সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন ‘বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো, সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও’ । কী এই যোগ (Yoga) ? যোগ মানে কি শুধুই শরীরচর্চা ? নাকি ঋষি-মুনিদের ধ্যান তপস্যা ? নাকি একেবারেই অন্যকিছু? এই প্রশ্নটি রয়েছে অনেকের মনেই। ভারতে হিন্দু ধর্ম শাস্ত্র যে যোগের কথা বলে তা কি শুধুই শরীরের কসরত ?
ভারতীয় শাস্ত্রে যোগ কী, কীভাবেই বা তা শুরু করতে পারেন সাধারণ মানুষ। চিত্তবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এক-পা এক-পা করে এগনো যায় স্বামীজী (Swami Vivekananda) নির্দেশিত আত্মমুক্তির পথে। না, পথটা সোজা নয় ঠিকই। তবে একেবারে অগম্যও নয় !
স্বামী বিবেকানন্দের কথায়, ভারতের যোগ-সাধনা হল আসলে আত্মমুক্তির সাধনা। ভগবত গীতায় যোগ শব্দটির নানা ভাবে ব্যবহার হয়েছে। ১৮ টি অধ্যায়ে নানা ভাবে যোগ শব্দটি রয়েছে। যোগ এই শব্দের অর্থ হল যুক্ত হওয়া।

যুগপুরুষ তথা চিরতারুণ্যের প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দের ( Swami Vivekananda Birthday ) ১৬৩ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তাই ছাত্র-ছাত্রী ও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগ ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার জন্য বিশেষ যোগ চর্চার শিবিরের আয়োজন করেছিল সোনারপুরের কণিকা যোগাভ্যাস কেন্দ্র ( Kanika Yogavyas Kendra Sonarpur )।

দীর্ঘদিন ধরেই সোনারপুরের অসংখ্য ছাত্র ছাত্রীকে যোগব্যায়াম শিখিয়ে আসছেন বিশিষ্ট যোগগুরু অনুপম মন্ডল এবং যোগাচার্য হেমন্ত মন্ডল।

একেবারে ছোটবেলা থেকেই যোগব্যায়াম এবং যোগ চর্চা যে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তার এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন পিতা পুত্র দুজনেই।

আর তাঁদের এই প্রচেষ্টায় সঙ্গে পেয়েছেন বেশ কয়েকজন সম-মনস্ক মানুষকে। ইতিমধ্যেই অখিল ভারতীয় যোগাসন ( akhil bharatiya yogasana sports federation ) স্পোর্টস ফেডারেশন তাদের এই যোগাভ্যাস কেন্দ্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে।

সোমবারের এই যোগচর্চা শিবির এবং প্রতিযোগিতার আসরে উপস্থিত ছিলেন কণিকা যোগাভ্যাস কেন্দ্রেরL সম্পাদিকা সুলগ্না মন্ডল ভৌমিক। ছিলেন প্রশিক্ষিকা সুচরিতা মন্ডল।

সোমবার সকালে কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী এবং তাদের অভিভাবক অভিভাবকদের নিয়ে সোনারপুর নরেন্দ্রপুরের তিহুড়িয়া অঞ্চলে বর্ণাঢ্য প্রভাত ফেরীর আয়োজন করে কণিকা যোগাভ্যাস কেন্দ্র।

যেখানে ছোট ছোট শিশুরা কেউ রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, কেউ মা সারদা, কেউ স্বামী বিবেকানন্দ আবার কেউ বা ভগিনী নিবেদিতা সেজে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহ্যকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে।

সোমবার বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে দিনভর বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেও আবাসিক শিবির হিসেবে যোগ চর্চা শুরু হয়েছে রবিবার সকাল থেকেই।

এই কণিকা যোগাভ্যাস কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত মন্ডল বলেন, “আমরা আজ যোগ চর্চার মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দ পুজো করছি। এই পুজো ব্রাহ্মণ ডেকে মন্ত্রচারণ করে পূজা করা নয়।

এই পুজো হল স্বামী বিবেকানন্দের বাণী এবং আদর্শকে আগামী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করার মাধ্যমে সমাজ গড়ে তোলার জন্য মানুষের পুজো। আমি পূজো বলতে বুঝি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ পুজো, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করার মাধ্যমে নেতাজি পূজা।”

আজ সোনারপুরের তিহুড়িয়া এলাকায় এই যোগ শিবিরে একেবারে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রৌঢ়রাও অংশ নেন উৎকটাসন, ভেকাসন, বৃক্ষাসন, পদহস্তাসন, চক্রাসন, ধনুরাসন, অর্ধকূর্মাসন, বীরভদ্রাসন -এর মত বিভিন্ন যোগ কলায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে।

তবে এর পাশাপাশি ছিল ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে এলাকার মানুষের জন্য মনোজ্ঞ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। ছোট্ট সপ্তপর্ণী মন্ডল ভায়োলিনে সুর তোলে ‘আয় তবে সহচরী’।

Kanika Yogavyas Kendra

কণিকা যোগাভ্যাস কেন্দ্রের প্রশিক্ষক অনুপম মন্ডল বলেন, “নিয়মিত যোগ ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে মানসিক শান্তি লাভ করা যায়। আর যোগ চর্চার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতার চর্চা সম্ভব।”