শুভেন্দুর জনতার দরবারে চাঞ্চল্য! প্রাক্তন মন্ত্রীর আমলে ‘লবিবাজি’-র অভিযোগ তুললেন সংগীতশিল্পী ঋদ্ধি
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সরকারের তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সংগীত শিল্পী এবং সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদান করা শিল্পীদের কাছ থেকে কাট মানি নিতেন। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির সদর দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে পৌঁছে সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় লবিবাজি ও সিন্ডিকেটরাজের মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও শিল্পী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে তৃতীয় দিনের জনতার দরবার কর্মসূচিতে সল্টলেক বিজেপি দফতরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের লম্বা লাইন দেখা যায়। ইতিমধ্যেই গত দিনের জমা পড়া অভিযোগপত্র এবং গত এক সপ্তাহ যাবত বিজেপি অফিসে জমা পড়া একাধিক সাধারণ মানুষের সমস্যার নম্বর ভিত্তিতে টোকেন বিলি শুরু হয়েছে। সম্প্রসারিত মন্ত্রীসভার শপথ থাকার কারণে গতকাল, সোমবার নির্ধারিত দিন অনুযায়ী জনতার দরবার কর্মসূচি হয়নি। তাই আজ মঙ্গলবার অভিযোগকারীদের ভিড় জমে বিজেপি দপ্তরের সামনে।
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই শিল্পীদের একাংশ মুখ খুলতে শুরু করেছেন ‘তৃণমূল সরকারের ঘনিষ্ঠদের’ বিরুদ্ধে। গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষুব্ধ শিল্পীরা বাংলা আকাদেমির সামনে জড়ো হন। তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটি ফোরামও গঠিত হয়। সেই সময়েও বার বার ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে আসে। এ বার নিজেদের সেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিলেন তাঁরা।
টলিউডের সংগীত শিল্পী ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায় কয়েকদিন আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল জমানায় টলিউডের সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে। এমনকি প্রাক্তন তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সরকারি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পরে সেই টাকা থেকেও কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে জনতার দরবারে দেখা করার পরে ঋদ্ধি একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেই বলেন, ‘তাঁরা ৪-৫টা করে, ৬-৭টা করেও এক একজন অনুষ্ঠান পেতেন। এবং প্রত্যেকে হাই পেমেন্ট পেতেন। সেটা ব্যাঙ্কে পড়ত। সেখান থেকে টাকাটা রিটার্ন হয়ে আবার চলে আসছে অন্য জায়গায়, তোলার মতো করে বা কাটমানির মতো করে।’
শিল্পীর অভিযোগ, এসবের প্রতিবাদ যাঁরা করেছিলেন বলে তাঁদেরকে ব্যান করা হয়। ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘আমি মোটামুটি শেষ ১২-১৩ বছর ধরে ব্যান ছিলাম। ইন্দ্রনীল সেনের আন্ডারে যে চক্রটা চলত… বিভিন্ন রকম মঞ্চে দেখতেন যে, পাঁচালি গাইছেন, কীর্তন গাইছেন। তাঁদের অনেকেই আছেন, যাঁরা সরকারি চাকরি পেয়েছেন। সমস্তই আমাদের গায়ক মন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করতেন। তাঁর একটা লবি, তাঁর সিন্ডিকেট।’

পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন ভোট পরবর্তী অশান্তিতে আক্রান্তদের পরিবারও মঙ্গলবার পৌঁছে গিয়েছিল বিজেপির দফতরে। ন্যায়বিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তাঁরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির বাসিন্দা বাবুসেনা মণ্ডল নির্বাচন পরবর্তী অশান্তিতে ছ’বছরের সন্তানকে হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। ২০১৪ সালের ভোট পরবর্তী অশান্তিতে ভাইকে হারিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার রহড়ার বাসিন্দা শর্বাণী রায়। তিনিও ন্যায়বিচারের আশায় পৌঁছেছেন জনতার দরবারে।