বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন মামলার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু, পুলিশের দাবি বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টায় এনকাউন্টার
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যু হল পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে। ঘটনা পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের বন্দুক কেড়ে নিয়ে পালানোর পাশাপাশি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার পরেই পাল্টা পুলিশের চালানো গুলিতে প্রভাসের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে। রাত ১২টো ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত আচমকাই পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।সেই সময় গুলি চালায় পুলিশ। মৃত্যু হয় ধৃত প্রভাসের।
জানা গিয়েছে, বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ (Crime Reconstruction) করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত এক রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর জখম হয় প্রভাস। তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনে তাঁর ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পরই অন্যতম এই অভিযুক্তের মা জানিয়েছিলেন, ছেলের শাস্তি হোক। এদিন পুলিশের কাছ থেকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ এসে বলে গেল, মারা গিয়েছে। কীভাবে মারা গিয়েছে বলেনি। পুলিশ শুধু বলে গেল, মৃতদেহ বারুইপুর হাসপাতালে রয়েছে। দেখবেন যদি চলুন।”
প্রসঙ্গত, শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য উপহার কিনতে বেরোয় ক্লাস সিক্সের নাবালিকা। তার পর থেকেই আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। বিকেল থেকে সন্ধা, রাত গিড়ালেও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। রবিবার সকালে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশের জেরায় জানান যায়, একে ওপরের ঘাড়ে দোষা চাপাচ্ছে। কথার মধ্যে অসঙ্গতি। ৩ জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পর উঠে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। গোটা ঘটনা পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে। ঘটেছে শনিবার দিন। যখন নাবালিকা সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন প্রভাসকে ১০,০০০ টাকার টোপ দিয়ে নাবালিকাকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। নিয়ে যেতে হবে পুকুরের কাছে একটি ঝুপড়িতে। যে পুকুর থেকে নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই জায়গায়। ঘটনাস্থলের কাছেই ঝুপড়িতে বসে নেশা করছিল ধৃত আনন্দ সর্দার ও দিবাকর সর্দার। কথা অনুযায়ী, নাবালিকাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে তুলে আনে প্রভাস মণ্ডল। সেই জায়গা থেকে নাবালিকা যখন বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, তখন শুরু হয় পাশবিক অত্যাচার। চলে যৌন নির্যাতন। এরপর যখন নাবালিকা সংজ্ঞাহারায়, তখন তারা মনে করে যে নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। এরপর তারা গভীর রাতে নাবালিকাকে বস্তায় ভোরে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়।

এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ” ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ধরা পড়েছে। আরেকজনকে ধরতে হবে। আমি ১ সপ্তাহের মধ্যে আসব। তখন ওরা যা চেয়েছে, সরকার যা করল, দেখতে পাবেন।”