শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ • ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ • রাত ৯:৪৭
কলকাতা সারাদিন সব খবর • সবার আগে
বিজনেস

Suvendu Industry Policy : 'শিল্পপতিদের কাছে তোলাবাজির অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার' পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা শুভেন্দুর, শিল্পপতিদের কাছে তোলাবাজির অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

Suvendu Industry Policy : 'শিল্পপতিদের কাছে তোলাবাজির অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটে গ্রেপ্তার' পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
ছবি: কলকাতা সারাদিন • কলকাতা

'শিল্পপতিদের কাছে তোলাবাজির কোন অভিযোগ পেলেই ১৫ মিনিটের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।' পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে রাজ্যের নয়া শিল্প নীতি ঘোষণা করে এভাবেই শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার জন্য হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ টানতে শুধু আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করলেই হবে না, শিল্পের অনুকূল পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সেই বার্তাই শিল্পমহলকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি জানালেন, শিল্প সংস্থা বা ব্যবসায়ীদের উপর কোনও ধরনের তোলাবাজি বরদাস্ত করবে না সরকার। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সহযোগিতার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে বিনিয়োগ করতে এসে কোনও শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে যাতে অযথা সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

শিল্প স্থাপন থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহণ, প্রতিটি ক্ষেত্রে বাধাহীন পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শিল্পের পথে তোলাবাজি যে বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে, সেই প্রসঙ্গেই কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর ১৫ মিনিটের গ্রেফতারির ঘোষণাকে শিল্পমহলের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিন শিল্পমহলের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, যাঁদের বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআইয়ের মামলা রয়েছে কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের টাকা আত্মসাৎ ও ব্যাঙ্ক জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও কাজের সম্পর্ক রাখবেন না তিনি।

যদিও ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় থাকবে। শুভেন্দুর কথায়, সামনাসামনি দেখা হলে নমস্কার বা হ্যালো বলবেন, কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে কাজের সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তবে এই প্রসঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট শিল্পপতি বা শিল্পগোষ্ঠীর নাম করেননি মুখ্যমন্ত্রী। ফলে তাঁর এই অবস্থান কাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

নয়া শিল্পনীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করলে নিয়োগকর্তার ইপিএফের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপনে বাড়তি আর্থিক সহায়তা এবং বড় প্রকল্পের জন্য বিশেষ সুযোগের কথাও রয়েছে নীতিতে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে শিল্পমহলের কাছে দু’টি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

একদিকে বিনিয়োগের জন্য আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক সহায়তা, অন্যদিকে তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান। রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে এই দুই বিষয়কে সামনে রেখেই এগোতে চাইছে সরকার।

একই সঙ্গে ডানকুনি ও দুর্গাপুরের টোল প্লাজায় বেআইনি টাকা আদায় বন্ধ হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। টোল প্লাজাগুলিতে নজরদারির জন্য সল্টলেকের কন্ট্রোল রুমের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন টোল প্লাজার উপর নজর রাখা হচ্ছে। পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

👁 এই সংবাদটি পড়েছেন ০ জন পাঠক