বেঙ্গালুরুর জমকালো ‘Toxic’ ট্রেলার লঞ্চে একেবারেই চুপচাপ থাকতে চাননি তারা সুতারিয়া। ৮ অগস্টের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট এখন রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রে। চিতাবাঘের ছাপের দীর্ঘ গাউনে পুরনো হলিউডের গ্ল্যামারের সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনের মিশেল ঘটিয়ে হাজির হন তারা। মুহূর্তেই তাঁর ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয় social media buzz, আর ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে আসে অভিনেত্রীর নতুন glamorous look।
‘Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups’-এর ট্রেলার লঞ্চ ছিল তারকাখচিত। যশ, কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, রুক্মিণী বসন্ত, হুমা কুরেশির মতো শিল্পীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এমনিতেই ছিল নজরকাড়া। তার মধ্যেই তারা সুতারিয়ার পোশাক আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও তাঁর leopard-print gown-কে অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ফ্যাশন মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
চিতাবাঘ ছাপের গাউনে রেট্রো গ্ল্যামার
তারা বেছে নিয়েছিলেন অফ-শোল্ডার, ফ্লোর-লেংথ leopard-print gown। পোশাকটির নকশায় ছিল পুরনো দিনের হলিউডের ছোঁয়া, আবার কাট ও সিলুয়েটে ছিল আধুনিকতার স্পষ্ট উপস্থিতি। গাউনের সঙ্গে অতিরিক্ত সাজসজ্জায় না গিয়ে অভিনেত্রী বরং পুরো লুকটিকে ভারসাম্যপূর্ণ রেখেছেন।
গলার কাছে chunky gold chain necklace এবং কেন্দ্রে থাকা বড় pearl-like detail তাঁর সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সঙ্গে ছিল গোল্ডেন earrings এবং কয়েকটি আংটি। অর্থাৎ পোশাকের প্রিন্ট যেখানে নিজেই বেশ নজরকাড়া, সেখানে গয়নার ব্যবহার রাখা হয়েছে পরিমিত।
চুলের স্টাইলেও ছিল রেট্রো আবহ। গভীর side-part করে glossy waves-এ চুল সাজিয়েছিলেন তারা। কপালের উপর দিয়ে সামনের অংশটি সুন্দরভাবে swept back, আর কাঁধের কাছে নেমে এসেছে বড় বড় smooth curls। মেকআপেও সেই vintage mood বজায় রেখেছেন তিনি—winged eyeliner, defined brows, mascara, bronzed complexion এবং নরম glow।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/05/kim-kardashian-glamorous-bikini-photoshoot-viral-look/
ঠোঁটে brown-toned nude shade ব্যবহার করে পুরো সাজে এনেছেন sophisticated finishing touch। সঙ্গে matching leopard-print pointed-toe heels। সব মিলিয়ে এটি ছিল এমন একটি glamorous look, যেখানে নজরকাড়া ফ্যাশন এবং পরিমিত সৌন্দর্য—দুইয়েরই ভারসাম্য ছিল।
‘Toxic’-কে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা
তারা সুতারিয়ার এই নতুন লুকের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। ২০১৯ সালে ‘Student of the Year 2’ দিয়ে হিন্দি ছবিতে অভিনয় শুরু করার পর ‘Marjaavaan’, ‘Tadap’, ‘Heropanti 2’, ‘Ek Villain Returns’ এবং ‘Apurva’-র মতো ছবিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর ফিল্মোগ্রাফিতে ‘Toxic’ এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
‘Toxic’-এ যশের সঙ্গে অভিনয় করছেন তারা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন গীতু মোহনদাস এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, রুক্মিণী বসন্ত ও হুমা কুরেশিও। ছবিটি ২৬ অগস্ট ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য নির্ধারিত বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রেলার লঞ্চে যশও জানান, ছবির শুটিংয়ে প্রায় ২০০ দিন সময় লেগেছে। একই অনুষ্ঠানে তারা সুতারিয়া ‘Toxic’-কে নিজের জন্য বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেন।

ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা
তারার পোশাক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নানা ধরনের fan reactions দেখা যাচ্ছে। কেউ তাঁর রেট্রো-inspired styling-এর প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার animal-print outfit নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, তারকাদের ফ্যাশন পোস্টে যেমন প্রশংসা থাকে, তেমনই ভিন্নমতও দেখা যায়।

এই কারণেই তাঁর ছবি এখন viral photoshoot-এর মতো করে বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘুরছে এবং trending on Instagram আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে bold saree look থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক red-carpet fashion—ভারতীয় অভিনেত্রীদের পোশাক নিয়ে দর্শকের আগ্রহ যে ক্রমেই বাড়ছে, তারার এই লুকও সেই পরিবর্তিত ফ্যাশন সংস্কৃতিরই একটি উদাহরণ।

ফ্যাশন, তারকা-ইমেজ ও ডিজিটাল যুগ
বর্তমান entertainment news-এ কোনও ছবির প্রচার শুধু ট্রেলার বা পোস্টারে সীমাবদ্ধ নয়। তারকার fashion statement-ও হয়ে উঠছে promotional strategy-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি memorable look মুহূর্তেই Instagram, Facebook এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আলোচনার বিষয় হয়ে যেতে পারে।

তারা সুতারিয়ার ‘Toxic’ ট্রেলার লঞ্চের উপস্থিতিও তারই উদাহরণ। ছবির প্রচারের পাশাপাশি তাঁর ফ্যাশন পছন্দ তৈরি করেছে আলাদা social media buzz। এখন নজর থাকবে ২৬ অগস্ট ছবিটি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার দিকে।

তার আগেই অবশ্য তারা সুতারিয়ার leopard-print glamorous look তাঁকে আরও একবার বিনোদন দুনিয়ার শিরোনামে নিয়ে এসেছে।
]]>রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
টলিউড (Tollywood) আর শুধু তাঁর গন্তব্য নয়। একদিকে বাংলাদেশ (Bangladesh Film Industry), অন্যদিকে তেলুগু ইন্ডাস্ট্রি (Telugu Cinema)—দুই ভিন্ন মঞ্চে একসঙ্গে নিজের ছাপ ফেলতে প্রস্তুত অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার (Madhumita Sarcar)। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বাংলার জনপ্রিয় ‘পাখি’ এবার দক্ষিণী দর্শকদের মন জয় করতে চলেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রথম তেলুগু ছবিতেই দেখা যাবে ‘বাহুবলী’ (Baahubali)-খ্যাত অভিনেতা রাকেশ ভারে (Rakesh Varre)-র বিপরীতে। ছবির প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই অনুরাগীদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।
বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচালক মহম্মদ ইকবালের (Mohammad Iqbal) ছবি ‘গুলশানের চামেলি’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত মধুমিতা। এই ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে এক যৌনকর্মীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় এটিই তাঁর প্রথম কাজ, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
https://kolkatasaradin.com/2026/04/19/nusrat-jahan-orange-bikini-photo-viral-social-media-reaction/
ঠিক সেই সময়েই অভিনেত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন আরেকটি সুখবর। প্রকাশ্যে এল তাঁর প্রথম তেলুগু সিনেমা ‘মায়া লেডি’ (Maya Lady)-র ফার্স্ট লুক। একেবারে নতুন অবতারে ধরা দিলেন তিনি, আর সেই ছবিই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়।
এই ছবিতে মধুমিতার বিপরীতে রয়েছেন তেলুগু অভিনেতা ও প্রযোজক রাকেশ ভারে। ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’ এবং ‘বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন’-এ ‘সেতুপতি’ চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে তিনি দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিত। রাজমাতা শিবগামীর আদেশ অমান্য করার পর অমরেন্দ্র বাহুবলীর হাতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড—সেই স্মরণীয় দৃশ্য আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে।
তবে ‘মায়া লেডি’-তে একেবারে অন্য স্বাদের গল্প অপেক্ষা করছে। পরিচালক প্রশঙ্করের (Prashankar) এই ছবি শুধু রোম্যান্টিক নয়, বরং একটি রোম্যান্টিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। প্রেম, রহস্য, অ্যাকশন এবং অপ্রত্যাশিত টুইস্ট—সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য থাকছে পূর্ণ বিনোদনের প্রতিশ্রুতি।
ছবিটির প্রযোজনা করেছে রাকেশ ভারের নিজস্ব সংস্থা ক্রেজি অ্যান্টস প্রোডাকশন। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বিশাল চন্দ্রশেখর (Vishal Chandrasekhar), যাঁর সুর ইতিমধ্যেই দক্ষিণী সিনেমাপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

মজার বিষয় হল, এই ছবির নাম শুরুতে ছিল ‘ওকে ওকা আশা’। পরে নির্মাতারা ছবির বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মায়া লেডি’। সেই নতুন নামেই এবার মুক্তির অপেক্ষায় ছবিটি।

ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বোঝে না সে বোঝে না’-র ‘পাখি’ চরিত্র থেকেই দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন মধুমিতা। এরপর বড়পর্দা, ওটিটি এবং একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘চিনি’, ‘কুলের আচার’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

এখন তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ যেন নতুন উচ্চতায়। একদিকে বাংলাদেশে বড় বাজেটের সিনেমা, অন্যদিকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে অভিষেক—সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল মধুমিতা সরকারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় টার্নিং পয়েন্ট হতে চলেছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—বাংলার দর্শকের প্রিয় ‘পাখি’ কি এবার দক্ষিণী বক্স অফিসেও নিজের ডানা মেলতে পারবেন? উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ‘মায়া লেডি’-র মুক্তির দিনেই।
]]>দক্ষিণী ছবির দর্শকদের জন্য এ যেন এক বাড়তি চমক! মুক্তির আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল ‘নেনু রেডি’ [(Nenu Ready)] ছবির প্রথম গান ‘কোঞ্চেম কোঞ্চেম’ (Konchem Konchem)। আর এই গানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ? বলিউড অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি [(Nargis Fakhri)]-র ঝলমলে উপস্থিতি, যা ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
পরিচালক ত্রিনাধা রাও নাক্কিনা [(Thrinadha Rao Nakkina)] পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন হাভিশ [(Havish)] এবং কাব্য থাপার [(Kavya Thapar)]। ছবির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে Harniks India LLP-এর ব্যানারে কোনেরু সত্যনারায়ণ ও নিখিলা কোনেরু। ছবির টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই আগ্রহকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিল প্রথম গান।
‘কোঞ্চেম কোঞ্চেম’ মূলত একটি রোম্যান্টিক ট্র্যাক। তবে শুধু প্রেম নয়, গানে রয়েছে গ্ল্যামার, আকর্ষণ এবং স্টাইলের মিশেল। গানটির সুর করেছেন জনপ্রিয় সুরকার মিকি জে মেয়ার [(Mickey J Meyer)]। তাঁর সুরে নরম, মিষ্টি অথচ আবেদনময় আবহ তৈরি হয়েছে, যা গানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
গানের কথা লিখেছেন সরস্বতীপুত্র রামজোগাইয়া শাস্ত্রী [(Saraswathiputra Ramajogayya Sastry)]। তাঁর লেখা কথায় প্রেমের অনুভূতি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে খুনসুটি আর মধুর রোম্যান্সের ছোঁয়া। অন্যদিকে, গায়িকা সমীরা ভরদ্বাজ [(Sameera Bharadwaj)]-এর কণ্ঠ গানটিকে আরও আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
তবে গানটির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় নিঃসন্দেহে নার্গিস ফাখরি [(Nargis Fakhri)]। বলিউডে নিজের পরিচিতি তৈরি করার পর এবার তিনি বিশেষ উপস্থিতির মাধ্যমে তেলুগু ছবিতে আত্মপ্রকাশ করলেন। তাঁর স্টাইলিশ উপস্থিতি ও আকর্ষণীয় নাচ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, হাভিশ [(Havish)] ও কাব্যা থাপার [(Kavya Thapar)]-এর অনস্ক্রিন রসায়নও দর্শকদের নজর কেড়েছে। গানের প্রতিটি ফ্রেমে তাঁদের স্বাভাবিক অভিনয় ও রোম্যান্টিক মুহূর্ত ছবির প্রতি কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই জুটিই ছবির অন্যতম বড় শক্তি হতে চলেছে।
প্রথম গান প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলছে। দর্শকদের একাংশের মতে, সুর, চিত্রায়ন, নাচ এবং গ্ল্যামারের সঠিক মিশ্রণ এই গানকে মুক্তির প্রথম দিন থেকেই আলোচনার শীর্ষে তুলে দিয়েছে।
শুধু প্রধান জুটি নয়, ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা ব্রহ্মানন্দম [(Brahmanandam)], ভেন্নেলা কিশোর [(Vennela Kishore)], মুরলী শর্মা [(Murali Sharma)], শ্রীলক্ষ্মী [(Srilakshmi)] এবং ভিটিভি গণেশ [(VTV Ganesh)]-কে। ফলে বিনোদনের দিক থেকেও ছবিটি দর্শকদের বড়সড় প্যাকেজ দিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিটি যথেষ্ট শক্তিশালী। সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে রয়েছেন নিজার শাফি [(Nizar Shafi)], সম্পাদনা করছেন প্রবীণ পুডি [(Praveen Pudi)] এবং গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন বিক্রান্ত শ্রীনিবাস [(Vikranth Srinivas)]। ফলে নির্মাতাদের দাবি, ‘নেনু রেডি’ শুধু একটি রোম্যান্টিক ছবি নয়, বরং সম্পূর্ণ বিনোদনের প্যাকেজ হিসেবেই দর্শকদের সামনে আসবে।
এখন প্রশ্ন একটাই—প্রথম গান যদি এতটা সাড়া ফেলে, তাহলে ট্রেলার ও ছবি মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কতটা বিস্ফোরক হতে পারে? সেই উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।
]]>রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
ফুটবলের মাঠে তিনি যতটা আলোচনায় থাকেন, মাঠের বাইরেও তাঁদের জীবন ততটাই কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। আর এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন জর্জিনা রদ্রিগেজ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে এক সাধারণ পারিবারিক গলফ ডে-ও কীভাবে বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যেতে পারে, তারই আরও এক নজির মিলল।
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ (Georgina Rodríguez) সম্প্রতি পরিবারের সঙ্গে গলফ কোর্সে সময় কাটান। সেই মুহূর্তের একগুচ্ছ ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। তবে ছবির মূল আকর্ষণ ছিলেন জর্জিনা নিজেই।
গলফের প্রচলিত পোশাকের বদলে গোলাপি রঙের একটি স্টাইলিশ টু-পিস পোশাকে দেখা যায় তাঁকে। জানা গিয়েছে, এই পোশাক তাঁর নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড Mimoa-র সংগ্রহের অংশ। ফলে পারিবারিক অবসরের এই মুহূর্তকেই তিনি নিজের ব্র্যান্ড প্রচারের অন্যতম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় জর্জিনা লেখেন, “Mimoa এমন একটি ব্র্যান্ড, যা জীবনের প্রতিটি চলমান মুহূর্ত, পরিবার আর স্মরণীয় স্মৃতির সঙ্গে পথ চলার জন্য তৈরি।” এই বার্তার মধ্যেই ছিল তাঁর ব্র্যান্ডের দর্শন এবং ব্যক্তিগত জীবনের আবেগের মিশেল।
ছবিগুলিতে দেখা যায়, গলফের পাটিং গ্রিনে অনুশীলন করছেন রোনাল্ডো এবং জর্জিনা। কখনও সন্তানদের সঙ্গে হাসিখুশি সময় কাটাচ্ছেন, আবার কখনও নিরিবিলি পরিবেশে একান্ত মুহূর্ত উপভোগ করছেন। মাঠের বাইরের এই পারিবারিক রূপই ভক্তদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে জর্জিনার অনুসরণকারীর সংখ্যা ৭৬ মিলিয়নেরও বেশি। ফলে তাঁর যে কোনও পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই ছবিগুলিও তার ব্যতিক্রম নয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টে ভিড় জমে লাখ লাখ লাইক এবং হাজার হাজার মন্তব্যে। অনেকেই তাঁর ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ এই দম্পতির পারিবারিক বন্ধনেরও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) এবং জর্জিনা রদ্রিগেজ (Georgina Rodríguez)-এর প্রেমের গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। ২০১৭ সালে মাদ্রিদের একটি Gucci স্টোরে কাজ করার সময় প্রথম পরিচয় হয়েছিল তাঁদের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমে বদলে যায়, আর তারপর থেকেই তাঁরা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত সেলিব্রিটি দম্পতি।
এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান—আলানা মার্টিনা এবং বেলা এসমেরাল্ডা। পাশাপাশি রোনাল্ডোর আরও তিন সন্তানের দেখভালের দায়িত্বও জর্জিনা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন। ফলে শুধু সঙ্গী হিসেবেই নয়, একজন দায়িত্বশীল মা হিসেবেও তিনি নিয়মিত প্রশংসা পান।
গত বছর রোনাল্ডো জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেই সময় তিনি যে হীরের আংটি উপহার দিয়েছিলেন, তার মূল্য ছিল প্রায় £3.7 মিলিয়ন। এই আংটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দামি সেলিব্রিটি এনগেজমেন্ট রিংগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়।

একদিকে মাঠে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে এখনও খবরের শিরোনামে থাকেন রোনাল্ডো, অন্যদিকে জর্জিনা ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ফ্যাশন, ব্যবসা, ব্র্যান্ডিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রভাব এখন আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। ফলে তাঁর প্রতিটি পোস্টই এখন কেবল ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়, বরং এক সফল ব্যবসায়িক কৌশলেরও অংশ।

পরিবার, ফ্যাশন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের এই মেলবন্ধনই আবারও প্রমাণ করল—রোনাল্ডো-জর্জিনা জুটি শুধু ফুটবলপ্রেমীদের নয়, গোটা বিশ্বের লাইফস্টাইল অনুরাগীদের কাছেও সমান আকর্ষণের কেন্দ্র। এখন প্রশ্ন একটাই—বিয়ের দিনক্ষণ কবে ঘোষণা করবেন এই তারকা জুটি? সেই অপেক্ষাতেই কোটি কোটি অনুরাগী।
]]>শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ছাত্র আন্দোলন কি শুধুই প্রতিবাদের মঞ্চ, নাকি তার আড়ালেও চলছে অন্য খেলা? এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে দিলেন অভিনেত্রী (Akanksha Puri)। তাঁর এক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন তাঁর দাবি।
(Bigg Boss OTT)-খ্যাত অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা পুরী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, চলতি ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁর পরিচিত কয়েকজন অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। যদিও তিনি কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম প্রকাশ করেননি, তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
আকাঙ্ক্ষার কথায়, “আমি শুধু চাই মানুষ সত্যের পাশে দাঁড়াক। কোনও আন্দোলনকে প্রচারের হাতিয়ার বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো উচিত নয়। যারা সঠিক দাবির জন্য লড়ছে, তাদের পাশে থাকুন।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিচিত একাধিক শিল্পী ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল চলমান ছাত্র আন্দোলনকে প্রচারের অংশ বানানো, জনসমর্থন টানা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের রাজি করানো।
অভিনেত্রীর বক্তব্য, “আমি এই ধরনের কোনও কিছুর অংশ হতে চাই না। আমি শুধু সঠিক উদ্দেশ্যের পাশে থাকতে চাই। আমি সেখানে উপস্থিত থাকি বা না থাকি, তাতে কিছু যায় আসে না। যখনই প্রয়োজন হবে, আমি সত্যের পক্ষেই দাঁড়াব।”
ছাত্রদের বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও জানান আকাঙ্ক্ষা। তাঁর কথায়, “ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এত কম বয়সে তাঁদের এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেটা খুবই কষ্টের।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি (Delhi)-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ছাত্রদের বিক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হয়েছে। রাজধানীর (Jantar Mantar)-এ হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ও যুবক-যুবতী প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। এই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও জোরদার হয়েছে।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রুখতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের একটি মূল্যবান শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের দিকেও সরকার এগোচ্ছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ খবরও সামনে এসেছে। সমাজকর্মী (Sonam Wangchuk)-এর অনশন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার মাঝেই খবর আসে, (Gurugram)-এর (Medanta Hospital)-এ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda) এবং কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী (Dr Jitendra Singh) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপরই অনশন প্রত্যাহারের খবর সামনে আসে, যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আকাঙ্ক্ষা পুরীর মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে এখনও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে তাঁর দাবি এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হলেও, অভিযোগের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

একদিকে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগ— দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এখন প্রশ্ন একটাই, আকাঙ্ক্ষার এই বিস্ফোরক দাবি কি নতুন তদন্ত বা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, নাকি সবটাই সীমাবদ্ধ থাকবে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনাতেই?
]]>
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
নিউটাউন (New Town)-এর একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ২৫ বছরের তরুণী ও নেটপ্রভাবী তৃষা সাহা (Trisha Saha)-র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘর থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায় (Souvik Roy)-কে। এই ঘটনায় আত্মহত্যা, খুন নাকি অন্য কোনও অপরাধ—সব সম্ভাবনাই খোলা রেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর (Barrackpore)-এর বাসিন্দা তৃষা এবং নৈহাটি (Naihati)-র বাসিন্দা সৌভিক একটি বেসরকারি সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করতেন। সেখান থেকেই পরিচয়, তারপর প্রেম। কয়েক মাস আগে তাঁরা নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া (Chandiberia, New Town) এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
রবিবার রাতেই আচমকা পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। বাড়ির মালিকের দাবি, তাঁর কাছে ফোন করে জানানো হয় তৃষা আত্মহত্যা করেছেন এবং পুলিশে খবর দিতে হবে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন, ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ। বহুবার ডাকাডাকি ও ফোন করার পর অবশেষে ভিতর থেকে দরজা খোলা হয়। ঘরে ঢুকেই তিনি দেখেন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। এরপরই খবর যায় পুলিশের কাছে।
পুলিশ এসে তৃষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সৌভিককে। তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল বলে জানা গিয়েছে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের অনুমতি মিললেই তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী দল।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রের দাবি, তৃষার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছেন না তদন্তকারীরা। তাঁকে মারধরের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে সৌভিকের হাতে যে গভীর ক্ষত রয়েছে, তা কীভাবে তৈরি হল, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির জেরে এই আঘাত, নাকি তিনি নিজেই নিজেকে আঘাত করেছেন—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, গত চার মাস ধরে ওই ফ্ল্যাটে থাকলেও কোনও দিন তাঁদের মধ্যে উচ্চস্বরে ঝগড়া বা অশান্তির শব্দ তিনি শোনেননি। বাইরে থেকে তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক বলেই মনে হত। সেই কারণেই এই ঘটনায় তিনি নিজেও বিস্মিত।
তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। তাই আত্মহত্যার তত্ত্বে ভরসা না করে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃষার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, চ্যাট হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল তথ্যও পরীক্ষা করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৃষার মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা শুরু হলেও, পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই চূড়ান্ত বলে ধরা যাবে না।

এখন সকলের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌভিকের বয়ানের দিকে। সেই তথ্যই জানিয়ে দিতে পারে, নিউটাউনের এই ফ্ল্যাটে ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে। রহস্যের জট কবে খুলবে, আর সামনে আসবে কোন নতুন তথ্য—এখন সেই অপেক্ষাতেই গোটা শহর।
]]>বহু কাঠখড় পুড়িয়ে মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে মিলেছে শর্ত সাপেক্ষে ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালনের অনুমতি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে যোগ দিয়েছেন ভবানীপুরের মিত্র পরিবারের সদস্য মদন মিত্র।
এবার রথযাত্রার দিনে মমতার হাত ছাড়লেন ভবানীপুরের মল্লিক বংশের সন্তান তথা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিক। ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ পদে। ফলে দলের পাশাপাশি ভবানীপুরেও আরও একা হয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে বিস্ফোরণের এখানেই শেষ নয়, ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরপরই কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন কোয়েল। যার জেরে ২১ জুলাইয়ের ঠিক মুখে চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেল ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্তফা দিয়েই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের দরবারে কোয়েলের হাজিরা দেওয়াটা মোটেও কাকতালীয় নয়। জোর জল্পনা, খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া কাপড়ে নিজেকে মুড়ে নিতে পারেন রঞ্জিত-কন্যা।
‘যাঁর যাঁর যাওয়ার আছে, ২১ জুলাইয়ের আগে লোটাকম্বল গুছিয়ে দল ছেড়ে চলে যান’ ডেডলাইন মমতার
রথের দিনেই আচমকা ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েল মল্লিক। বুধবার বিকেল পর্যন্তও রাজ্যসভার সরকারি ওয়েবসাইটে তৃণমূলের সাংসদ তালিকায় তাঁর নাম দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সম্পূর্ণ বদলে গেল গোটা দৃশ্যপট। কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার ফলে এবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এবার ১৩ থেকে এসে ঠেকল ৯ তে।
বস্তুত আগেই ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন সদ্য তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া কোয়েল মল্লিক। তবে তাঁকে জানানো হয় সশরীরে এসে ইস্তফাপত্র দিতে হবে উপরাষ্ট্রপতির হাতে। সেই মতো সূত্রের খবর রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে আজ, বৃহস্পতিবারই নিজের ইস্তফাপত্র উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের হাতে তুলে দেন অভিনেত্রী। গত মাসেই শোনা যাচ্ছিল যে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন কয়েকজন সাংসদ। সেই সময়ই এক এক করে ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক।

সেইসময়ই ই-মেলে ইস্তফা দেন কোয়েল মল্লিক। যদিও তা গ্রাহ্য হয়নি। কারণ সংসদীয় নিয়ম অনুসারে সশরীরে এসেই ইস্তফা দিতে হয় সাংসদদের। সেই মতো উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয় কোয়েলকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে পদত্যাগ পত্র দেওয়ার জন্য।
]]>বিনোদন ডেস্ক। কলকাতা সারাদিন।
বাংলা টেলিভিশনের একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর এবার বড়পর্দায় দেখা যাবে অভিনেতা সুশোভন সোনু রায়কে। বাংলা ছবি ‘টেক কেয়ার ভালোবাসা’-য় এটি তাঁর প্রথম কাজ। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং আবেগের টানাপোড়েনকে ঘিরে নির্মিত এই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন ‘জয়’ চরিত্রে।
‘টেক কেয়ার ভালোবাসা’ ছবিটি চার বন্ধুর সম্পর্ক এবং তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘জয়’ চরিত্রটির উপস্থিতি দেখা যায়, যেখানে বন্ধুদের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তন ধীরে ধীরে সামনে আসে। বড়পর্দায় এটিই সুশোভনের প্রথম কাজ হলেও অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নতুন নয়।
২০১৯ সালে আকাশ আটের ধারাবাহিক ‘আনন্দময়ী মা’-এর মাধ্যমে টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন সুশোভন। প্রয়াত পরিচালক দেবীদাস ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সেখানে তিনি এক বৈষ্ণব ভক্তের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। পরে ‘মোহর’, ‘কোড়াপাখি’, ‘তিতলি’, ‘খেলাঘর’ এবং ‘যমুনা ঢাকি’-র মতো ধারাবাহিকেও কাজ করেন। ‘কোড়াপাখি’-তে পার্নো মিত্রর বিপরীতে তিনি একটি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি মডেল হিসেবেও কাজ করেন সুশোভন। কোভিডের সময় কিছুটা কাজের বিরতি ছিল। এরপর ২০২৩ সালে মডেলিং শুরু করেন তিনি এবং হোলিডে ইন, ডাবর, বিগ বাজার, স্পেন্সার্স-এর মতো সংস্থার সঙ্গে মডেল হিসেবে কাজ করেন।
হাওড়ায় জন্ম সুশোভনের। শৈশবের একটা সময় কেটেছে কলকাতা ও গৌহাটিতে। অভিনয়ের আগে তাঁর আগ্রহ ছিল নৃত্যে। প্রায় দু’বছর ওয়েস্টার্ন ডান্সের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মঞ্চানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। পরে দমদম মতিঝিল রবীন্দ্র মহাবিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার পর পরিচালক পীযূষ সাহার তত্ত্বাবধানে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন।

অভিনয় ও মডেলিংয়ের পাশাপাশি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ‘এথনিক এলিগেন্স ২০২৫’ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছিলেন সুশোভন, যেখানে তিনি প্রথম রানার-আপ হন। বর্তমানে টেলিভিশন, মডেলিং এবং সিনেমা—তিনটি মাধ্যমেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
]]>রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
মুম্বই: বড় বাজেটের ছবি, তার সঙ্গে ঝলমলে সেট, একঝাঁক তারকা আর হাই-ভোল্টেজ ডান্স নাম্বার—সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে দিশা পাটানি (Disha Patani)।
‘Welcome To The Jungle’ (Welcome To The Jungle) ছবির নতুন গান ‘Tera Paisa Mera Paisa’ প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। তবে এত তারকার ভিড়েও যিনি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন, তিনি দিশাই।
গানটি মুক্তির পর থেকেই নেটিজেনদের একাংশের মতে, দিশার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, প্রাণবন্ত নাচ এবং স্টাইলিশ লুক পুরো গানের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ঝলমলে নীল সিকুইন পোশাকে তাঁর পর্দা উপস্থিতি দর্শকদের দৃষ্টি টেনেছে প্রথম ফ্রেম থেকেই।
ছবির নির্মাতারা এই গানের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে এনেছেন একেবারে উৎসবের আবহ। প্রাণবন্ত বিট, জমকালো কোরিওগ্রাফি এবং রঙিন ভিজ্যুয়ালের সঙ্গে দিশার পারফরম্যান্স গানে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর নাচের সঙ্গে আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এই গানে রয়েছেন অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar), সুনীল শেট্টি (Suniel Shetty)-সহ একাধিক পরিচিত মুখ। তবে বহু দর্শকের মত, দিশা নিজের উপস্থিতিতেই আলাদা করে নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। ক্যামেরার সামনে তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় এবং নাচ গানের অন্যতম ইউএসপি হয়ে উঠেছে।
‘Tera Paisa Mera Paisa’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অক্ষয় কুমার, ফারহাদ ভিওয়ান্ডিওয়ালা (Farhad Bhiwandiwala), রুবাই (Rubai) এবং বিক্রম মন্ট্রোজ (Vikram Montrose)। মজাদার কথার সঙ্গে দ্রুত তালের এই গানটি দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

শুধু হিন্দিতেই নয়, আরও বড় চমক দিয়েছেন নির্মাতারা। গানটি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, পাঞ্জাবি, তামিল, সিন্ধি-সহ একাধিক ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শক নিজেদের ভাষায় গানটি উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

Times Music Hub (Times Music Hub)-এর পক্ষ থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় গানটি এখন উপলব্ধ। তাদের বার্তায় দর্শকদের নিজেদের পছন্দের ভাষার সংস্করণ শুনতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বহুভাষিক কৌশল ছবির প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিনোদন মহলের একাংশ।

এদিকে ‘Welcome To The Jungle’ ছবিকে ঘিরেও প্রত্যাশা বাড়ছে দিনদিন। বিশাল তারকাবহুল এই ছবিতে কমেডি, অ্যাকশন এবং জমজমাট বিনোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নির্মাতারা। সেই আবহ তৈরি করতেই এই গানকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেই মত ইন্ডাস্ট্রির পর্যবেক্ষকদের।

ছবি মুক্তির আগে একটি গান যদি এতটা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, তাহলে সিনেমা মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা। দিশা পাটানির এই পারফরম্যান্স কি ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে? সেই উত্তর মিলবে খুব শীঘ্রই।
]]>সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতার ( Kolkata) অন্যতম শান্ত ও নিরাপদ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পাটুলি ( Patuli) নিয়ে এবার উঠল বড় প্রশ্ন। টানা দু’দিনের ব্যবধানে প্রকাশ্য রাস্তায় হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করলেন টলিউড অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য (Rupa Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অভিনেত্রীর দাবি, গত কয়েক বছরে কখনও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। কিন্তু সম্প্রতি এলাকায় কিছু অচেনা যুবকের আনাগোনা বেড়েছে বলেই তাঁর পর্যবেক্ষণ। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে দু’টি আলাদা ঘটনায় তিনি হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।
রূপা জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২৪ জুন সন্ধ্যায়। প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়ে পাটুলির R ব্লক থেকে বাইপাস সংলগ্ন রাস্তা ধরে এগোচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় এক সাইকেল আরোহী যুবক পিছন থেকে তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। এরপর আচমকাই ইউ-টার্ন নিয়ে তাঁর খুব কাছে চলে আসে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করে।
নিজের উপস্থিত বুদ্ধিতে তিনি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাঁর ডান হাতে চোট লাগে বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর তিনি পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানেই তাঁর সামনে আসে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য। অভিনেত্রীর দাবি, থানায় উপস্থিত আর এক তরুণীও প্রায় একই ধরনের হেনস্থার অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গেও আগের দিন একই এলাকায় একই কায়দায় দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ফলে এলাকায় একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
রূপার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, ২৬ জুন সন্ধ্যায় ফের নতুন করে হেনস্থার মুখে পড়েন তিনি। এবার ঘটনাস্থল পাটুলির T ব্লকের খেলার মাঠ সংলগ্ন রাস্তা।
অভিনেত্রীর দাবি, একটি খাবার সরবরাহকারী সংস্থার ডেলিভারি কর্মী বাইক নিয়ে তাঁর খুব কাছ দিয়ে বিপজ্জনকভাবে চলে যায়। তিনি প্রতিবাদ করতেই ওই ব্যক্তি বাইক থামিয়ে হিন্দিতে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রূপা লেখেন, আগের ঘটনার রেশ তখনও কাটেনি। তাই তিনি সরাসরি ওই ব্যক্তিকে থানায় যাওয়ার কথা বলেন। ঠিক সেই সময় এক টোটোচালক এগিয়ে আসতেই অভিযুক্ত বাইক নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন তিনি।
তবে শুধু নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। তিনি পাটুলির বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এলাকায় অপরাধমূলক আচরণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে তাঁর পোস্টের রাজনৈতিক অংশ ঘিরে। সাম্প্রতিক সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, কিছু বহিরাগত ও অসামাজিক ব্যক্তি ভুল বার্তা পাচ্ছে এবং সেই কারণেই এমন ঘটনা বাড়ছে। যদিও এই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত।
পোস্টের শেষদিকে রূপা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মহিলাদের একা বেরোনো নিয়ে ‘জ্ঞান’ দেওয়ার বদলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হওয়া উচিত। তাঁর মতে, সমস্যার মূল কারণ নারীদের চলাফেরা নয়, বরং অপরাধীদের মানসিকতা।

ঘটনার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রীর পোস্ট ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, আবার রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এখন প্রশ্ন একটাই— কলকাতার অন্যতম নিরাপদ বলে পরিচিত পাটুলিতে যদি এমন অভিযোগ উঠতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? নজর এখন তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।
]]>