কল্যাণীতে রোবোটিক নি-সার্জারির উদ্বোধনে চিকিৎসার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার প্রসঙ্গও তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি; আধার যাচাইয়ের উপর জোর
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
কল্যাণী (Kalyani), নদিয়া (Nadia)-র একটি হাসপাতালের মঞ্চে ছিল আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবার উদ্বোধন। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেই উঠে এল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের বিতর্ক। রোবোটিক নি-সার্জারির সূচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ [শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)] হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রোগীদের পরিচয়পত্র বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তবর্তী এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে নথি যাচাইয়ে কোনওরকম শিথিলতা চলবে না।
মঙ্গলবার কল্যাণীর জেনারেল হাসপাতালে জেলার প্রথম রোবোটিক নি-সার্জারি পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই প্রযুক্তির ফলে হাঁটু প্রতিস্থাপন-সহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার আরও নিখুঁতভাবে করা সম্ভব হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই পরিষেবা বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম খরচে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে উদ্বোধনী মঞ্চে চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সামনে আনেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, নদিয়া একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় রোগীদের পরিচয় যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যে কোনও রোগী চিকিৎসা পেতে পারেন, কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত পরিচয়পত্র, বিশেষ করে আধার কার্ড, যথাযথ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই করা।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “আপনারা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার সূচনা করছেন। কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বও বাড়ছে। রোগীর পরিচয়পত্র সঠিকভাবে যাচাই করুন। প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই আসল ও নকল নথির পার্থক্য বোঝা সম্ভব। ভবিষ্যতে কোনও আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতেই এই সতর্কতা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। যদি কোনও ব্যক্তি বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করে চিকিৎসা করিয়ে চলে যান এবং পরে অন্য কোনও মামলায় ধরা পড়েন, তাহলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। সেই কারণেই আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন [রামকৃষ্ণ মিশন (Ramakrishna Mission)]-এর মহারাজও। যদিও রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক সতর্কতা সংক্রান্ত এবং দায়িত্বশীল পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের অধিকর্তা শিলা সিং ঘোষ জানান, এই নতুন পরিষেবার মাধ্যমে নদিয়া জেলার রোগীরা বড় সুবিধা পাবেন। তাঁর বক্তব্য, এতদিন রোবোটিক নি-সার্জারির জন্য অনেককেই কলকাতা বা অন্য রাজ্যে যেতে হত। এখন সেই প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।
তিনি জানান, সাধারণভাবে একটি রোবোটিক হাঁটু প্রতিস্থাপনের খরচ চার থেকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু রাজ্য সরকারের সহায়তায় এই হাসপাতালে একই অস্ত্রোপচার প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে করানো সম্ভব হবে। উদ্বোধনের দিন প্রথম কয়েকজন রোগীর হাঁটু প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোবোটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের নির্ভুলতা অনেকটাই বাড়ে। সার্জনের পরিকল্পনাকে প্রযুক্তি আরও সূক্ষ্মভাবে বাস্তবায়িত করতে সাহায্য করে, ফলে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে এবং রোগীর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

একদিকে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সূচনা, অন্যদিকে সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা ও নথি যাচাইয়ের প্রসঙ্গ—এই দুই বিষয়ই মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সতর্কতার এই বার্তা আগামী দিনে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলির কাজের পদ্ধতিতে কোনও নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
এবার প্রশ্ন একটাই—পরিচয়পত্র যাচাই নিয়ে এই বার্তার পরে সীমান্তবর্তী হাসপাতালগুলিতে কি নতুন নির্দেশিকা আসবে, নাকি বিতর্ক আরও তীব্র হবে?