“আগামী ৫ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা গড়বে শুভেন্দু” শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে ঘোষণা অমিত শাহের
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘এই ভূমিপুজোকে আলাদাভাবে দেখছি। সোনার বাংলা গঠনের সংকল্পপূরণের সূচনার দিন শুরু হল।’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মতিথি উপলক্ষে নিউটাউনে ১২৫ ফুট দীর্ঘ শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির ভূমি পূজা করে এমন ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহরে এসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। প্রথমেই তিনি ইকো পার্কে যান। সেখানে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে ভবানীপুরে ৭৭ আশুতোষ মুখার্জি রোডে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাড়িতে যান। শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে মাল্যদান করে মিলন মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি একটি বীজ পুতেছিলেন। আজ ওই বীজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে। আজ আমার মত অনেকের আবেগপ্রবণ হওয়ার দিন। দেশের প্রথম মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদ পদত্যাগ করেছিলেন। ওনার মৃত্যুর এত বছর পর আজ বাংলায় ওনার মূর্তি স্থাপনের শিলান্যাস হল। শ্যামাপ্রসাদের পার্টির সরকার এসেছে বাংলায়। এই ভূমি পুজোকে আমি অন্য ভাবে দেখছি এটা সোনার বাংলা গড়ার ভূমিপুজো।’
অমিত শাহ শাহ বলেন, ‘তিনি একটি বীজ পুতেছিলেন। আজ ওই বীজ বটবৃক্ষ হয়ে ভারতকে ফল দিচ্ছে। আজাদ ভারতের নীতি, ভারতের মাটি থেকে হোক এটাই উনি চেয়েছিলেন। এক দেশে দুই বিধান চলবে না। কাশ্মীরে ওনার মৃত্যু হয়। কিন্তু কংগ্রেস কোনও তদন্ত করেনি সেই সন্দেহজনক মৃত্যুর। আজ মোদিজি ওনার স্বপন সফল করেছে। ৩৭০ ধারা কাশ্মীর থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে থাকা হিন্দুদের চিন্তা সেদিন করেনি কংগ্রেস। তাই তিনি সেদিন মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। আজ আমাদের সরকার সব হিন্দুদের সিএএ চালু করে নাগরিকত্ব দেওয়ার সংকল্প নিয়েছে। ভারতের মাটি থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে বার করব। বাংলার পুনর্নির্মাণ এত বছর পর এই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে থেকে শুরু হল। শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন। এত বছর পর বাংলার বাঘের ছেলে শ্যামাপ্রসাদকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। ঝিলে পাড়ে এত বড় মূর্তি হচ্ছে। আমি বলেছি ভারতের সুরক্ষার জন্য, রিসার্চ করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ইনস্টিটিউশনও ওখানে করার কথা।’
শুভেন্দু সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে অমিত শাহ দাবি করেন, এত কম সময়ে আর কোনও রাজ্য সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার এভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অন্নপূর্ণা যোজনা, উজ্জ্বলা ৩.০, মহিলাদের জন্য বাসে বিনামূল্যে যাত্রা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর হয়েছে।
পাশাপাশি পূর্বতন জমানার দুর্নীতির তদন্ত প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠিত হয়ে গেছে। কমিটির রিপোর্ট আসামাত্রই গরিব মানুষের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রস্তুত থাকতে হবে। বকেয়া থাকা মামলাগুলোর অনুমতির জন্য সকাল ১২টায় ফোন করার পর আড়াইটার মধ্যেই শুভেন্দু সরকার সমস্ত প্রসিকিউশন স্যাঙ্কশন দিয়ে দিয়েছে। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর জন্য কমিটি গড়া হয়েছে। পাশ হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। গুন্ডাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি করেছিল, এই বিল তারই প্রথম পদক্ষেপ। মা-বোনেদের সুরক্ষায় তৈরি হয়েছে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’।
কমিউনিস্ট এবং তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনে বাংলার যে বৈচারিক ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তা আবার বটবৃক্ষ হয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলবে বলে আশাপ্রকাশ করেন অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সর্বভারতীয় নেতৃত্বের তরফে তিনি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবে এই সরকার।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজের ঠাসা কর্মসূচির মাঝে পৌঁছে গেলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়িতে। প্রায় ১৫ মিনিট সেখানে ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নিশীথ প্রামাণিকও। এই সাক্ষাৎকে ঘিরেই এখন রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে জোর চর্চা।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই অনুষ্ঠান করার জন্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবংরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । তিনি এদিন বলেন, ‘বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র করা হয়.. এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান হবে না বলেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এত সুন্দর অনুষ্ঠানের জন্য অভিনন্দন জানাই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি দর্শন থেকে জন আন্দোলনের পরিণতির প্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি ভারতে একটি দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন। দেখুন যেই সময় জনসংঘের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কংগ্রেসের জয়জয়কার ছিল। ঠিক এমন একটা সময়ে অন্য কোনও বিচার বা দর্শনের কোনও স্থানই ছিল না। পা রাখার জায়গাটুকুও পাওয়া কঠিন ছিল। তখন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, একটি নতুন দর্শনের শুরু করার সাহস দেখিয়েছিলেন। এটা শুধুই একটি সংগঠন বানানোর সিদ্ধান্তই ছিল না, একটি রাজনৈতিক দলকে জন্ম দেওয়ার বিষয়ও শুধু ছিল না, এটি গণতন্ত্রে দার্শনিক বিবিধতা, রাষ্ট্রীয় ভাবনা এবং গণঅংশীদারীত্বের উপর তার অটুট বিশ্বাসের অভিব্যাক্তি ছিল।’