সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পর একজোট বিরোধী শিবির, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠল বড় প্রশ্ন
রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
শনিবারের রাজনৈতিক উত্তাপ যেন মুহূর্তের মধ্যেই পৌঁছে গেল জাতীয় স্তরে। সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ Abhishek Banerjee-এর উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আর সেই ঘটনার জেরে এবার সরব হল INDIA জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা।
শনিবার বিকেলে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকায় প্রবল বিক্ষোভ এবং হামলার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম ছোড়া, কালো পতাকা প্রদর্শন, পোশাক টেনে ছিঁড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একের পর এক প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন INDIA জোটের নেতারা। কংগ্রেস সভাপতি Mallikarjun Kharge, সমাজবাদী পার্টির প্রধান Akhilesh Yadav এবং আম আদমি পার্টির নেতা Arvind Kejriwal প্রকাশ্যে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সোনারপুরে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে একজন জনপ্রিয় বিরোধী নেতার উপর এই হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি এবং এই ঘটনা গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে অত্যন্ত অশুভ বার্তা বহন করছে।
খাড়গে আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু হিংসা কখনও গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব আরও কড়া সুরে প্রতিক্রিয়া দেন। তাঁর বক্তব্য, একজন বিরোধী নেতার উপর প্রকাশ্যে হামলা এবং সেই সময় পুলিশের অনুপস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে?
অখিলেশের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ পুলিশের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানান।
শুধু INDIA জোটের নেতারাই নন, এই ঘটনার নিন্দা করেছেন বাম নেতৃত্বও। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক Mohammed Salim বলেন, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সাংসদের উপর এই ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও হিংসার কোনও স্থান নেই বলেই মত তাঁর।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে কামালগাজি এলাকায় তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। এরপর সোনারপুরে প্রবেশ করতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ, একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে ডিম ছোড়ে। সেই ডিম এসে লাগে তাঁর পোশাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাড়ি থেকে নেমে বাইকে করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেখানেও বিক্ষোভ থামেনি। মাথায় হেলমেট থাকলেও ডিম এসে লাগে তাঁর মাথায়। ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্থার অভিযোগও ওঠে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল ইতিমধ্যেই এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের পাল্টা বক্তব্যও সামনে আসতে শুরু করেছে।
তবে রাজনৈতিক তরজার মাঝেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—একজন সাংসদের উপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা কি শুধুই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক বার্তা? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।