‘নতুন তৃণমূল’ বিতর্কে জল্পনার অবসান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকার বার্তা দেবের

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

“নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে আছেন, সঙ্গে আছি।” মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার পরেও তিনি মমতার নেতৃত্ব ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী। সোমবার থেকেই সংসদে তৃণমূলের কয়েকজন বিদ্রোহী সংসদের সঙ্গে তিনি যোগ দিয়ে মমতার নেতৃত্বকে অস্বীকার করে নতুন তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বলে, যে সমস্ত সংবাদ সামনে এসেছিল তা উড়িয়ে দিয়ে আজ কোলাঘাটে দাঁড়িয়ে দেব বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার ভালবাসা সারাজীবন থাকবে। নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁছে আছেন, সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতে কী হবে, আমি এখন কিছু বলতে চাই না। আমি যদি দিল্লি গিয়ে থাকি, আজ যে এখানে উপস্থিত রয়েছি, তা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে।”

 

তবে তৃণমূলের টিকিটের সাংসদ নির্বাচিত হলেও শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে তার যোগ দেওয়া প্রসঙ্গেও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঘাটালের যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা একটা বিশ্বাস থেকে ভোট দিয়েছেন যে, এই লোকটা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আমি সেই স্বপ্ন নিয়ে শুভেন্দুদার কাছে এসেছি, যিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। ল অফ দ্য ল্যান্ড মানতে হবে আমাদের। চেয়ারের সম্মান রয়েছে। আমি এটা অবিশ্বাস করতে পারব না যে শুভেন্দু অধিকারী আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন। আমাকে তো মানতে হবে! আমাকে কেন, আমাদের সবাইকে মানতে হবে। আমার কাজটা কী? রাজ্যে এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। তাদের হাত ধরে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা পূরণের দায়িত্ব আমারই। আমার পুরো বিশ্বাস, রাজ্যের এই সরকার, শুভেন্দুদা এবং কেন্দ্রীয় সরকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে উদ্যোগী হয়েছে, আমরা যে টার্ম সেট করেছিলাম, ২০২৯ সালের আগেই তা শেষ হোক। আপনারা যে রাজনীতি দেখছেন, যে রাজনীতি হয়ে থাকে, আমি কখনও সেই রাজনীতি করিনি। আমার রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে এক রাখা, মানুষকে ভাল রাখা, আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করা। আমি তো তাই করছি! এটা তো অন্যায় নয়!”

 

Ritabrata Banerjee : বিরোধী দলনেতার চেয়ার কি হাতছাড়া হবে ঋতব্রতের? স্পিকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তৃণমূলের বড় আইনি লড়াই

শুভেন্দুদা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনও নতুন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। একদিনে সিদ্ধান্ত, কাজ এবং ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য আছে। শুভেন্দুদা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ। যখন তৃণমূলে ছিলেন একই হেলিকপ্টারে চেপে উত্তরবঙ্গে ঘুরতাম, প্রচারে যেতাম আমরা। ওঁর ভাইয়ের প্রচারে যেতাম। আমি এমন একজন মানুষ, যাঁর সঙ্গে একবার সম্পর্ক থাকে, থেকেই যায়। আমার স্বার্থপরতার ব্যাপার নেই। গর্বের ব্যাপার যে আমি একটা মানুষকে চিনতাম, যিনি মেদিনীপুরের ছেলে, তৃণমূলস্তরের লড়াকু ছেলে। দিদি যেমন লড়াই করে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন, শুভেন্দুদার গল্পও তেমন।”

 

মমতা দিদি কথা রেখেছেন

 

মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলে জনপ্রতিনিধিদের কথা বলার জায়গা ছিল না বলে কোন কোন বিধায়ক এবং সংসদ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে অভিযোগ করতে শুরু করেছেন তিনি তেমন কোন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কিনা সেই প্রশ্নের জবাবে দেব বলেন, “সব প্রশ্ন যেমন এক হতে পারে না, তেমনই উত্তরও এক হতে পারে না। আমি কখনও বলতে পারব না যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শোনেননি। বরং আমি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে যে দাবি রেখেছিলাম, তিনি রেখেছেন। স্বাধীনতার পর, ১৯৫৯ সালের পর, ২০২৪-২৫ সালে গিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। যে মহিলা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমার এত কথা শোনেন, কেন এটা বলতে যাব?”

দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি

মেদিনীপুরের সংসদ জুন মালিয়া প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করলেও তার সঙ্গে বিন্দুমাত্র সহমত পোষণ না করে দেব বলেন, “জুনদি বা কে কী বলছে, আমি সেই সুরে কথা বলতে পারব না। আমি দিদিকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। চাই উনি সুস্থ থাকুন। কিন্তু আমার এটা ইচ্ছে যে, ঘাটালের মানুষকে আমি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ২০২৯ সাল পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হবে আমাকে। সেই লড়াইয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত তো ধরতেই হবে আমাকে! প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করতে হবে। আমি তা-ই করছি।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *