সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট বা এলএপিডি স্টাইলে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে জরুরি পুলিশি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলা জুড়ে চালু হচ্ছে ১১২ ডায়াল পরিষেবা। আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ভয়া ফান্ড ব্যবহার করে নির্বাচন পূর্ববর্তী বিজেপির সংকল্প পত্রের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে রাজ্যে চালু হলো নারী সুরক্ষার জন্য বিশেষ দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড। মোটর বাইকে চড়ে এই দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াডের মহিলা পুলিশ কর্মীরা ঘুরে বেড়াবেন মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। শুধু তাই নয় রাজ্যের প্রত্যেকটি থানায় আজ থেকেই উদ্বোধন হয়ে গেল ২৪ ঘন্টার মহিলা সহায়তা কেন্দ্র এবং সাইবার হেল্প ডেস্ক।
সাইবার হেল্প ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে সাইবার ক্রাইম যে ভয়ানক আকার ধারণ করেছে তা থেকে বাংলার মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি থানায় সাইবার হেল্প ডেস্ক চালুর পাশাপাশি ১৯৩০ হেল্পলাইন নম্বর চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নবান্ন সভার ঘরে রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহামারীর আকার নিয়েছে সাইবার প্রতারণা। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন প্রান্তিক মানুষরাও। প্রবীণরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, জনতার দরবারে জমা পড়েছে অভিযোগ। উপভোক্তারা সরকারি প্রকল্পের টাকাও খুইয়েছেন।

প্রত্যেক থানায় নারী সহায়তা কেন্দ্র
মহিলাদের যেকোন সমস্যায় প্রত্যেকটি থানায় আজ থেকেই চালু হয়ে গেল মহিলা সহায়তা কেন্দ্র। নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনো রকম সমঝোতা করবে না বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারী নিরাপত্তার কথার মাথায় রেখে মহিলা হেল্প ডেস্ক। অতি দ্রুততার সঙ্গে চালু হল মহিলা হেল্প ডেস্ক। নারী সুরক্ষা আমাদের সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার। নারী নিরাপত্তায় কোনও খামতি বরদাস্ত নয়। জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছে সরকার। রাজ্য পুলিশকে দিল্লি পুলিশ ও আধাসেনার মতো করতে চাই। কোনও অভিযোগ এলে এফআইআর করুন, কিছু লুকোবেন না। কেন্দ্র কোনও তথ্য চাইলে দিতে হবে। ব্যাধিকে আড়াল করলে কমে না, আরও বাড়ে। নিরাপত্তা ও কাজের মুক্ত পরিবেশ পাবে পুলিশ। তারাতলার বিপর্যয়ে পুলিশ, দমকল ও পুরসভা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ যেন কোন অভিযোগ পেলে তার ব্যবস্থা নিতে দেরি না করে বা লুকোতে চেষ্টা না করে সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমরা জানি পরিকাঠামো এবং পুলিশ কর্মীর অভাব আছে। সেটা স্বীকার করে আমি বলছি আপনারা দ্রুত অনলাইনে যাতে অভিযোগ নেওয়া যায় সেই চেষ্টা করবেন। নির্ভয়ার ঘটনা থেকে তিলোত্তমার ঘটনা পর্যন্ত আমরা যে তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি তা মাথায় রেখে আমরা আমাদের রাজ্যের নারী-কন্যাদের সুরক্ষা প্রদান করব। তার জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে চলবে।

চালু হচ্ছে ১১২ হেল্পলাইন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ছাড়াও পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই জরুরী বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে পুলিশি পরিষেবা দেওয়ার জন্য চালু রয়েছে ১১২ ডায়াল পরিষেবা। এবার পশ্চিমবঙ্গেও এই পরিষেবা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র, গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশে কোনো ঘটনার খবর পাওয়ার ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছে যায়। আর পশ্চিমবঙ্গে এই ক্ষেত্রে সময় লেগে যায় তিন ঘণ্টা! এই ছবি বদলাতে হবে। রাজ্য পুলিশের সুনাম ফেরাতে হবে।
]]>
প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে শহরে মাথাচাড়া দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। তার ফাঁদে পড়ে নারীরা বেশি প্রতারিত হন। যা কলকাতা পুলিশের মাথাব্যাথার কারণ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শহরের মহিলাদের জন্য সাইবার সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা জানান, সাইবার অপরাধকে রুখতে ও মহিলাদের নিরাপত্তায় নয়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শহরের মহিলাদের সুরক্ষার জন্য কলকাতা পুলিশ আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল সিপি মনোজ বর্মাকে। তিনি সকলকে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নারীদের নিরাপত্তায় নারীরাই এগিয়ে এসেছে। কলকাতা পুলিশে একটা বড় অংশ মহিলা অর্থাৎ পথে নেমে সুরক্ষার দায়িত্ব নিতে পারেন তাঁরাই।
তবে ইদানিং তো ভারচুয়াল জগতে অপরাধ বাড়ছে হু হু করে। অহরহ তার শিকার হচ্ছেন মহিলারা। তা নিয়ে কী ভূমিকা কলকাতা পুলিশের? এই প্রশ্নের উত্তরেই সিপি বলেন, ”আমরা একটা নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছি। সাইবার শাখার কাজ আরও বাড়ছে। জয়েন্ট সিপি (সাইবার) এবং জয়েন্ট সিপি (লিগাল) এই দুটি নতুন পদ তৈরি হচ্ছে। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকে অনুমোদন হয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তাতে কাজ আরও ভালোভাবে হবে।” এর পাশাপাশি সিপি আরও জানান, আইনি উপদেশের জন্য তৈরি হচ্ছে জয়েন্ট সিপি (লিগাল) পদটি। তাতে অপরাধের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে মহিলারা উপযুক্ত পরামর্শ পাবেন।
সাইবার উইং যেটা আছে সেটাকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হচ্ছে। কারণ, যেভাবে অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে উইং-কে ভাগ করা ছাড়া উপায় নেই। সাইবার সেলকে ছোট ছোট সেলে ভাগ করা হয়েছে। ডিসি সাইবার ছিলেন তার ওপর জয়েন্ট সিপি সাইবার পদ তৈরি করা হয়েছে। আমরা আশা করছি এইভাবে আমরা সাইবার অপরাধ অনেক কমাতে পারবো।এরই পাশাপাশি সাইবার অপরাধের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বাড়ছে সাইবার ক্রাইমের পাল্লায় পড়ে কোটি কোটি টাকা হারানোর সংখ্যা।
যদিও পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের তৎপরতায় অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা প্রতারকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মেনে তা প্রাপকের কাছে ফেরতও দিচ্ছে পুলিশ। কিন্তু তারপরেও অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই সেই টাকা ফেরত পেতে প্রচুর ঝামেলার সামনে পড়তে হচ্ছে প্রতারিতদের। আটকে যাওয়া টাকা দ্রুত ও বিনা বাধায় প্রতারিতদের ফেরত দিতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সম্প্রতি, এই বিষয়ে একটি বৈঠক হয়।
জানা গিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে।সাইবার অপরাধ রুখতে লালবাজারের সাইবার থানাকে নিয়ে ছ’টি শাখা গঠন করা হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মার নির্দেশ অনুযায়ী, সাইবার থানার সঙ্গে রয়েছে অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম শাখা, সাইবার নিরাপত্তা এবং সাইবার সেফটি শাখা, সাইবার প্রতারণা রিকভারি শাখা, সাইবার ফরেন্সিক ল্যাব এবং সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন ও সাপোর্ট শাখা।
এই শাখাগুলি শুক্রবার থেকেই কাজ শুরু করেছে।লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ছ’টি শাখা কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা-প্রধানের অধীনে কাজ করবে। সাইবার থানায় সাত জন ইনস্পেক্টর থাকবেন। তাদের সঙ্গে থাকবেন ১০ জন অফিসার এবং ২৫ জন কনস্টেবল। অর্গানাইজড সাইবার ক্রাইম শাখায় আছেন ৬ ইনস্পেক্টর এবং ২৫ জন অফিসার। তারা প্রয়োজনে স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ তৈরি করবেন। ওই গ্রুপ দ্রুত সাইবার অপরাধ চিহ্নিত করে তা ঠেকানোর কাজ করবেন। বাকি শাখাগুলির দায়িত্বে থাকছেন এক জন বা দু’জন করে ইনস্পেক্টর। সবমিলিয়ে সাইবার অপরাধ ঠেকাতে কোমর বেঁধে নামছে কলকাতা পুলিশ।

এসবের মাঝেই সিপিকে যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তা অবশ্য এড়িয়ে গিয়ে সিপির সংক্ষিপ্ত জবাব, ”মাননীয় হাই কোর্ট আমাদের কাছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তি নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন। আমরা সেই রিপোর্ট তৈরি করেছি, তা পেশ করব আদালতে। এর বেশি এখন কিছু বলা যাবে না।”
]]>
আরজি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শহরের রাস্তা নারীদের জন্য আদৌ নিরাপদ কিনা সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ৷ কাজের জন্য বাইরে বেরতে হবে ৷
এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি অ্যাপ চালু হয়েছে ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় ‘রাত্তিরের সাথী’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হবে ৷
Rattirer Sathi: ‘রাত্রিরের সাথী’ নামে একটি অ্যাপটি তৈরি করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৷ সেটি মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন রাজ্যের মহিলারা ৷ এই অ্যাপে অ্য়ালার্ম থাকবে ৷ বিপদে পড়লে সরাসরি পুলিশের সঙ্গে মহিলারা যোগাযোগ করতে পারবেন ৷ এই অ্যাপে থাকা বিশেষ অ্যালার্ম পুলিশের কাছে সংশ্লিষ্ট মহিলার বিপদ সংকেত পৌঁছে দেবে ৷ জিপিএস লোকেশন দেখে ওই মহিলাকে সাহায্য করা পুলিশের পক্ষে সহজ হবে ৷
SHE Teams QR Code: এটি তেলঙ্গানা পুলিশের অ্য়াপ যেটি মহিলা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয় ৷ এই অ্যাপ ব্যবহার করে মহিলারা সহজেই অভিযোগ জানাতে পারেন ৷ নারী সুরক্ষায় আর একটি হল Bharosa App ৷ এটি তেলঙ্গানা সরকারের মহিলা ও শিশু সুরক্ষা বিভাগ পরিচালিত ৷ যৌন নির্যাতন সম্পর্কিত অভিযোগ জানানো যায় এই অ্যাপের মাধ্যমে ৷ যেটি সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা পড়ে ৷
গার্হস্থ্য হিংসা অ্যাপ: করোনা কালের পর থেকে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে ৷ মহিলার পারিবারিক হিংসার সম্মুখীন হলে এই অ্যাপের মাধ্য়মে অভিযোগ জানাতে পারবেন ৷ প্রয়োজনে 8886640100-এর কাউন্সেলিং-এর সুবিধা পাবেন ৷ এটি তেলঙ্গানা পুলিশের Women’s Safety Wing দ্বারা পরিচালিত ৷
Bhoroxa: 2023 সালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অ্যাপটির উদ্বোধন করেছিলেন ৷ এই অ্যাপে থাকা বিশেষ নম্বর 181 ডায়াল করলে পুলিশের কাছে বিপদের বার্তা পৌঁছে যাবে ৷ এতে কল ব্যাক করার সুবিধা থাকায় সহজেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারবেন পুলিশ আধিকারিকরা ৷ এই অ্যাপে রয়েছে প্যানিক বোতাম ৷ এটি অসম পুলিশের অ্যাপ ৷
Kaaval Uthavi: এই অ্যাপটি 2022 সালে তামিলনাড়ু মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন চালু করেছেন ৷ এই অ্যাপের সাহায্যে নিরাপত্তা দেয় তামিলনাড়ু পুলিশ ৷ এটিতে 60টিরও বেশি ফিচার রয়েছে ৷ প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের নিরাপত্তা দিতেই এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে ৷ এই অ্যাপে থাকা ফিচার পুলিশের কাছে পৌঁছে দেবে বিপদ সংকেত ৷ মোবাইল থেকে সরাসরি 112,100, 101 নম্বর ডায়াল করে জরুরি পরিস্থিতি জাাননো যাবে ৷ এমারজেন্সি বটম ক্লিক করেও পুলিশের কাছে বিপদের বার্তা পৌঁছতে পারবেন মহিলারা ৷ তামিলনাড়ু পুলিশের এই অ্যাপ প্রায় 5 লক্ষ ডাউনলোড হয়েছে ৷ ব্যবহারের হারও বেশি ৷
Women Helpline 1090: মহিলাদের সাহায্য়ের জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকারে পক্ষ থেকে হেল্পলাইন নম্বর 1090 চালু করা হয়েছে ৷ যে কোনও প্রয়োজনে এই নম্বর ডায়াল করতে পারবেন মহিলারা ৷ মধ্যপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আরও একটি টোলফ্রি নম্বর 1091 চালু করা হয়েছে ৷ এই নম্বরে হোয়াটসঅ্য়াপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে ৷ এছাড়াও 0755-2443801 এবং 2420026 নম্বর গুলিতে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আছে ৷ মধ্যপ্রদেশ সরকারের MP e-cap অ্যাপ নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের জন্য় চালু করা হয়েছে ৷ 100 ডায়াল করে অভিযোগ জানানো যাবে ৷ এছাড়াও 4 প্রেস করে এসওএস মেসেজ পাঠনো যাবে ৷ বিপদ সংকেত 4 জন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাবে ৷ গুগল প্লে-স্টোর থেকে এই অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে ৷ 181 সিএম হেল্প লাইনে ফোন করেও মহিলারা তাঁদের অভিযোগ জানাতে পারবেন ৷
]]>পুলিশের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে সরকারি, বেসরকারি এবং ডিজিটাল স্পেসে মহিলাদের সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে গার্হস্থ্য হিংসা, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধ এবং জনসাধারণের অবমাননার মতো অপরাধের প্রতিরোধ নিশ্চিত হবে। পিঙ্ক মোবাইল প্রকল্পের লক্ষ্য নারীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। হাওড়া সিটি পুলিশের তিনটি বিভাগে তিনটি গোলাপী মোবাইল ভ্যান কাজ করবে।
এই মোবাইল ভ্যানগুলি শহর জুড়ে টহলদারি করবে বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, লেডিস হোস্টেল, কলেজ, বাজারের জায়গা সহ যেখানে মহিলাদের যাতায়াত রয়েছে। প্রতিটি মোবাইলে একজন মহিলা পুলিশ অফিসার এবং ২ জন করে মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। যখনই প্রয়োজন তখনই তাঁরা মেয়েদের এবং মহিলাদের সাহায্য করবেন। যে কোনও মহিলা সাহায্য চাইলে ১০০ বা ১১২ নম্বরে ডায়াল করতে পারবেন।
গোলাপী মোবাইল ভ্যান অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে যাবে। এই ব্যবস্থায় মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে। আসন্ন দুর্গাপূজার আগে এটি একটি উদ্যোগ যা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ তাদের মহিলা স্কোয়াডের মাধ্যমে মহিলাদের সাহায্য করার জন্য নিয়েছে৷ হাওড়ার পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী বলেন, পিঙ্ক মোবাইল সম্পূর্ণভাবে মহিলা দ্বারা পরিচালিত। নর্থ, সাউথ, সেন্ট্রাল এই তিনটি ডিভিশনে পিঙ্ক মোবাইল থাকবে।
প্রধানত যেখানে শপিং মল, হাসপাতাল, মহিলা স্কুল-কলেজে যেখানে মহিলারা বেশি থাকবেন সেখানে নজরদারি করা হবে। মহিলাদের প্রতি অপরাধ যাতে না হয় বা আটকানো যায় এবং দ্রুত যাতে এর ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য সমগ্র জেলায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও সিসিটিভি বাড়ানো, নিরাপত্তা কর্মী এবং পুলিশের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত যাতে করা যায় তার জন্য একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তার মধ্যে এই ব্যবস্থাটি অন্যতম। ২৪ ঘন্টা পিঙ্ক মোবাইল পরিষেবা পাওয়া যাবে। এখানে ১ জন মহিলা আধিকারিক এবং দু’জন মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। ১০০ বা ১১২ ডায়াল করে বা হাওড়া সিটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে। এর পাশাপাশি নারী শক্তি অ্যাপে কোনও অভিযোগ এলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
]]>বিপদে পড়া মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘মহিলা সুরক্ষা নম্বর’ চালু করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ২৪ ঘন্টা এই ফোন নম্বরের মাধ্যমে সরাসরি পুলিশের সাহায্য পেতে পারবেন বিপদে পড়া মহিলারা।
এরই পাশাপাশি দিঘা সহ জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে বিপদে পড়া পর্যটকরা সহ সাধারণ মানুষও এই ফোন নম্বরের মাধ্যমে পুলিশের সাহায্য পাবেন। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌমাদ্বীপ ভট্টাচার্য সাংবাদিক সম্মেলনে জানান “ মহিলা সুরক্ষা নম্বরটি হল ৯৮০০৭৭৫৯৯৯। এই ফোনে কল করার পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও সহজেই পুলিশের সহযোগিতা পেয়ে যাবেন বিপদে পড়া মহিলা, পর্যটক বা অন্যরা”।
পুলিশ সুপার জানান, “মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর জেলা প্রশাসন। সেই কারনেই জেলা জুড়ে পুলিশের স্পেশাল রেসপন্স টিমকে আরও বেশী করে সচল করা হয়েছে। দিনে অথবা রাত্রে যে কোনও সময় কেউ বিপদে পড়লে এই নম্বরে ফোন অথবা হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজের মাধ্যমেও পুলিশের সাহায্য পেতে পারেন”।
তিনি জানান, “হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে আরও কিছু সুবিধে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে ম্যাসেজ করলেই জেলার পুলিশ আধিকারীকদের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নম্বর পেয়ে যাবেন। এরপর আপনার প্রয়োজন মতো জায়গায় ফোন করে সহযোগিতা পাবেন”।
এরই পাশাপাশি জেলা জুড়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশের তরফে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, “জেলার যে সমস্ত জায়গায় ব্ল্যাক স্পট রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে যেখানে দুষ্কৃতীদের গতিবিধি বাড়িতে পারে সেই জায়গা চিহ্নিত করে উপযুক্ত বন্দোবস্ত রাখা হচ্ছে”। তিনি জানান, “মহিলাদের সুরক্ষার জন্য এর আগে কেবল জেলা স্তরে মহিলা বাহিনীর উইনার্স টিম ছিল। দিঘা ও হলদিয়াতেই তাঁরা কাজ করছিল। এবার মহকুমা ভিত্তিক এলাকাতেও উইনার্স টিম কাজ করবে”।
সাম্প্রতিক আরজিকরের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জেলার মেডিক্যাল কলেজ সহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতেও বিশেষ ভাবে নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তিনি জানান, “পর্যটন কেন্দ্র বিশেষ করে দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর প্রভৃতি এলাকাগুলিতে পুলিশ কিয়স্ক পুরোদস্তুর সচল করা হয়েছে। মহিলা সুরক্ষা নম্বরটি আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেখানে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে লাইফ জ্যাকেট মজুদ রাখা হচ্ছে। বিপজ্জনক জায়গায়গুলিতে সাইন বোর্ড দেওয়ারও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে” বলে জানিয়েছেন তিনি।

আগে দিঘা এবং হলদিয়াতে উইনার্স টিম ছিল। এবার কন্টাইতেও উইনার্স টিম কাজ শুরু করেছে। এগরা সহ অন্যান্য জায়গাতেও উইনার্স টিম চালু হয়ে যাচ্ছে।
]]>