আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে একটাই ধ্বনি শোনা গিয়েছিল, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস।” রবিবার সরস্বতী পুজোর দিন দক্ষিণ কলকাতার যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজেও একই স্লোগান শোনা গেল। এই কলেজে সরস্বতী পুজো বন্ধ করার জন্য ধর্ষণ-খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাঠগড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মহম্মদ সাব্বির আলি।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশের পাহারায় এই কলেজে পুজো হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের সামনেই বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন ছাত্রীরা। এই অভিযোগ ঘিরে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলেজ। পড়ুয়াদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব্বির। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছিলেন গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর কাছে রিপোর্টও তলব করেছিলেন তিনি। অভিযোগ তারপরও কাটেনি জট।
আজ কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ডে কলেজে ও যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী কলেজে বাগ্দেবীর পুজোর আরাধনা শুরু হয়। আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ঘটনাস্থল পরিদর্শন যান। সেইসঙ্গে যান দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়। তাঁরা কলেজে ঢুকতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়ারা। ছাত্রীদের পাশাপাশি বিক্ষোভে সামিল হন ছাত্ররাও। তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে দাবি জানান। পড়ুয়াদের মধ্যে চারজনের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনা হয়। এরপর কলেজ ছাড়েন শিক্ষামন্ত্রী। বিক্ষোভের মধ্যেই কলেজ ছাড়েন সাংসদ। তিনি অবশ্য পড়ুয়াদের গুরুতর অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে চাননি। মালা বলেন, “পুজোর দিনে বিচার চাই স্লোগান শুনব না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবরকম পুজো, উৎসবে উৎসাহ দেন। সেই মতো সব ছাত্র-ছাত্রী পুজোয় শামিল হবেন, এটাই চাইব। রবিবার অভিযোগ জানাল। আমি কথা বলে নেব। আমরা চাইব না পড়ুয়ারা রাজনীতিতে জড়াক।”
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ।

একই কলেজে তিন জায়গায় পুজো
রবিবার যোগেশ চন্দ্র চৌধুরী ল কলেজে তিন জায়গায় সরস্বতী পুজো হয়। কলেজের মধ্যে পুলিশের পাহারায় পুজো করেন আইন বিভাগের পড়ুয়ারা। একটি চেয়ারের উপর সরস্বতী প্রতিমা রেখে মেঝেতে বসে পুজো করেন অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায়। কলেজের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় দফতরের বাইরে পুজোর আয়োজন করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।
]]>
ছিল বেড়াল, হয়ে গেল রুমাল। অনেকটা তেমন ঘটনা!
আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে পুজোমণ্ডপে স্লোগান তোলা ধৃতদের জামিন হয়েছে শুক্রবার। বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে কলকাতা হাই কোর্ট ৯ জনকেই জামিন দিয়েছে।
তার ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধেবেলা তাঁরা অবশেষে মুক্তি পেলেন। কিন্তু ধৃতদের পরিচয় নিয়ে ধন্দ দেখা গিয়েছে। জামিনের সময় এক ধৃতের নাম বদলে গেল মুক্তির পর!
এমনই তথ্য তুলে ধরে সোশাল মিডিয়ায় সরব তৃণমূলের মিডিয়া কমিটির অন্যতম সদস্য কুণাল ঘোষ। জামিনের নথিতে যাঁর নাম সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, থানায় জামিনের নথি পেশের সময় তাঁর নামই হয়ে গেল আনিসুর রহমান! বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বুধবার অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন অভয়া-পরিক্রমায় বেরিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এক নামী পুজোমণ্ডপের সামনে স্লোগান তোলায় প্রতিবাদীদের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত তাঁদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তবে পরেরদিন ধৃতদের ৯ জনেরই জামিন মঞ্জুর করেন হাই কোর্টের অবকাশকালীন বিশেষ বেঞ্চের বিচারক শম্পা সরকার। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কোনও ধর্মীয় উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়নি, তাই ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে রাখার অর্থ নেই। তবে শুক্রবার সন্ধে নাগাদ জামিনের নির্দেশ এলেও প্রক্রিয়াগত কারণে সেদিন তাঁরা মুক্তি পাননি। শনিবার অবশেষে রবীন্দ্র সরোবর থানা জামিনের নথি দেখে ৯ জনকে ছেড়ে দেয়।
আর এই নথি নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা। তাতে জামিনের নথিতে ধৃতের নাম সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়, আর থানায় পেশ করা নথি অনুযায়ী, তাঁর নাম হয়ে গিয়েছে আনিসুর রহমান! এই নামবদলের নথি সংক্রান্ত তথ্য সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল ঘোষ। X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ”কী কান্ড। মন্ডপে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার; গতকাল হাইকোর্টে জামিন পেল সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়। আজ থানায় জামিনের নথি পেশের সময় নাম বেরলো আনিসুর রহমান। এখনও জটিলতা চলছে।” অভিযোগ, তিনি নিজের পরিচয় গোপন করেছেন।
তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য শুধু বলেন, ‘পুজো মণ্ডপে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের কাছে নিজের আসল নাম আনিসুর রহমান লুকিয়ে সাগ্নিক মুখোপাধ্যায় বলে কেন পরিচয় দিয়েছিলেন? সিপিএম মাত্রই কি জন্মগত চিটিংবাজ?’
‘সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়’-র নাম নেই রায়ের কপিতে
এমনিতে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের তরফে যে রায়ের কপি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে ‘সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়’ বলে কারও নাম নেই। হাইকোর্টের রায়ের কপিতে জহর সরকার, চন্দ্রচূড় চৌধুরী, কুশল কর, দীপ্তমান ঘোষ, ঋতব্রত মল্লিক, উত্তরণ সাহা রায়, আইসার রহমান, নাদিম হাজারি এবং সুজয় মণ্ডলের নাম আছে।
রায়ের কপিতে ‘আইসার রহমান’ আছে
যদিও প্রাথমিকভাবে যখন নয়জনকে গ্রেফতারির খবর ছড়িয়েছিল, তখন ধৃত হিসেবে জহর সরকার, চন্দ্রচূড় চৌধুরী, কুশল কর, দীপ্তমান ঘোষ, ঋতব্রত মল্লিক, উত্তরণ সাহা রায়, নাদিম হাজারি এবং সুজয় মণ্ডলের পাশাপাশি ‘সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়’-দের নাম উঠে এসেছিল। হাইকোর্টের রায়ের কপিতে বাকি আটজনের নাম থাকলেও ‘সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়’-র কোনও উল্লেখ নেই। রায়ের কপিতে ‘আইসার রহমান’ বলে একজনের নাম আছে।
]]>জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের মাঝেই ফের এক বিস্ফোরক অডিয়ো ক্লিপ (যদিও অডিয়ো ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি সকালের শিরোনাম ) প্রকাশ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষের। তাঁর দাবি, চিকিৎসকদের একটা অংশ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতেই চাননি। কুণাল অবশ্য অডিয়োর কথোপকথনে থাকা কোনও চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করেননি।
শুধু ক্যাপশনে তিনি লেখেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যাওয়ার আগে ধরনামঞ্চে জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকের অংশ। এটাও লাইভ হলে জনগণের বুঝতে সুবিধে হত। স্পষ্ট, একাংশ জটিলতার মানসিকতা নিয়েই গিয়েছিল। এই অডিও কারও টেলিফোনের কথোপকথন নয়। এটি ওঁদের মঞ্চে নিজেদের বৈঠকের আলোচনা।’
অডিও-টিতে একাধিক কণ্ঠস্বর রয়েছে। যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এর মধ্যে একপক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। অন্যপক্ষ যেততেন প্রকারেণ বৈঠক ভেস্তে দিতে চেয়েছিলেন। সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে লাইভ স্ট্রিমিং-এর দাবি স্রেফ অজুহাত মাত্র। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন বেশ কিছু অতি বাম চিকিৎসক। অন্যপক্ষ বৈঠকে বসতে রাজি ছিলেন। সমাধান সূত্র খুঁজতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, মুখ্যমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টার পরও কর্মবিরতির পথ থেকে সরে আসেননি জুনিয়র চিকিৎসকরা। এর পর যদিও সুপ্রিম কোর্ট কড়া পদক্ষেপ নেয়, তাহলে দায় ‘জেদি’ ডাক্তারদেরই নিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ডাক্তারদের একাংশ।
কী শোনা যায় প্রকাশিত সেই অডিয়ো ক্লিপে:
অডিয়োতে একজনকে বলতে শোনা যায় – কম করে ১৮-২০ জনকে কনট্যাক্ট করা হয়েছে। ৪ জন গিয়ে দিল্লিতে বসে আছে। আর কি জানতে চাস বল? লোখ ওখানে আইনজীবী খুঁজছে। কথা বলছে মিটিং করছে।
এরপর অপর একজনকে বলতে শোনা যায় – তুমি ভয় পাচ্ছ যে সুপ্রিম কোর্ট যদি আমাদের বিরুদ্ধে স্টেপ নেয় তাহলে ‘মাস’ আমাদের সঙ্গে থাকবে কি থাকবে না।
এরপর প্রথম ব্যক্তি ফের বলেন – সেদিন তো সুপ্রিম কোর্ট বলেনি যে সঙ্গে সঙ্গে কাজে যোগ দিতে হবে। ৯ তারিখ সুপ্রিম কোর্ট তোকে বলেছে (কাজে ফিরতে বলা হয়েছিল, নয়ত সরকার পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে জানানো হয়েছিল) তারপর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সব খেলছে। এরপর আজ তিনি মঞ্চে এসেছেন। এরপরও তুই যদি বলিস যে না আমি আমার জায়গা থেকে নড়ব না। যেমন আছি, তেমনই থাকব… তবে যদি আলোচনায় বসি তাহলে কর্মবিরতি ডিফেন্ড করা যাবে। যে আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তখন তাও ডিফেন্ড করা যাবে নয়ত কিন্তু করা যাবে না।
জবাবে দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেন – সুপ্রিম কোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে ১৭ তারিখ পদক্ষেপ করতে পারে, সেটা আমরা ভাবছি। এরকম না যে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে সেটা আগের শুনানিতে আমাদের বলেছে। সুপ্রিম কোর্ট আমাদের কাজে ফিরতে বলেছে। কাজে না ফিরলে আমাদের বিরুদ্ধে রাজ্য পদক্ষেপ করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলেনি। আমরা ভাবছি যে সুপ্রিম কোর্ট চার্জ করতে পারে।
এরপর সেই প্রথম ব্যক্তি বলেন – ‘মাস’ কি এটা বুঝতে পারছে যে এর আগে সরকার তিনটে ইমেল লিখেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মঞ্চে এলেন, সেগুলি কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে বলবে। এরপর ২৩ জনের পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে দিয়েছে। সেটাও আদালতে যে পেশ করা হতে পারে। তোকে… এই যতগুল ছেলের শাস্তি হবে, সেই দায়িত্ব তোকে নিতে হবে। কেন নিতে হবে না? তুই তো আলোচনার জায়গায় যেতেই যাস না। কি কি বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, সেটা বলে রাখা আমার দায়িত্ব।
]]>আর জি করে তরুণী চিকিত্সকের ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে উত্তাল গোটা দেশ। প্রায় ১ মাসেরও বেশি সময় কর্মবিরতিতে জুনিয়র ডাক্তাররা। স্রেফ মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধই নয়, জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টও। সময়সীমা ছিল, আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টা। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজে যোগ দিলেন না জুনিয়র ডাক্তাররা।
এদিন চিকিৎসকদের কাজে ফেরা ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুবিচারের দাবি নিয়েও মুখ খুললেন অভিনেত্রী ইশা সাহা (Isha Saha)।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরে একটি প্রখ্যাত স্বর্ণ বিপনিতে এসে টলিউডের অভিনেত্রী ইশা সাহা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন। আর জি কর হাসপাতালের তিলোত্তমার নারকীয় ধর্ষণ ও নৃশংস খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বললেন, “এবার পুজোর সেই উৎসাহ উধাও কলকাতায়। সকল রাজ্যবাসী এখন আর জি করের ঘটনার জন্য সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার। সবাই একেবারে মনমরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা কাজে ফিরুন দ্রুত এবং আমজনতা দুর্গাপুজোর আয়োজনে ফিরে আসুন। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে উনি জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার আবেদন করে ঠিকই করেছেন। তিনি সুবিচারের যে দাবি তুলেছেন, সাধারণ মানুষ তা নিয়েও কিছু বলুন”।
দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে চারিদিকেই আর জি করের মহিলা চিকিৎসক তিলোত্তমার নারকীয় হত্যাকান্ডের সুবিচারের জোরাল দাবি। তার সঙ্গেই রাজনৈতিক তরজা। মিটিং, মিছিলময় গোটা রাজ্য। এরই মাঝে অভিনেত্রী ইশা সাহা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কারণ সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনার আসল মামলা শুনানি হবে না। তা হবে লোয়ার কোর্টে। তাই আমার নজর আছে সেদিকেই’।

আসন্ন দুর্গোৎসব নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলার এই অভিনেত্রী বলেন,’এবার পুজোর কোনও গন্ধ নেই কলকাতাতে। সবাই অত্যন্ত বিষন্ন। এই ঘটনায় মন খারাপ সবার’। এই ঘটনা নিয়ে যে রাজনীতি চলছে তা নিয়ে ঈষা সাহা বলেন ,’বাঙালির রক্তে রাজনীতি। সুতরাং সবকিছুতেই যে রাজনীতি মিশে যাবে এটাই স্বাভাবিক’।
]]>“মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হল। অন্য সিনিয়র চিকিৎসকরা কাজ করছে বলে আমরা করব না, এটা হতে পারে না। আমরা জানি কি ঘটছে। চিকিৎসকরা সিস্টেমের বাইরে নয়। কাজে যোগ দিতে হবে। রোগীদের পরিষেবা দিতে হবে।তাদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। যদি কাজে যোগ না দেন তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হলে কাউকে দায়ী করবেন না।” গত একমাস ধরে চলা জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে এভাবেই জানিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়।
আদালতের বক্তব্য, চিকিত্সকেরা কাজে যোগ না দিলে তাদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার সম্ভবনা থাকবে।
আরজিকরের সামগ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কি কি করা হয়েছে, আগামী শুনানির দিন জানাবে রাজ্য। এরপরেই আইনজীবী কপিব সিব্বল জানান, চিকিৎসকদের লাগাতার কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় খারাপ প্রভাব পড়ছে। ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কাজে যোগ দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। এখন সারা রাজ্যে প্রতিবাদ হচ্ছে। রাজ্যকে, পুলিসকে আগাম জানানো হচ্ছে না। আন্দোলনের জেরে ৪১ পুলিস জখম হয়েছেন। একজন চোখ হারিয়েছেন।
এরপরেই সিজেআই বলেন, আমরা নির্দেশ দেব, চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ার। তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করবে না রাজ্য। কিন্তু, পাশাপাশি নির্দেশ সত্ত্বেও কাজে যোগ না দিলে রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে। আদালতে দাবি, চিকিৎসকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সিজেআই জানতে চান কী ধরণের থ্রেট বিচারপতি পার্দিওয়ালা বলেন, আপনাদের কাছে প্রমাণ থাকলে আমাদের দিন। চিকিৎসকদের বিশ্রাম নেওয়া ইত্যাদির জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
২৮ দিন ধরে রেসিডেন্ট ডক্টরসদের ধর্ণায় চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলেছে। রাজ্যকে চিকিৎসকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চিকিৎসকদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।
]]>তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট। বুধবার দুপুরে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর তরফে সংবাদিক বৈঠক থেকে অভিযোগ করা হয়, তাঁদের লালবাজার অভিযান নিয়ে কুণাল ঘোষ মিথ্যে অপপ্রচার করেছেন। বুধবার আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। কোনও রকম রাজনৈতিক সাহায্যে আমরা চাইছি না। যদি কোনও রাজনৈতিক দল সাহায্য করতেও চায় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের তরফ থেকে কোনও রাজনৈতিক বা সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমরা আন্দোলন অরাজনৈতিক ছিল ও আছে থাকব।”
ফ্রন্ট এর তরফে এদিন জুনিয়র চিকিৎসক কিঞ্জল নন্দ বলেন, “মঙ্গলবার একটি ছবি পোস্ট করে কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে আন্দোলনকারীদের তরফে ওনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল লালবাজারের অভিযান নিয়ে মধ্যস্থতার জন্য। আমরা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি, ওর সঙ্গে আমরা কোনও যোগাযোগ করিনি। ঘটনাচক্রে একটি সংবাদপত্রের অফিসে ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেখানে না জানিয়ে উনি আমাদের প্রতিনিধিদের ছবি তুলে অপপ্রচার করেছেন। এর নিন্দা জানাতেই এই সাংবাদিক বৈঠক।”
কিঞ্জল আরও বলেন, “সহপাঠীর বিচারের দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। আমাদের এই আন্দোলন শুরু থেকেই সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তাই কোনও রাজনৈতিক দল এর থেকে সুবিধা নিতে চাইলে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাবই।”
প্রসঙ্গত, এর আগে জুনিয়র চিকিৎসকদের লালবাজার অভিযানে যোগ দিতে গিয়ে গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়েছিল বিজেপির তমলুকের সাংসদ তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষকে। এবার তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধেও অপপ্রচারের অভিযোগে সরব হন তাঁরা। এ ব্যাপারে কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া অবশ্য এখনও জানা যায়নি।
]]>রবিবার বিকেলে মহামিছিলে বেরিয়েছিল নাগরিক সমাজ। কোনও বিশেষ দলের ডাকে নয়, সাধারণ মানুষ এতে পা মিলিয়েছিলেন নিজের তাগিদেই। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন এদিন আরজি কর নিয়ে বিচার চাইতে। কেন ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও সিবিআই কোনও ফলাফল সামনে আনতে পারল না, কেন ডাক্তার মেয়েটির রক্তাক্ত দেহ দেখার পরও বাড়ির লোককে বলা হল, মেয়ে আত্মহত্যা করেছে, কেন প্রমাণ নয়ছয় করল শাসক-ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষ, কেন রাজ্য সরকার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল দোষীদের, তা নিয়ে সকলের মনে হাজারও প্রশ্ন। আর এর সঠিক জবাব খুঁজতেই রাস্তায় নামা।
ধর্মতলার সামনে ধর্না মঞ্চে ছিলেন শোভন গঙ্গোপাধ্যায়, সোহিনী সরকার, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়রা। সকালে বাড়ি যাওয়ার আগে স্বস্তিকা ফেসবুকে লিখলেন, ‘বাড়ি ফিরছি। আপনারা যারা আজ ঘুমোলেন, কাল জাগবেন। লড়াই চালিয়ে যেতেই হবে। বিচার না আসা পর্যন্ত।’
ধর্না মঞ্চ থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন স্বস্তিকা আর সোহিনী দুজনেই। সেখান থেকে টলিউডের নতুন তৈরি ‘সুরক্ষা বন্ধু’ কমিটি ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এই উদ্যোগের ঘোষণা করেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। যিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত।
স্বস্তিকা প্রশ্ন তোলেন, ‘আরজি করের ঘটনার পর কেন অভিনেত্রীদের সুরক্ষার কথা ভাবা হচ্ছে। আগে কেন হয়নি? রাস্তায় আউটডোরে শ্যুটিং করতে গেলে, আমরা তো রাস্তায় হিসু করি। একটা বাথরুম নেই, মহিলাদের বাথরুম করার কোনও জায়গার ব্যবস্থা নেই আমাদের রাজ্যে, আমাদের দেশও নেই। আর এটা শুধু আমাদের (তারকাদের) কথা না, রাস্তা নিয়ে যে মহিলারা যাতায়াত করে, তাদের সবার কথা। কারণ ধাবার বাথরুমগুলো এত নোংরা থাকে যে, ওখানে হিসু করলেই ইউটিআই নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। আর হাসপাতালে ভর্তি হলেই ধর্ষণ হবে। তার চেয়ে বাবা যাদের চিনি বলব এদিক দেখ, ওদিক দেখ, আর আমরা রাস্তার ধারে শালীনতা বজায় রেখেই হিসু করতে বসে যাব। এই কথাগুলো কেন একটা ধর্ষণ হওয়ার পর ভাবছে সরকার। এতদিন ভাবল না। ‘
আর সোহিনী তোপ দাগলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দলের কেউ যদি বলেন যে আমাদের সুরক্ষিত রাখবেন, আমরা মেনে নেব না। আমরা মহিলা অভিনেত্রীরা নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিজেরাই করে নেব। আর গোটা পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে ঘোষণা করতে গেলে, সেটা সরকারের তরফ থেকে অফিসিয়ালি করতে হবে। ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে আমরা মহিলারা নিয়ম বানিয়ে নেব। শাসকদলের কেউ এসে সেই নিয়মগুলো বানাবে না।’
]]>মুক্তি পেলেও এখনই চাপ মুক্ত হচ্ছে না ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর অন্যতম আহ্বায়ক সায়ন লাহিড়ী (Sayan Lahiri) । কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আজ শনিবার দুপুর দুটোর আগেই তাঁর জেলমুক্তি ঘটে। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশে জানায় যে, শনিবার দুপুর দুটোর মধ্যেই সায়ন লাহিড়ীকে মুক্তি দিতে হবে।
সেই নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তি দেওয়া হল। বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে ব্যাঙ্কশাল আদালত থেকে মুক্তি দেওয়া হয় সায়নকে। অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য সরকার। আজ শনিবার এই সংক্রান্ত আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (Nabanna Abhijan) ।
ফলে সায়নকে ঘিরে আইনি জটিলতা অব্যাহত থাকল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে কিছুই জানা নেই বলে জানিয়েছেন সায়ন। তবে যে গণআন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, বোনের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর অন্যতম এই আহ্বায়ক। তবে এই বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এদিন আদাললত থেকে ছাড়া পেয়েই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান। বলেন, গণআন্দোলনের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী আমার এবং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেজন্য ধন্যবাদ। তবে নবান্ন অভিযানের ঘটনায় একাধিক জেলে বহু সতির্থ বন্দি অবস্থায় রয়েছে। বাকি ধৃতদের ছাড়ানোর জন্য লড়াই জারি থাকবে বলে জানান সায়ন। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
বলে রাখা প্রয়োজন, নবান্ন অভিযানকে (Nabanna Abhijan) কেন্দ্র করে মঙ্গলবার একেবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায়। গঙ্গার দুপার একেবারে উত্তপ্ত হয়ে অঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। শুধু তাই নয়, জল কামান, কাঁদানে গ্যাস প্র্যহ করতেও বাধ্য হন। পাল্টা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। পাথরের আঘাতে এক পুলিশ আধিকারিকের চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
এই প্রসঙ্গে সায়ন লাহিড়ী জানান, ঘটনা ‘খুব দুর্ভাগ্যজনক’। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যারা অশান্তি করেছে তাঁদেরকে পুলিশের চিহ্নিত করা উচিৎ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যারা কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এদিন জানান সায়ন।
]]>
আর জি কর কাণ্ডে কলকাতা পুলিশের অভিযোগে বড় পরিবর্তন ঘটল। সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাব (সিএফএসএল) থেকে পাওয়া বহু প্রতীক্ষিত ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে মর্মান্তিক তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ই ধর্ষণকারী বলে চিহ্নিত হয়েছেন। জানা গেছে, ধর্ষিতার শরীরে শুধুমাত্র সঞ্জয়ের সিমেন পাওয়া গিয়েছে, অন্য কারও সিমেন মিলেনি।
কলকাতা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবে পাঠিয়েছিল। ১৩ আগস্ট এই ল্যাবের মাধ্যমে রিপোর্টের দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় আর জি কর ধর্ষণ-খুনের তদন্তভার কলকাতা পুলিশের থেকে সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছিল। তাই ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সঞ্জয় রায়ের ধর্ষণে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এ ঘটনার পর থেকে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। সিবিআই এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করবে।
কারণ, ধর্ষিতার শরীরে সঞ্জয় ছাড়া আর কারও সিমেন মেলেনি বলেই বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ Central Forensic Science ল্যাবরেটারিতে ধর্ষণস্থল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পাঠিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। গত ১৩ অগস্ট বেনিয়াপুকুরের ওই কেন্দ্রীয় ল্যাবের দ্বারস্থ হয়েছিল লালবাজার। আর জি কর ইস্যুতে কলকাতা পুলিশের অনুরোধে তখন তারা জানিয়েছিল, এক সপ্তাহের মধ্যে এর রিপোর্ট মিলবে। কিন্তু ১৩ অগস্ট আর জি কর ধর্ষণ-খুনের তদন্তভার কলকাতা পুলিশের হাত থেকে CBI-য়ের হাতে তুলে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। স্বভাবতই DNA Test’র রিপোর্ট তাই কলকাতা পুলিশের কর্তাদের সম্মতির ভিত্তিতে বর্তমানে তদন্তের দায়িত্বে থাকা CBI-কে হস্তান্তর করেছে সেন্ট্রাল ল্যাব। তার থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে মর্মান্তিক ধর্ষণে সঞ্জয়ের ভূমিকা।
কীভাবে হয়েছে এই DNA Test?
ময়নাতদন্তের সময় খুন হওয়া চিকিৎসকের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ঘটনার রাতে ধৃত সঞ্জয়ের পোশাক, সেমিনার রুমের নীল রঙের বিছানার চাদর, লাল রঙের দু’টি কম্বল এবং ঘটনাস্থল থেকে বাজেয়াপ্ত একগুচ্ছ চুলের নমুনা-সবই DNA Test’র জন্য পাঠানো হয়েছিল সেন্ট্রাল ল্যাবে। তা বিশ্লেষণ করে ধর্ষক হিসেবে সঞ্জয়কেই চিহ্নিত করেছেন Central Forensic Science Lab’র বিজ্ঞানীরা। আর জি কর কাণ্ডে ডাক্তারদের একটা মহল প্রথমেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, তিলোত্তমার সঙ্গে গণধর্ষণও হয়ে থাকতে পারে। এই দাবি ঘিরেই আর জি কর কাণ্ডের যাবতীয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, কলকাতা পুলিশ দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তাই CBI-য়ের তদন্তকারী আধিকারিকদেরও এ ব্যাপারে অকাট্য আদালতগ্রাহ্য প্রমাণ প্রয়োজন ছিল। ওই সেমিনার রুম বা ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা নেই। নেই প্রত্যক্ষদর্শীও। ফলে এই রহস্যের কিনারার একমাত্র রাস্তা হয়ে উঠেছিল DNA Test। অবশেষে সেই DNA Test’র রিপোর্ট এসেছে CBI-য়ের হাতে।
CBI sources said that CFSL has sent the DNA Test Reports to CBI which reveals that Sanjay Rai is the Sole Culprit in the RG Kar case. Only his semen was recovered from Victim’s Body.
DNA Test supports the Version of Kolkata Police who arrested Sanjay Rai within 12 hours.
]]>