সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আরজিকর মেডিকেল কলেজের ঘটনা আবার একবার ফাইল খোলা হচ্ছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে। নির্যাতিতা চিকিৎসকের সঙ্গে সেই দিন যত ছিলেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ হবে। সেই রাতে যারা ছিল, মৃত্যুর পর কারা কেন এসেছিলেন, তাদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ আর জি কর মেডিকেল কলেজের যে মহিলা চিকিৎসককে খুন এবং ধর্ষণ করা হয়েছিল সেই ঘটনার দু বছর পূর্তির ঠিক আগেই এভাবে নতুন করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের ঘোষণা করে সাড়া ফেলে দিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানান, ‘আরজি কর তদন্তে তদন্তকারী দলকে সাহায্য করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের যারা যুক্ত, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত হলে সব জানা যাবে। যেহেতু স্বাস্থ্য দফতর ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ হবে। বিগত সরকার করেনি। কিন্তু আমরা করব।’
একইসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ‘আগামিকাল ৯ আগস্ট সারা রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অভয়ার স্মরণে নীরবতা পালন করা হবে। সকাল ১১টা থেকে ১১.০২ পর্যন্ত। এছাড়াও অভয়ার স্মরণে অনুষ্ঠান হবে। আমি আগামিকাল সন্ধ্যায় পানিহাটিতে যাব। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।’
৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ
পশ্চিমবঙ্গের ছোট এবং মাঝারি মাপের নার্সিংহোমগুলিতেও আয়ুষ্মান ভারত যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস সেলিম রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। শুক্রবার ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম’-এর সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ বৈঠকে হাজির ছিলেন বেসরকারি নার্সিংহোম সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল, সম্পাদক ডা. রাজীব পাণ্ডে।
এ দিন বৈঠকে অনলাইনেও হাজির ছিলেন বহু নার্সিংহোমের মালিক। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ১৬ আগস্ট সরকারিভাবে আয়ুষ্মান ভারত পরিষেবা উদ্বোধন হচ্ছে বাংলায়। এই প্রকল্পে এক হাজারটিরও বেশি অস্ত্রোপচার-চিকিৎসা বিনামূল্যে হয়। তার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট রেট। যে সমস্ত ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমের এনএবিএইচএল স্বীকৃতি রয়েছে তারা সংশ্লিষ্ট অস্ত্রোপচারের জন্য ১০ শতাংশ টাকা বেশি পাবে। প্রতিটি ছোট-মাঝারি নার্সিংহোমে মিলবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা। বাংলায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ যাতে আরও বাড়ে তা নিয়ে এ দিন বৈঠকে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।
![]()
বাংলায় এতদিন নার্সিংহোম খোলা ছিল ঝক্কির। হাজারো লাইসেন্স লাগে নার্সিংহোম খুলতে। একেকটি নার্সিংহোমে ডে কেয়ার সেন্টার খুলতে লাগে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট লাইসেন্স আবার আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন ব্যবহার করতে লাগে লাইসেন্স। পিসিপিএনডিটি নার্সিংহোমের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ কি না, তা খতিয়ে দেখে তবেই মেলে ফায়ার লাইসেন্স। এই সমস্ত লাইসেন্সের ঘুরতে হত আলাদা আলাদা দপ্তরে। এবার সমস্ত লাইসেন্সের জন্য ওয়ান উইনডো সিস্টেম চালু করছে স্বাস্থ্যদপ্তর।