মমতার আঁকা ছবি নিয়ে বিস্ফোরক অধীর! ‘চোর, জোচ্চোর আর চিটাররা কিনত’ মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘একসময় দিদির আঁকা ছবি কিনেছিল সব চোর, জোচ্ছোর আর চিটাররা। সারদা কাণ্ডের সময় আমরা দেখেছি তাঁর একটা ছবি কীভাবে কোটি টাকায় বিক্রি হতো!’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবেই তীব্র ব্যঙ্গ করলেন লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেই জামানা এখন চলে গেছে। আজ আর দিদির ছবির কোনো দর নেই, নেই তাঁর কবিতা বা গল্পের কদর। ক্ষমতা চলে গেছে, দলও গেছে। ফলে এখন আর বাংলায় তাঁর লেখা প্রবন্ধ বা কবিতা পড়ার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই।’
প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, তিনি সরকার থেকে কোনো পেনশন নেন না। পাশাপাশি, চলতি বছরে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের রয়্যালটির টাকাও তিনি এখনও পাননি বলে অভিযোগ জানান। এই ঘটনার পিছনে বিরোধী দল বিজেপি-র চক্রান্ত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেনশন না পাওয়া এবং বইয়ের রয়্যালটি আটকে থাকা সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল সুপ্রিমোর এই আশঙ্কা ও অভিযোগকে চরম কটাক্ষে বিঁধলেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
মমতার এই বক্তব্য সামনে আসতেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তোপ দাগেন অধীর চৌধুরী। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘তৃণমূল জামানায় দিদি নিশ্চয়ই বইয়ের রয়্যালটির টাকা পেয়েছেন। কারণ ওই বইগুলো তো কেউ স্বেচ্ছায় পড়ত না, জোর করে পড়ানো হতো! ঠিক যেমন ছোটদের মুখে না চাওয়া সত্ত্বেও জোর করে তেতো ওষুধ ঢেলে দেওয়া হয়, সেভাবেই ওই বইগুলো গেলানো হতো। তাঁর লেখা কবিতা পড়ার মতো লোক বাংলায় কতজন আছে, তা আমার জানা নেই।’

পেনশন বিতর্ক নিয়ে অধীর আরও বলেন, ‘পেনশন না পেলে তো টেনশন হবেই! দিদির উচিত পেনশন পাওয়ার চেষ্টা করা। তবে গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল দলটা যে পরিমাণে ‘ধান্দা’ করেছে, তারপর দিদি যদি এখন বলেন পেনশনের জন্য তাঁর অসুবিধা হচ্ছে, তবে সাধারণ মানুষ হাসাহাসি করবে। তাই দিদিকে বলব, আপনি টেনশন করবেন না, এরকম পেনশন আপনাকে অনেকেই দিয়ে যাবে।’