সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া মেনে বিয়ে বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করতে আজ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ অর্থাৎ সোমবার রাজভবন বা অধুনা নামাঙ্কিত লোকভবনে রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরে নবান্নে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো নিয়ে বৈঠকে বস্তি চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগে এই বৈঠক ৩০ মে অর্থাৎ শনিবার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তা বদল করে সোমবার ১ জুন স্থির করা হয়। ইতিমধ্যে কর্মসগঠনগুলিকে চিঠি দিয়ে বৈঠকের বিষয় জানান হয়েছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে ভাস্কর ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় জাবিয়েছেন, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএ মামলাকারী সংগঠনগুলির পূর্ব নির্ধারিত আলোচনার দিন পরিবর্তিত হয়ে আগামী ১ জুন বিকেল ৫টায় স্থির হয়েছে।’ তিনি আরও বলেছেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মচারী- সকলের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করবেন বলেও তাঁরা আশাবাদী।
জানা গিয়েছে, সোমবার ১ জুন নবান্নে ১৪ তলার কনফারেন্স রুমে ৪টি সরকারি কর্মী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের দিকেই আপাতত তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি কর্মীরা। বিকেল ৫টার পরে হওয়ার কথা রয়েছে এই বৈঠক। যদিও চারটি সরকারি কর্মী সংগঠনকে ডাকায় বাকিদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সূত্রের খবর যে সংগঠনগুলি এতো দিন ধরে ডিএ নিয়ে আন্দোলন করেছিল মূলত তাদেরও আলোচনায় ডাকা হয়েছ।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪টি সংগঠনকে আলোচনায় ডাকা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ , ইউনিটি ফোরাম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ আলোচনায় ডাক পেয়েছে। চারটি সংগঠনের প্রতিনিধিরাই জানিয়েছেন তারা আলোচনায় হাজির হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বলে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তারা তৈরি থাকবেন। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, যারা ডিএ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আইনি লড়াই লড়়ছিলেন তাদের নেতাদেরও মূলত আলোচনায় ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর,আইনি লড়াইকে পাশে রেখে কী করে সরকারি কর্মীদের দাবি ও সমস্যাগুলি সমাধান করা যায় তা নিয়েই মূলত আলোচনা হতে পারে। সরকারি কর্মীদের দাবিগুলি যাতে দ্রুত পুরণ হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য প্রশাসনের। তবে এই বিষয়ে দুই পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু বলেনি।

২০০৮-১৯ সাল সালের মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য পূর্বতন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশের পর সামান্য টাকাই পূর্বতন সরকার দিয়েছিল। যার মোটা এখনও বাকি রয়েছে। অর্থ দফতরের হিসেব অনুযায়ী বকেয়া মেটাতে রাজ্যের প্রয়োজন ৪০,০০০ কোটি টাকা। যদিও বিজেপি সরকারি ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্তদের টাকা দিতে শুরু করেছে। বাকিদেরও দ্রুত টাকা দেওয়া হবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। এই বৈঠকের পরই কর্মরত সরকারি কর্মীদের টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সরকারি কর্মীরা ২টি বিষয়ে নজর দিচ্ছেন। তা হল,
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও যে টাকা বাকি রয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই সরকার অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ-র টাকা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে। সেগুলি তোলা হতে পারে। এবং ২০২০ ষষ্ঠ বেতন কমিশন ঘোষণার পরে বাকি থাকা ডিএ। বকেয়া ডিএ নিয়ে সরকারি কর্মীরা আলোচনা করবে। পাশাপাশি বিজেপির প্রতিশ্রুতি মত রাজ্যে কবে থেকে সপ্তম বেতন কমিশন লাগু হবে তা নিয়েও সওয়াল করতে পারেন সরকারি কর্মীরা।