রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ • ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • রাত ৯:৫৫
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
সোনারপুর

Sonarpur : গড়িয়ায় লিভ-ইন সম্পর্কে রক্তাক্ত পরিণতি! প্রেমিককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার তরুণী ও তাঁর মা

নিত্যদিনের ঝগড়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন, তারপর ভয়ংকর পরিণতি! গড়িয়ার ফ্ল্যাটে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। প্রেমিকা সঞ্চালিকা ও তাঁর মা মৌমিতা গ্রেপ্তার, খুনের নেপথ্যে কী কারণ?

Sonarpur : গড়িয়ায় লিভ-ইন সম্পর্কে রক্তাক্ত পরিণতি! প্রেমিককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার তরুণী ও তাঁর মা
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

নিত্যদিনের ঝগড়া, সম্পর্কের টানাপোড়েন, তারপর ভয়ংকর পরিণতি! গড়িয়ার ফ্ল্যাটে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। প্রেমিকা সঞ্চালিকা ও তাঁর মা মৌমিতা গ্রেপ্তার, খুনের নেপথ্যে কী কারণ?

কলকাতার উপকণ্ঠে গড়িয়ার একটি ফ্ল্যাট। চার দেওয়ালের মধ্যে চলছিল লিভ-ইন সম্পর্কের জীবন। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি যে এমন ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি প্রতিবেশীরা। মাঝেমধ্যেই ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, অশান্তি। আর সেই বিবাদের মধ্যেই ধারালো ছুরির কোপে প্রাণ গেল এক যুবকের! প্রেমিককে খুনের অভিযোগ উঠল লিভ-ইন পার্টনারের বিরুদ্ধে। শুধু তরুণীই নন, এই ঘটনায় তাঁর মাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কালীপুজোর আগের রাতে (Garia Murder Case) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকায়। মৃত যুবকের নাম সার্থক সরকার (Sarthak Sarkar)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিকা সঞ্চালিকা বসু (Sanchalika Basu) এবং তাঁর মা মৌমিতা বসু (Moumita Basu)। কী এমন ঘটেছিল ওই ফ্ল্যাটের ভিতরে, যার পরিণতি হল এমন মর্মান্তিক মৃত্যু? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

বারাসতের যুবক, গড়িয়ার ফ্ল্যাটে লিভ-ইন সম্পর্ক

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত সার্থক সরকারের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে। তবে কর্মসূত্রে বা ব্যক্তিগত কারণে গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। সেখানেই প্রেমিকা সঞ্চালিকা বসুর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন সার্থক।

স্থানীয় সূত্রে খবর, তাঁদের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। দু'জনের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা ও বিবাদ লেগে থাকত। মাঝেমধ্যেই ফ্ল্যাট থেকে অশান্তির আওয়াজ শোনা যেত বলেও দাবি স্থানীয়দের।

তবে সেই অশান্তি যে একদিন এমন ভয়াবহ রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।

শনিবার রাতে ফের বচসা, তারপরই ছুরির কোপ!

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শনিবার রাতে একই ফ্ল্যাটে ছিলেন সার্থক ও সঞ্চালিকা। কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে দু'জনের মধ্যে ফের বচসা শুরু হয়। কথাকাটাকাটি ক্রমশ বাড়তে থাকে।

অভিযোগ, সেই সময়ই ধারালো ছুরি নিয়ে সার্থকের ঘাড়ে আঘাত করেন সঞ্চালিকা। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। ফ্ল্যাটের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে রক্ত।

এরপর কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, কে বা কারা প্রথমে প্রতিবেশীদের খবর দিয়েছিলেন, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না

রক্তাক্ত সার্থককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গড়িয়া থানার পুলিশ। ফ্ল্যাটে তদন্ত চালানোর পাশাপাশি হাসপাতালেও পৌঁছন তদন্তকারীরা। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে ব্যবহৃত ধারালো ছুরিটিও। সেটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে।

প্রেমিকার পাশাপাশি গ্রেপ্তার মা-ও, কেন জড়ালেন মৌমিতা?

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে সঞ্চালিকার মায়ের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে। প্রেমিককে খুনের অভিযোগে প্রথমে সঞ্চালিকা বসুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর মা মৌমিতা বসুরও কোনও যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের।

সেই সন্দেহের ভিত্তিতেই তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ভূমিকা ছিল মৌমিতা বসুর, তিনি ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে উপস্থিত ছিলেন কি না, কিংবা ঘটনার আগে বা পরে কোনওভাবে সাহায্য করেছিলেন কি না, তা এখনও তদন্তের বিষয়।

দু'জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে ঘটনার সম্পূর্ণ ধারাবিবরণী জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

শুধুই সম্পর্কের অশান্তি, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, সার্থক ও সঞ্চালিকার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মনোমালিন্য চলছিল। কিন্তু শুধুমাত্র সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই কি এমন চরম ঘটনা? নাকি এই ঘটনার পিছনে রয়েছে আরও কোনও কারণ?

সার্থকের পরিবারের সদস্যদেরও খবর পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সম্পর্কের অতীত, সাম্প্রতিক বিবাদ এবং ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।

গড়িয়ার এই ঘটনায় এখন একাধিক প্রশ্ন সামনে। কী কারণে শনিবার রাতে বিবাদ চরমে উঠল? ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে আর কেউ ছিলেন কি? আর সঞ্চালিকার মায়ের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহের পিছনে ঠিক কী তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা?

একটি লিভ-ইন সম্পর্কের এমন রক্তাক্ত পরিণতি ঘিরে শোরগোল গড়িয়ায়। এখন পুলিশের তদন্তেই পরিষ্কার হবে, এই খুনের পিছনে শুধুই সম্পর্কের সংঘাত, নাকি রয়েছে আরও গভীর কোনও রহস্য!