন ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দারা।
]]>