সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
Bengal MGNREGA dues নিয়ে আবারও উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই স্বীকার করল যে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) প্রকল্পের অধীনে ৩ হাজার ৩৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। MGNREGA payment delay নিয়ে বারবার সরব হয়েছে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সংসদে তারই প্রতিফলন ঘটল।
২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলে কেন্দ্র জানায়। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান তৃণমূল সাংসদ প্রকাশ চিক বারিকের প্রশ্নের উত্তরে জানান, West Bengal MGNREGA fund আটকে রয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশিকা পালন না করার অভিযোগে।
বাংলাকে ‘বঞ্চনা’, বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিয়মিত অর্থপ্রদান?
তৃণমূলের অভিযোগ, এটা শুধুই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটা political discrimination। বাংলায় বিজেপির সরকার না থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা আটকে রাখা হচ্ছে। অথচ গুজরাট, বিহার, তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ বন্ধ হয়নি, বরং নিয়মমাফিক অর্থপ্রদান হয়েছে।
গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, “খোদ গুজরাতে ৭৫ কোটির দুর্নীতি ধরা পড়েছে, গ্রেপ্তারও হয়েছে। তবুও কোনও বকেয়া নেই। অথচ বাংলায় মাত্র ৫ কোটির অভিযোগে ৩ হাজার কোটির টাকা আটকে রাখা হয়েছে।”
প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা, কিন্তু সমাধান নেই
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের বৈঠকে অংশ নেন রাজ্যের অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র ও গ্রামোন্নয়ন সচিব পি উলগানাথন। সেখানে বাংলার বকেয়া নিয়ে আলাদা বৈঠকের কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের আলোচনায়ও কোনও সমাধান সূত্র আসেনি।
MGNREGA dues of Bengal নিয়ে এই ধরণের পরিস্থিতি বাংলার কৃষিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড়সড় সমস্যা তৈরি করছে।
এই ইস্যুতে মমতা সরকারের লড়াই অব্যাহত
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন, দিল্লিতে ধর্না পর্যন্ত দিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে MGNREGA protest by TMC হয়েছে। তবুও কেন্দ্র অর্থ ছাড়েনি।
তৃণমূলের দাবি, এটা সাংবিধানিক অধিকার হরণ। রাজ্যকে প্রাপ্য টাকা না দেওয়া হলে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতাই নষ্ট হয়।

Bengal MGNREGA dues ইস্যু এখন শুধুই আর্থিক নয়, তা হয়ে উঠেছে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতীক। জনগণের প্রকল্পে এই ধরণের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
👉 এই ধরনের তথ্যভিত্তিক সংবাদ পড়তে থাকুন এবং বাংলার প্রাপ্যতা নিয়ে সচেতন থাকুন।