সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গে এবার শুরু হতে চলেছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের নতুন অধ্যায়। বিদেশে বা দেশের বাইরে ব্যয়বহুল বিয়ের স্বপ্ন অনেকের কাছেই অধরা থেকে যায়। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তব হতে পারে বাংলাতেই। রাজ্য পর্যটন দফতর চলতি বছর থেকেই প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ভেনু গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।
বুধবার কলকাতার পার্ক হোটেলে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডারস কনফারেন্সে এই ঘোষণা করা হয়। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং, কালিম্পং, পুরুলিয়া সহ মোট ১০টি মনোরম স্থান চিহ্নিত হয়েছে। প্রত্যেকটি ভেনু তৈরিতে প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। প্রথম ধাপে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ২০১১ সালে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাকে পর্যটন, সংস্কৃতি ও শিল্পের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। সেই পথে অনেকটাই এগোনো সম্ভব হয়েছে, তবে আরও কাজ বাকি। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই কাজ সম্পূর্ণ হবে বলেই আশাবাদী তিনি।
Honda Monkey 125 : নস্টালজিয়ার রাইড, আধুনিক ছোঁয়ায় ২০২৬-এ আরও আকর্ষণীয় কামব্যাক
পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায় জানান, আগামী বছরের অপেক্ষা না করে এই বছর থেকেই কাজ শুরু হয়েছে। লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে বাংলাকে একটি শক্তিশালী ডেস্টিনেশন ওয়েডিং হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
তবে শুধু বিয়ের আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ভাবনা। সম্মেলনে উঠে এসেছে পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা। শুধু হোটেল বা অবকাঠামো নয়, দরকার প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ। হসপিটালিটি সেক্টরে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, বিমানবন্দর সংযোগ বৃদ্ধি এবং টিয়ার-টু শহরগুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবিও জোরদার হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ইকো-টুরিজম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। চা-বাগান, হেরিটেজ ভবন এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ চলছে।
গঙ্গাবক্ষে নৌভ্রমণ বা রিভার টুরিজম, বড় সম্মেলন ও ইভেন্ট আয়োজনের জন্য ‘মাইস’ টুরিজম এবং ধর্মীয় পর্যটনের উন্নয়নেও নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গ্ল্যাম্পিংয়ের মতো আধুনিক পর্যটন ধারণাকেও জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস নিয়েও বিশেষ ভাবনা সামনে এসেছে, যা তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পারে।
সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে পর্যটন শিল্প আরও বিস্তৃত হয়।

বাংলায় ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের এই উদ্যোগ শুধু নতুন বাজার তৈরি করবে না, বরং কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পর্যটনের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতেই এই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।