NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তাল কলকাতা! আরজি কর আন্দোলনের ধাঁচে ‘রাত জাগো’ কর্মসূচির ডাক এসএফআইয়ের
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
NEET প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে আন্দোলনের আঁচ পড়ল কলকাতায়ও। শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো। সেই মিছিলে যোগ দিল ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকরাও। মিছিলকে নৈতিক ভাবে সমর্থন জানিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস।
কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল করতে চেয়ে পুলিশের অনুমতি চেয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। কিন্তু অনুমতি দেয়নি পুলিশ। আজকের মিছিলে যোগ রয়েছে বামেদের ৮টি সংগঠন। ‘রাত জাগো, দেশ জাগো’ শীর্ষক মিছিলে ব্যাপক ভিড়। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিয়ালদা ফ্লাইওভার।
এই মিছিল যখন চলছে, তার কিছুক্ষণ আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সিজেপি-র প্রতিনিধিরা। তাঁরা বৈঠক সেরে বেরিয়ে জানিয়েছেন, সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন, ততদিন ধর্না, বিক্ষোভ আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ককরোচরা।
একটি ভিডিও বার্তায় এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ‘সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন, আন্দোলন নয়। তাঁর অসমাপ্ত লড়াই এবার দেশের ছাত্র-যুবদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ২৬ দিন ধরে নিজের শরীরের কথা না-ভেবে ছাত্রদের দাবিতে লড়াই করেছেন সোনম ওয়াংচুক। সেই লড়াইকে আমরা স্যালুট জানাই। কিন্তু এখন তাঁর কাঁধ থেকে সেই দায়িত্ব দেশের তরুণ প্রজন্মের কাঁধে এসে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার গলদ যতদিন না-দূর হচ্ছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।’
এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ তো করতেই হবে। তার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিক। রাজ্যের অবস্থা দেখে আমাদের এটা দেখতে হবে যে বন্ধ হওয়া সরকারি স্কুলগুলো এবার খুলে দিক। আর সেন্ট্রালি যদি দেখতে চাই, এই সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এনটিএ হ্যান্ডেল করছে, এনটিএ-কে স্রেফ করতে হবে।’ আন্দোলনকারী এক মহিলা বলেন, ‘ফুল এনেছি যাতে ফুল দেখে ওঁরা ওঁদের কৃতকর্মটা বুঝতে পারেন। সারা দেশে ছাত্রদের যে দাবি…ওঁরা নিজেরাও জানেন ওঁরা কীভাবে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছেন। সেটা যেন ওঁরা বন্ধ করেন। তারজন্য আমি ফুল দিয়ে ওঁদের শুভেচ্ছা জানাতে চাইছি।’

অপর এক আন্দোলনকারী ছাত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই যে দাবি করে আসছি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এনটিএ বাতিল করতে হবে। কারণ, এনটিএ আজ যেভাবে ছাত্র সমাজের ক্ষতি করছে, ছাত্রদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে…তাই অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তাই শিক্ষামন্ত্রীর যেমন পদত্যাগ চাইছি, এনটিএ-কে বাতিল করতে হবে অবিলম্বে। আজ রাজপথ এতেই লাল হবে।’