কর্মবিরতি তুলে নিতে জুনিয়র ডাক্তারদের অনুরোধ করলেন জহর সরকার। তিনি এতদিন তৃণমূলের এমপি ছিলেন। রাজ্যসভায় তাঁকে পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তবে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি এমপি পদ থেকে ইস্তফা দেন। এমনকী জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতিবাদ মিছিলেও তাঁকে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। সেই জহর সরকার সমাজমাধ্যমে জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি বিশেষ আবেদন করেছেন।
তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, প্রিয় জুনিয়র ডাক্তার। আমি এমপি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি তোমাদের পাশে ও মহিলাদের পাশে থাকব বলে যারা লড়াই করছেন। যারা সুরক্ষা ও সম্মানের জন্য লড়াই করছেন। সেই সঙ্গেই সেই নাগরিকদের পাশে থাকতে চাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন। কিন্তু আপনারা কাজ থেকে দূরে থাকবেন না ও মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে ফেলবেন না। লিখেছেন জহর সরকার। কার্যত জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি বিশেষ আবেদন করেছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁর আবেদনে কতটা সাড়া দেয় সেটাই দেখার। সম্প্রতি জহর সরকার যখন সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যাতে তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা না দেন। তবে তারপরেও তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। তবে এবার সেই জহর সরকারই জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তোলার জন্য আবেদন করছেন। এদিকে রাজ্য সরকারও তাঁদের বার বার কর্মবিরতি তোলার জন্য় আবেদন করেছে।
এটা নিয়ে দ্বিতীয় দফায় কর্মবিরতি পালন করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এর আগেও ৪২দিন ধরে আন্দোলনে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। এরপর ফের তাঁরা কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। একেবারে পূর্ণ কর্মবিরতি। আর পুজোর সময় কর্মবিরতি মানেই ভয়াবহ পরিস্থিতি হাসপাতালে। কারণ পুজোর সময় এমনিতেই চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকে। তার উপর এই কর্মবিরতির জেরে বহু হাসপাতালে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ রোগীরা। কারণ সাধারণত দেখা যায় যে জুনিয়র ডাক্তাররাই পুজোর সময় হাসপাতালের হাল ধরেন। আর তারা যদি হাসপাতালে না থাকেন স্বাভাবিকভাবেই বেহাল পরিস্থিতি তৈরি হয় হাসপাতালে। সেটাই হয়েছে রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে। এমনটাই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে।
]]>আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে মমতাকে চিঠি লিখে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা জহর সরকারের। সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া প্রসঙ্গে দলের অস্বস্তি বাড়ালেন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার। এবার সেই নিয়ে মুখ খুললেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও। তিনি ইস্তফা প্রসঙ্গে বলেন, “আমি আর পারছি না। সংসদ পদ থেকে মুক্তি চাই। রাজনীতি ছাড়ছি কিন্তু নীতি ছাড়ব না।” পাশাপাশি কবে সরকারি ভাবে সাংসদ পদ ছাড়বেন তা-ও জানালেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জানালেন, আগামী সপ্তাহেই দিল্লিতে গিয়ে দেবেন ইস্তফা দেবেন জহর সরকার।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রীকে দু’পাতার একটি চিঠি দেন জহর সরকার। সেখানে আরজি কর কাণ্ড নিয়েও সরব হন তিনি। জহর সরকার লেখেন, “গত একমাস ধৈর্য্য ধরে আরজিকর হাসপাতালে ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি কেন আপনি সেই পুরনো মমতা ব্যানার্জীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে তা এক কথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গেছে।”
তিনি লেখেন, “আমার বিশ্বাস এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। অবশ্যই বিরোধী দলগুলো এই আন্দোলন থেকে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে কিন্তু যে সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও মানুষেরা পথে ঘাটে দিনের পর দিন প্রতিবাদ করছেন, তাঁরা এই দলগুলিকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। এক বাক্যে শুধু বিচার ও শাস্তির দাবী তুলছেন। আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে এই আন্দোলন বিশ্লেষণ করি, দেখব যে এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র ‘অভয়া’র পক্ষে নয়, রাজ্য সরকার আর শাসকদলের বিরুদ্ধেও।”
নিজের পদত্যাগের বিষয়ে চিঠিতে জহর সরকার লেখেন, “অনেক চিন্তাভাবনার পর আমি স্থির করেছি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেব এবং রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করব। আমার কখনও কোনও দলীয় পদ বা অন্য কিছুর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। আমি মোদী সরকারের স্বৈরাচারী, বিভেদমূলক বৈষম্যমূলক ও গণতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ এবং নীতির স্বার্থহীন ও সুতীব্র সমালোচনা করতে পেরেছি এটাই আমার সন্তুষ্টির কারণ। কিন্তু সংসদে নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পর ২০২২ সালে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত দুর্নীতির খোলাখুলি প্রমাণ দেখে প্রকাশ্যে মতামত দিই যে, দল ও সরকারের এই ব্যাপারে অত্যন্ত সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। তখন দলের অনেক বর্ষীয়ান নেতা আমাকে হেনস্থা করেন। তখন আমি পদত্যাগ করা থেকে বিরত ছিলাম এই আশা নিয়ে যে, আপনি কাটমানি ও আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক বছর আগে যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন, তা চালিয়ে যাবেন।”
তিনি আরও লিখেছেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম কিন্তু আমার রাজ্যে দুর্নীতি আর দলের একাংশের নেতাদের অন্যায় দাপট দেখে আমি হতাশাগ্রস্ত হলাম। দেখলাম রাজ্য সরকার সামলাতে পারছে না।”
]]>রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জহর সরকার রাজ্যসভার পদ এবং দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর তারপরই জহর সরকারকে তুলোধনা করলেন লোকসভার সাংসদ সৌগত রায়। জহর সরকার ইস্তফা দেওয়ার ঘটনায় তাঁকে তোপ দেগেছেন যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। কুণাল ঘোষও কড়া সমালোচনা করেছেন জহর সরকারের।
আজ জহর সরকার ইস্তফা দেওয়ার চিঠি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর থেকেই রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। কারণ বিরোধীরা উৎসাহিত হয়ে এই ঘটনায় নানা মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। অধীর চৌধুরী থেকে সুজন চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করেছেন। এই আবহে সাংসদ জহর সরকারকে ‘ব্যক্তিকেন্দ্রীক’ বলে কটাক্ষ করলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। তাঁকে টিকিট দেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছেন।
সৌগত রায় বলেন, ‘এই ধরনের মানুষদের মনোনয়ন দেওয়াই ঠিক নয়।’ রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল জহর সরকারকে। তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে তা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসে থেকে দলবিরোধী মন্তব্য আগে করেছিলেন জহর সরকার। তখন তাঁকে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। পরে সন্দেশখালি ইস্যু ঘুরে যাওয়ায় চুপচাপ হয়ে যান জহর সরকার। এবার আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সাংসদ পদে এবং রাজনীতিতে ইস্তফা দিতে চেয়েছেন জহর সরকার। তা নিয়ে সৌগত রায়ের বক্তব্য, ‘দলের প্রতি কোনও কমিটমেন্ট নেই। পাবলিকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। ভাল কাজ করবেন ভেবে অন্য ক্ষেত্রের অনেককেই নিয়ে আসেন আমাদের নেত্রী। কিন্তু এঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। শুধু নিজের কথাটা ভাবেন। কোনও বিরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেই পালাতে চান।’
রবিবার দুপুরে ট্যুইট করে নাম না করেই জহর আর সুখেন্দুকে নিশানা বানালেন তৃণমূলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। এদিন তিনি লিখেছেন, ‘একজন ছেড়েছেন, আরেকজনও ছাড়ুন। স্রোতের অনুকূলে তো কচুরিপানাও ভাসে, যদি উল্টো দিকে সাঁতার কাটতে নাই পারলেন তাহলে মানুষ জন্ম বৃথা! যুদ্ধের সময় যারা পালায় কিংবা গা বাঁচিয়ে চলে, ইতিহাস তাদের লজ্জার নজরে দেখে।’ বার্তা পরিষ্কার। দল ছাড়ো। কারও নাম না করেই এই ট্যুইট করেছেন দেবাংশু। তবে বুঝতে অসুবিধা নেই যে দুইজনের কথা তিনি বলতে চেয়েছেন নিজ ট্যুইটে তাঁরা জহর আর সুখেন্দু।
জহরের ইস্তফা সম্পর্কে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, জহরবাবু একজন সিনিয়র, বিদগ্ধ মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমরা তাঁর বিরোধিতা করব না। তাছাড়া আমার মনে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি যে শ্রদ্ধার জায়গা, সেটা তিনি ছিন্ন করছেন না।” কুণালের বক্তব্য, “জহরবাবু যে উদ্বেগের কথা বলছেন, সেই উদ্বেগের সঙ্গে তৃণমূলের অনেক সৈনিক একমত। দলের কাছে দৃশ্যমান, দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে। কিন্তু সেটা দলের অন্দরে থেকেও।”
]]>