২১ জুলাইয়ের আগে দল ছাড়তে চাইলে এখনই যান, ‘লোটাকম্বল গুছিয়ে’ বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“যাঁদের যাঁদের যাওয়ার আছে, বিজেপি-র চাপে বা পুলিশের চাপে, মাথানত করার চাপে বা মামলার চাপে, ইডি-সিবিআই-সিআইডি-র চাপে বা আইসি-ওসির চাপে, তাঁদের অনুরোধ করব, ২১ জুলাইয়ের আগে দয়া করে যাঁর যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার, যাঁরা যাঁরা বাঁচতে চান, লোটা-কম্বল নিয়ে যেখানে ইচ্ছে যান বিজেপি-র কথা কথা শুনে। আমরা যে দলটি তৈরি করেছি, তাকে কলঙ্কলিপ্ত করবেন না।” মদন মিত্র থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার কোয়েল মল্লিক পর্যন্ত একের পর এক নেতা-নেত্রী এবং জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে দল ছেড়ে যাওয়ার শুরু করেছেন তার প্রেক্ষিতে এভাবেই ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে ডেডলাইন বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। দিল্লিতে বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন তিনি। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো তিনিও বিজেপি-তে যাবেন কি না, সেই নিয়ে এই মুহূর্তে জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই পরিস্থিতিতেই মুখ খুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, আগেই ইমেলে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোয়েল। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা বেরিয়ে যেতে ইচ্ছুক, ২১ জুলাইয়ের আগেই সকলে চলে যেতে পারেন বলে এদিন মন্তব্য করেন মমতা।
বৃহস্পতিবার ভিডিও বার্তা শুরু করেন মমতা। আর তার পরই কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। বলেন, “আজ আর একজন সাংসদ, তিনি ভাল শিল্পী, আমি তাঁকে সম্মান করি…বিজেপি-র কোনও একটা নেতার সঙ্গে মিটিং করে রিজাইন করতে গিয়েছেন তিনি। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলি, উনি আগেই ইমেল পাঠিয়েছিলেন। থ্যাঙ্কস টু হার। আজ ফিজিক্যালি জমা দিতে গিয়েছেন।”
মমতা বলেন, “আজ যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা কিন্তু গোপনে আমাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। কেউ কেউ ভয় সহ্য করতে পারে না। কেউ আত্মরক্ষা করতে পারে, কেউ পারে না। আমরা মাথা নীচু করে চলি না বলেই ফেস করতে হচ্ছে। ফেস করতে না শিখি যদি, বাংলাকে, দেশকে যদি ভালবাসতে না শিখি, মানুষের রায়কে যদি সম্মান না জানাই, তাহলে আত্মগ্লানিতে ভুগব। যা করেছেন, ভাল করেছেন। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, পরিবার ভাল থাক। ২১ জুলাই নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। তাতে কে এল, কে না এল. কিছু যায় আসে না। যারা থাকবে, তারাই স্বর্ণখনি। আগামীতে নতুন করে পথ চলা শুরু হবে। ১৯৯৭ সালে যদি নতুন করে পথ চলতে পারি, ২০২৬ সালেও পারব। অনেক ছলনা করেছে…নাম-নিশান কোনওটাই নাকি রাখবে না! আপনারা ভাল থাকুন, নিজেদের রক্ষা করুন, দিল্লিটা আগে রক্ষা করুন, তবে তো পারবেন! দিল্লির মদতে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। মনে রাখুন, যতই জোর করে সাংসদ কিনুক বা বেচুক, আগামী দিনে…আমরা দেশের সঙ্কট চাই না। কিন্তু অর্থনীতিবিদরাই বলছেন, মানুষ বলছেন। অনেক নাম বদলেছে, সিম্বল বদলেছে। ক্ষমতার জোরে নাম চেঞ্জ করতে পারেন, ভিসন, মিশন শেষ করতে পারেন না।”
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও বার বার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘দিল্লির মদতে যা ইচ্ছা আপনারা করে যাচ্ছেন। আগে দিল্লিটা রক্ষা করুন।’’ দিল্লির আবস্থা ভাল নয় বলে কটাক্ষ করে মমতা সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও টেনে আনেন। কেন দিল্লির সরকার সোনমের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে যায়নি সেই প্রশ্নও তুলেছেন।

তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ করেন, পুলিশের ভয় বা অর্থের প্রলোভন দেখান হচ্ছে ২১-শের শহিদদের পরিবারকেও। আদালতের নির্দেশ মেনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ২১শে জুলাই শহিদ স্মরণ করার বার্তা দেন মমতা। তবে সেই সঙ্গে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকারও আর্জি তাঁর।