আরজি কর কাণ্ডের ছায়া এবার বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী নার্সকে ধর্ষণের (Nurse Raped) অভিযোগ। মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি (Death Threat) দেওয়া হয় বলেও দাবি। কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতালের ডিরেক্টর। এফআইআর রুজু করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার পুলিশের।
জানা গিয়েছে, বছর বাইশের ওই তরুণী নার্স বেশকয়েক মাস ধরে কল্যাণপুর হাসপাতালে কর্মরত।
রবিবার সন্ধেয় হাসপাতালের ডিরেক্টরের তরফে আয়োজিত পার্টিতে যোগ দেন তিনি। সেখানে পার্টি শেষ হয়ে গেলেও রাতভর কাজের (Night Duty) অছিলায় তরুণী নার্সকে থাকতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ ওই ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে।
এরপর মধ্যরাতে ওই নার্সকে নিজের চেম্বারে ডেকে পাঠান হাসপাতালের ডিরেক্টর। ঘরে প্রবেশ করতেই তরুণীকে টানা হেঁচড়া শুরু করেন অভিযুক্ত। জোর করে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। তারপরই চলে নির্মম অত্যাচার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক আধিকারিক জানান, ওই নার্সকে ঘরে বন্দি করে ধর্ষণ করেন হাসপাতালের ডিরেক্টর। বাইরে বেরিয়ে কাউকে ঘটনার কথা বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের নাম পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।
পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে নেমে নির্যাতিতা নার্সের স্বাস্থ্য পরীক্ষার (medical test) কথা ভাবছে পুলিশ। আদালতে বিচারকের সামনে তিনি যাতে বয়ান পেশ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে খবর সূত্রের। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান এসিপি অভিষেক পাণ্ডে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অগাস্ট কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Hospital) কর্মরত অবস্থায় তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন (Rape and Murder) করা হয়। সারারাত ডিউটি করে সঙ্গীদের সঙ্গে ডিনার সেরে সেমিনার রুমে রেস্ট নিচ্ছিলেন ওই তরুণী। তখনই তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। তিনমাস হতে চললেও এখনও হত্যাকাণ্ডের বিচার মেলেনি।
]]>ধর্ষণের ঘটনা যেন নিত্যদিনের খবরের মত সাধারণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবারে এক ভয়ংকর ঘটনা সামনে এসেছে। যা শুনলে গা শিউড়ে উঠবে। জানা গিয়েছে, উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহর জেলার এক বাসিন্দাকে যাবজ্জীবনের শাস্তি ঘোষণা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা একটি ভিডিয়োতে অভিযুক্তকে দেখা গিয়েছে।
যেখানে তাকে বুলন্দশহর আদালত থেকে বের করে আনা হচ্ছে।
ওই পোস্টের মাধ্যমেই জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্তের মা বিধবা। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাঁর স্বামীর মৃত্য়ুর পর ছেলের দাবি ছিল যে তার স্ত্রী হয়ে থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যুর পর, আমার ছেলে চেয়েছিল যে আমি তার স্ত্রীর মতো বাঁচি।’ দিনের পর দিন তাঁর সঙ্গে সহবাস করতে বাধ্য করত। পোস্ট অনুসারে, ঘটনাটি ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩ সালের।
পোস্টটি ব্যাপকভাবে নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একজন লেখেন, ‘ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। আদালত অভিযুক্ত আবিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া প্রমাণ করে যে বিচার ব্যবস্থা এই গুরুতর অপরাধটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।’ অন্য একজন বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমি মাননীয় বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ। এ ধরনের লোকদের একমাত্র স্থান জেলখানা।’
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই দোকানে গিয়েছিল কিছু কিনতে ১৩ বছরের দলিত নাবালিকা। সেখানে জলের মধ্যে মাদক মিশিয়ে তাঁকে খেতে দেয় ৩ বর্বর। নেশায় আছন্ন হয়ে পড়লে তাঁকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তারপরই চলন্ত গাড়িতেই শুরু হয় নারকীয় অত্যাচার। জলে মাদক থাকার ফলে অর্ধচেতন অবস্থায় হয়ে পড়ে নাবালিকা। ৩ জন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। পরে তারা ওই নাবালিকাকে ফ্লাইওভারের নিচ ফেলে পালিয়ে যায়।
https://x.com/SachinGuptaUP/status/1838201939609157757?t=VNTYtH7ZZyj5OWPKiZWXCQ&s=08
জ্ঞান ফিরলে সে যেভাবে হোক বাড়ি ফেরে। বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে ঘটনার কথা জানায়। তীব্র পেটের যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে নাবালিকার বাবা-মা তাঁকে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিত্সকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানায় যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তত্ক্ষণাত্ নাবালিকার বাবা পুলিসের দ্বারস্থ হয়।
]]>আরজি কর হাসপাতালে জুনিয়ার ডাক্তারকে ধর্ষণ করে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় (RG Kar Hospital Doctor Death) তোলপাড় দেশ। বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। একযোগে ঘটনার বিচার চাইছেন দেশের সমস্ত মানুষ। আর এর মধ্যেই ফের ধর্ষণের ঘটনা। ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ।
ঘটনাস্থল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ (Uttar Pradesh) । ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনাও। যদিও দ্রুত ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নাবালিকা বাড়িতে একাই ছিল। আর সেই সুযোগে বাড়িতে ঢোকে ধৃত ওই ব্যক্তি।
শুধু তাই নয়, ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। যদিও পরিবারে দাবি, ঘটনার সঙ্গে একজন নয়, অন্তত তিনজন জড়িত। নেশা জাতীয় কিছু জিনিস খাইয়ে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের। ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় পরিবারের তরফে।
অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। শুধু তাই নয়, দফায় দফায় ধৃত ওই ব্যক্তিকেও জেরা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ধৃত ওই ব্যক্তি ওই এলাকাতে স্থানীয় একটি কারখানাতেই কাজ করত। ফলে ওই নাবালিকার উপর নজর ছিল বলে জানতে পেরেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, বাড়িতে যে কেউ ঘটনার সময় ছিল না সেদিকেও অভিযুক্ত নজর রেখেছিল বলেও পুলিশ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন।
ঘটনার পরে গাজিয়াবাদের লিঙ্ক রোড পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। শুধু তাই নয়, ব্যাপক উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক ভাঙচুরও শুরু হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একের পর এক বাইক এবং রিক্সাতে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত। কিন্তু একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অবিলম্বে সবাইকে গ্রেফতার করে ফাঁসির সাজার ব্যবস্থা করতে হবে বলে দাবি বিওক্ষভকারীদের। ঘটনার জেরে ব্যাপক নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে গাজিয়াবাদের বিভিন্ন জায়গাত। বলে রাখা প্রয়োজন, আরজি কর কাণ্ডের পরেই ধর্ষণ রোধে কড়া আইন আনার দাবি উঠছে সর্বস্তরে।
]]>