সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
খাতায়-কলমে হাসপাতাল রোড হলেও সেই রাস্তার মাঝখান থেকে গিয়েছে রেললাইন। কিন্তু সেই রেল লাইনের উপরে নেই কোন লেভেল ক্রসিং অথবা ওভারব্রিজ। আর তাই রেললাইন টপকে হাসপাতালে যেতে গেলেও আরপিএফ এর জরিমানার মুখে পড়ে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বিদ্যাধরপুর।
খাতায় কলমে বিদ্যাধরপুর এলাকার মানুষের কাছের সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য এটাই হাসপাতাল রোড। সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা অঞ্চলের একটা বড় অংশের মানুষের জরুরি পরিষেবা পাওয়ার জন্য সবথেকে প্রয়োজনীয় সেই রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং রেল লাইন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘকালের দাবী দাওয়া সত্বেও এই রাস্তায় রেললাইন পারাপারের জন্য আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি কোন ওভারব্রিজ অথবা লেভেল ক্রসিং।
২০১৯ সালের লোকসভার নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের তৎকালীন লোকসভার প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর গাড়ি এই রেল লাইনে আটকে যাওয়ায় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সাংসদ নির্বাচিত হলে লোকসভায় গিয়ে প্রথম দাবি জানাবেন বিদ্যাধরপুরের লেভেল ক্রসিং তৈরির জন্য।

সরকারি নথি অনুযায়ী মিমি চক্রবর্তী সংসদে একবার বিষয়টি তুলেছিলেন বটে। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরও এক তৃণমূল প্রার্থী সায়নী ঘোষ একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিদ্যাধরপুর তথা সোনারপুর এলাকার মানুষকে। সাংসদ নির্বাচিত হলেও এখনো পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি রয়ে গিয়েছে প্রতিশ্রুতিতেই!
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়ে গিয়েছে রেল দপ্তর সাফাই অভিযান শুরু করার পরে। শনিবার দুপুরে আচমকাই দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দীর অভ্যাস বন্ধ করে রাতারাতি রেললাইন টপকে পারাপার করলেই জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দেয় রেলরক্ষী বাহিনী। আরপিএফ রেললাইনে দাঁড়িয়ে যখন জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে সেই সময় অসংখ্য স্কুলের বাচ্চাকে নিয়ে নিকটবর্তী স্কুলে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন তাদের মায়েরা।

অনেকে আবার নিকটবর্তী সুভাষগ্রাম হাসপাতালে যাচ্ছিলেন জরুরি চিকিৎসার জন্য। কেউ বা বাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করতে যাচ্ছিলেন রেললাইন টপকে রাস্তার উপরে থাকা বাজারে। কারণ এটাই বিদ্যাধরপুর এলাকার মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস।

এই পরিস্থিতিতে আরপিএফ জওয়ানরা জরিমানা করতে শুরু করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকার মানুষ। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই পূর্ব রেলের কাছে আবেদনপত্র সহকারে গণস্বাক্ষর পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।