মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ • ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • রাত ১১:০০
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
ভারত

Buxa Tiger Reserve-এ ফিরছে ‘ডুয়ার্স রানী’! অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গলে ৩ ঘণ্টার অভিযানে ধরা পড়ল বাঘিনী, গ্রিন করিডরে বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগ বনমন্ত্রীর

অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গলে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার অভিযানের পর উদ্ধার বক্সার বাঘিনী ডুয়ার্স রানী। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাওয়ের তত্ত্বাবধানে গ্রিন করিডর করে ফিরছে বাংলায়।

Buxa Tiger Reserve-এ ফিরছে ‘ডুয়ার্স রানী’! অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গলে ৩ ঘণ্টার অভিযানে ধরা পড়ল বাঘিনী, গ্রিন করিডরে বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগ বনমন্ত্রীর
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

Buxa Tiger Reserve-এ ফিরছে ‘ডুয়ার্স রানী’! অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গলে ৩ ঘণ্টার অভিযানে ধরা পড়ল বাঘিনী, গ্রিন করিডরে বাংলায় ফেরানোর উদ্যোগ বনমন্ত্রীর অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং টানটান উত্তেজনার অবসান। অসমের \[Assam\] কোকরাঝাড় \[Kokrajhar\]-এর জঙ্গলে দীর্ঘ তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হল বক্সা টাইগার রিজার্ভ \[Buxa Tiger Reserve\] থেকে পালিয়ে যাওয়া বাঘিনী ‘ডুয়ার্স রানী’কে। পাঁচটি জেসিবি এবং তিনটি প্রশিক্ষিত কুনকি হাতি দিয়ে জঙ্গলের চারদিক ঘিরে ফেলার পর ট্র্যাঙ্কুলাইজ করে বাঘিনীটিকে কাবু করেন বনকর্মীরা। এবার বিশেষ গ্রিন করিডর \[Green Corridor\] তৈরি করে তাকে ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গোটা অভিযানের তদারকিতে রয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। বাংলার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে যে বাঘিনীকে বক্সায় আনা হয়েছিল, মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার ভিনরাজ্যে চলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বনদপ্তরের অন্দরে। অবশেষে অসমের জঙ্গলে তাকে খুঁজে বের করে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে। পাঁচ জেসিবি, তিন কুনকি হাতি, থার্মাল ড্রোন—জোরদার অভিযান বাঘিনীকে উদ্ধার করার অভিযান মোটেও সহজ ছিল না। অসমের কোকরাঝাড়ের জঙ্গলে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বনকর্মীদের সঙ্গে বাঘিনীর লুকোচুরি। সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করার পর পরিকল্পনা করে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। অভিযানে ব্যবহার করা হয় পাঁচটি জেসিবি এবং তিনটি অভিজ্ঞ কুনকি হাতি। বাঘিনী যাতে জঙ্গলের অন্যত্র পালিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য আগে থেকেই বড় জাল নিয়ে প্রস্তুত ছিলেন বনকর্মীরা। বাঘিনীর অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয় থার্মাল ড্রোন \[Thermal Drone\]। বনদপ্তরের তরফে আগে জানানো হয়েছিল, নারায়ণপুর এলাকা থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে দোতনা গ্রামের একটি প্রাকৃতিক ছোট বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নিয়েছে ডুয়ার্স রানী। ড্রোনের মাধ্যমে ওই এলাকায় তার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি \[National Tiger Conservation Authority বা NTCA\]-র অনুমতি পাওয়ার পর বাঘিনীকে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আজ সন্ধ্যার মুখে ঘুমপাড়ানি গুলির সাহায্যে তাকে অচেতন করা সম্ভব হয়। এরপর বনদপ্তরের বিশেষ গাড়ি ঐরাবতে করে বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সেক্টর ইনচার্জ কুমার বিমল। এনটিসিএ এবং ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া \[Wildlife Institute of India\]-র বাঘ বিশেষজ্ঞরাও এই অভিযানে অংশ নেন। কীভাবে অসমে পৌঁছে গেল বক্সার বাঘিনী? ডুয়ার্স রানীর অসমযাত্রার পিছনে রয়েছে গত কয়েক সপ্তাহের দীর্ঘ অনুসন্ধান। গত ২ অক্টোবর বিহারের \[Bihar\] বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ \[Valmiki Tiger Reserve\] থেকে তিন বছর বয়সি এই বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে নিয়ে এসে ছাড়া হয়েছিল। বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসবাসের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়। কিন্তু নতুন পরিবেশে বেশিদিন থাকতে চায়নি সে। এক মাসের মধ্যেই বক্সার জঙ্গল ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের দিকে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান \[Raimona National Park\]-এর জঙ্গলে তার গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পারেন বনকর্মীরা। এরপর বাঘিনীটির অবস্থান নিয়ে শুরু হয় দুই রাজ্যের বনদপ্তরের সমন্বয়। একসময় রাইমোনার জঙ্গল ছেড়ে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে নারায়ণপুরের লোকালয় সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল সে। সেখানে শিকারও শুরু করে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা যায়। ফলে বনবস্তি সংলগ্ন এলাকায় মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এনটিসিএ-র অনুমতি পেতেই অসমে পৌঁছন বনমন্ত্রী অন্য রাজ্যের অভয়ারণ্যে থাকা বাঘিনীকে উদ্ধার করে বাংলায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি অনুমতির প্রয়োজন ছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গের বনদপ্তরের উদ্যোগে এই অভিযান চালানো সম্ভব ছিল না। অসম সরকারের সম্মতির পাশাপাশি প্রয়োজন ছিল ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির অনুমতি। সেই কারণেই অসম সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালানোর পর এনটিসিএ-র কাছে ট্র্যাঙ্কুলাইজেশনের অনুমতি চেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বনদপ্তর। গতকাল সেই অনুমতি এসে পৌঁছয়। অনুমতি পাওয়ার পরই বাঘিনীটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এবং উদ্ধার অভিযান তদারকি করতে অসমে পৌঁছে যান বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। সকাল থেকেই শুরু হয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি। অসমের বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নির্দিষ্ট জঙ্গল ঘিরে ফেলা হয়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর সফল হয় অভিযান। কী বললেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও? উদ্ধার অভিযানের সাফল্যের পর বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও জানান, কয়েকদিন আগে ডুয়ার্স রানী বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে এসেছিল। তাকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ধরার ক্ষেত্রে অসমের বনদপ্তর এবং কেন্দ্রীয় বনদপ্তরের আধিকারিকরা সবরকম সহযোগিতা করেছেন। বনমন্ত্রীর কথায়, দীর্ঘ তিন ঘণ্টার জোরদার অভিযানের পর বাঘিনীটিকে ধরা সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, ডুয়ার্স রানী অত্যন্ত চতুর এবং তার গতিবিধি বুঝে অভিযান চালানো সহজ ছিল না। তিনি আরও জানান, বাংলার গর্ব এবং ডুয়ার্সের গর্ব ডুয়ার্স রানীকে গ্রিন করিডর তৈরি করে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বক্সা টাইগার রিজার্ভে। বক্সার জঙ্গলে ফেরার অপেক্ষায় ডুয়ার্স রানী বাঘিনীকে উদ্ধার করা গেলেও এবার গুরুত্বপূর্ণ হল তাকে নিরাপদে বক্সার জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিশেষ গ্রিন করিডরের মাধ্যমে এই প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গোটা প্রক্রিয়ায় দুই রাজ্যের বনদপ্তরের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসবাসের পরিবেশ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ডুয়ার্স রানীর ফিরে আসা সেই পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে নতুন পরিবেশে সে কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আপাতত স্বস্তির খবর, উদ্ধার হয়েছে বাংলার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে যাওয়া বাঘিনী। এবার নিজের পরিচিত ঠিকানা বক্সার জঙ্গলে ফিরে নতুন করে বসতি গড়ার অপেক্ষায় ডুয়ার্স রানী। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আপাতত স্বস্তির খবর, উদ্ধার হয়েছে বাংলার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে যাওয়া বাঘিনী। এবার নিজের পরিচিত ঠিকানা বক্সার জঙ্গলে ফিরে নতুন করে বসতি গড়ার অপেক্ষায় ডুয়ার্স রানী।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক