সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ক্রিসমাস শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আনন্দ, ভালোবাসা এবং উদযাপনের প্রতীক। প্রতি বছর ২৫ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসেবে এই দিনটি পালন করেন। তবে অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন আসে—ক্রিসমাসকে কেন অনেক সময় ‘X-MAS’ বলা হয়? আর যিশুর প্রকৃত জন্মতারিখ জানা না থাকলেও ঠিক ২৫ ডিসেম্বরেই কেন ক্রিসমাস পালিত হয়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর লুকিয়ে আছে ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির গভীরে।
🎁 ‘X-MAS’ নামের অর্থ কী?
অনেকেই মনে করেন ‘X-MAS’ শব্দটি আধুনিক বা শর্টফর্ম হিসেবে তৈরি হয়েছে এবং এতে নাকি ‘Christ’ শব্দটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল।
‘X’ আসলে এসেছে গ্রিক বর্ণ ‘Chi (Χ)’ থেকে, যা গ্রিক ভাষায় ‘Christos’ বা খ্রিস্ট শব্দের প্রথম অক্ষর। প্রাচীন খ্রিস্টান লেখালিখিতে যিশু খ্রিস্টকে বোঝাতে ‘Χ’ বা ‘ΧΡ’ (Chi-Rho) প্রতীক ব্যবহার করা হতো। তাই ‘X-MAS’ মানে মোটেই খ্রিস্টবিরোধী কিছু নয়; বরং এটি বহু শতাব্দী পুরনো এক ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত রূপ।
📜 ২৫ ডিসেম্বরেই কেন ক্রিসমাস?
বাইবেলে যিশু খ্রিস্টের সঠিক জন্মতারিখের উল্লেখ নেই। ইতিহাসবিদদের মতে, যিশুর জন্ম সম্ভবত বসন্ত বা গ্রীষ্মকালে হয়েছিল। তবুও চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান চার্চ ২৫ ডিসেম্বরকে ক্রিসমাস দিবস হিসেবে নির্ধারণ করে।
এর পেছনে একটি বড় সাংস্কৃতিক কারণ রয়েছে। প্রাচীন রোমে এই সময়ে পালিত হতো ‘Saturnalia’ ও ‘Sol Invictus’—সূর্যদেবতার উৎসব। শীতকালীন অয়নান্তের (Winter Solstice) পর দিন বড় হতে শুরু করত, যা নতুন আলো ও আশার প্রতীক ছিল। খ্রিস্টধর্মের প্রসারের জন্য এই জনপ্রিয় উৎসবের তারিখকেই যিশুর জন্মদিন হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

🌍 সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রিসমাস শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব না থেকে একটি বৈশ্বিক সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ক্রিসমাস ট্রি, সান্তা ক্লজ, উপহার বিনিময়—এসবই বিভিন্ন ইউরোপীয় ও লোকজ সংস্কৃতি থেকে আসা উপাদান, যা পরে খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে গেছে।
আজকের দিনে ক্রিসমাস মানে পরিবার, বন্ধুত্ব, মানবতা এবং নতুন আশার বার্তা। ‘X-MAS’ হোক বা ‘Christmas’—এই উৎসবের মূল ভাবনা ভালোবাসা ও সহানুভূতি।