বারুইপুর ঘটনার প্রতিবাদে ফের পথে মমতা, ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’ স্লোগানে সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকেই মোমবাতি হাতে মিছিল শুরু করেন তিনি। বাড়ির গলির সামনেই মমতা ও তৃণমূলের নেতা কর্মীদের বাধা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। এই নিয়ে মমতার বাড়ির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এই মিছিলের মূল স্লোগান ‘জাস্টিস ফর বারুইপুর’। মমতার পাশে এদিন দেখা গিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বকে। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড, মোমবাতি হাতে মিছিলে শামিল হন দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দাররা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে ব্যাপক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মিছিলটি মমতার কালীঘাটের বাড়ির গলি থেকে বেরতে গেলেই বাধা দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় মিছিল। পরে মমতা নিজের কালীঘাটের বাড়িতেই মিছিল শেষ করেন।
পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “তোমার সুর আমার সুর
জাস্টিস ফর বারুইপুর।
বারুইপুরের নাবালিকা ‘অপরাজিতা’র উপর যে নির্মম অত্যাচার চলেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি এই চরম মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাই! দুর্গাপুর থেকে বারুইপুর বাংলার সর্বত্র এই ঘটনা উদ্বেগজনক। গতকাল আমি এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়ে, ‘অপরাজিতা’র পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বিজেপি সরকারের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে নজরবন্দি করে রেখেছিল। আমি ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি। আজ, এই চরম মর্মান্তিক ও বর্বরোচিত ঘটনার বিরুদ্ধে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক, কঠোরতম শাস্তির দাবিতে কালীঘাট থেকে সাংসদ, বিধায়ক ও একনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ মোমবাতি মিছিল শুরু করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয় যে, আমি বাড়ি থেকে বেরোতেই বিজেপি সরকারের পুলিশ আমাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের এবং স্বৈরাচারী ও দমনমূলক এই আচরণের আমি তীব্র ধিক্কার জানাই। আমার স্পষ্ট ও আপসহীন দাবি, এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং নারী সমাজকে সুরক্ষিত করতে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আমি গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর থেকে মা-বোনেদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, লাঞ্ছনা ও নিপীড়ন ক্রমশ লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। বাংলার মা-বোনেদের ন্যূনতম নিরাপত্তা প্রদানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ এই জনবিরোধী, নারী-বিদ্বেষী বিজেপি সরকার। বাংলার পবিত্র মাটিতে নারীদের সম্মান ও মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে আমাদের আপসহীন লড়াই, এই আন্দোলন ক্ষমতার জোরে প্রতিহত করা যাবে না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আপসহীন লড়াই চলবে।”