ব্রেকিং
  • Home /
  • Featured News /
  • ১৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান! সম্পূর্ণ হল বিশ্বের বিস্ময় Sagrada Familia, যিশুর টাওয়ার উদ্বোধন করলেন পোপ লিও

১৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান! সম্পূর্ণ হল বিশ্বের বিস্ময় Sagrada Familia, যিশুর টাওয়ার উদ্বোধন করলেন পোপ লিও

গাউদির স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব, স্পেনে ইতিহাসের সাক্ষী হাজারো মানুষ; আলো-রঙে ঝলসে উঠল বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জা শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। একটি স্বপ্ন, একটি অসমাপ্ত স্থাপত্য বিস্ময়, আর ১৪৪ বছরের অপেক্ষা। অবশেষে ইতিহাস তৈরি করল স্পেনের (Spain) বার্সেলোনা (Barcelona)। সম্পূর্ণ হল বিশ্বের....

১৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান! সম্পূর্ণ হল বিশ্বের বিস্ময় Sagrada Familia, যিশুর টাওয়ার উদ্বোধন করলেন পোপ লিও

  • Home /
  • Featured News /
  • ১৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান! সম্পূর্ণ হল বিশ্বের বিস্ময় Sagrada Familia, যিশুর টাওয়ার উদ্বোধন করলেন পোপ লিও

গাউদির স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব, স্পেনে ইতিহাসের সাক্ষী হাজারো মানুষ; আলো-রঙে ঝলসে উঠল বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জা শৌনক....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

গাউদির স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব, স্পেনে ইতিহাসের সাক্ষী হাজারো মানুষ; আলো-রঙে ঝলসে উঠল বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জা

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

একটি স্বপ্ন, একটি অসমাপ্ত স্থাপত্য বিস্ময়, আর ১৪৪ বছরের অপেক্ষা। অবশেষে ইতিহাস তৈরি করল স্পেনের (Spain) বার্সেলোনা (Barcelona)। সম্পূর্ণ হল বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ক্যাথলিক স্থাপত্য সাগরাদা ফামিলিয়া (Sagrada Familia)। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে যিশু খ্রিস্টের টাওয়ার বা ‘টাওয়ার অব জিসাস ক্রাইস্ট’-কে আনুষ্ঠানিক আশীর্বাদ করলেন পোপ লিও চতুর্দশ (Pope Leo XIV)।

 

শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল ইতিহাস, শিল্প, স্থাপত্য এবং বিশ্বাসের এক বিরল মিলনমেলা। কারণ যে স্থাপত্য প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ১৮৮২ সালে, তা সম্পূর্ণ হতে সময় লাগল প্রায় দেড় শতাব্দী।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের নজর ছিল বার্সেলোনার দিকে। কারণ সাগরাদা ফামিলিয়া শুধু একটি গির্জা নয়, এটি আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নিদর্শন এবং স্পেনের পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

গাউদির মৃত্যুর ১০০ বছর, সেই দিনেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় কিংবদন্তি স্থপতি আন্তোনি গাউদির (Antoni Gaudi) মৃত্যুর শতবর্ষ উপলক্ষে। গাউদি তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছিলেন এই প্রকল্পে। কিন্তু ১৯২৬ সালে মৃত্যুর আগে তিনি নিজের স্বপ্নের স্থাপত্য সম্পূর্ণ হতে দেখার সুযোগ পাননি।

সেই কারণেই ১০০ বছর পরে তাঁর সমাধির সামনে প্রার্থনা করে দিন শুরু করেন পোপ লিও। সাগরাদা ফামিলিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত গাউদির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

 

ক্যাথলিক মহলে গাউদিকে শুধু স্থপতি নয়, বিশ্বাসের এক শিল্পী হিসেবেও দেখা হয়। তাঁর ‘বিটিফিকেশন’ বা সাধু ঘোষণার প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলছে।

 

উপস্থিত রাজা-রানি থেকে প্রধানমন্ত্রী

 

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে (King Felipe VI), রানি লেতিসিয়া (Queen Letizia), প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ (Pedro Sanchez), চার্চের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তারা।

 

গির্জার ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রায় সাড়ে আট হাজার মানুষ। এছাড়াও হাজার হাজার মানুষ বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি দেখেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তেও পৌঁছে যায় এই ঐতিহাসিক দৃশ্য।

 

পোপের বার্তা: ‘যিশুকে মানলে যুদ্ধ নয়’

 

মাস চলাকালীন নিজের বক্তব্যে পোপ লিও এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

তিনি বলেন, প্রকৃত খ্রিস্টীয় বিশ্বাস শুধুমাত্র প্রার্থনায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, তা মানুষের আচরণেও প্রতিফলিত হতে হবে।

 

পোপের কথায়, “যিশুর প্রতি বিশ্বাস রেখে যুদ্ধ করা যায় না। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা যায় না। যারা কষ্টে আছে, যারা দারিদ্র্যের কারণে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের পরিত্যাগ করা যায় না।”

 

বর্তমান বিশ্বের সংঘাত, যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জার মর্যাদা

 

সাগরাদা ফামিলিয়ার নতুন ‘টাওয়ার অব জিসাস ক্রাইস্ট’ এখন ১৭২.৫ মিটার উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর ফলে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ গির্জা হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে।

 

টাওয়ারটির শীর্ষে রয়েছে একটি বিশাল চার-হাত বিশিষ্ট ক্রস, যার উচ্চতা ১৭ মিটার এবং প্রস্থ ১৩.৫ মিটার। বিশেষ কাচ ও সাদা সিরামিক দিয়ে তৈরি এই ক্রস দিন ও রাত— দুই সময়েই আলোর প্রতিফলনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

 

গাউদির স্বপ্ন ছিল, এই ক্রস যেন সবসময় আলো ছড়ায়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ইচ্ছাকেই বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়েছে।

 

আলো, ড্রোন আর আবেগের বিস্ফোরণ

 

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন পোপ নতুন টাওয়ারকে আশীর্বাদ করেন। এরপরই আলোয় ভেসে ওঠে গোটা গির্জা।

 

নিচ থেকে উপরের দিকে আলোর ধারা ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় বিশাল ক্রসের শীর্ষে। এরপর শুরু হয় ড্রোন-নির্ভর বিশেষ আলোক প্রদর্শনী।

 

আকাশে ভেসে ওঠে আন্তোনি গাউদির অবয়ব এবং তাঁর বিখ্যাত দর্শন— “প্রথমে ভালোবাসা, তারপর প্রযুক্তি।”

 

হাজার হাজার দর্শক সেই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সাগরাদা ফামিলিয়া?

স্থাপত্যবিদদের মতে, সাগরাদা ফামিলিয়া শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়। এটি প্রকৃতি, ধর্ম, গণিত, শিল্প এবং আধুনিক প্রকৌশলের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ।

 

গাউদি চেয়েছিলেন এই গির্জা যেন ‘পাথরের তৈরি বাইবেল’ হয়ে ওঠে। যেখানে আলো, রং, প্রকৃতির নকশা এবং স্থাপত্যের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে বিশ্বাসের বার্তা।

সেই স্বপ্ন বাস্তব হতে লেগে গেল ১৪৪ বছর।

 

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

সাগরাদা ফামিলিয়ার সঙ্গে পোপদের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে এখানে এসেছিলেন পোপ জন পল দ্বিতীয়। পরে ২০১০ সালে পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ এই গির্জাকে ‘মাইনর ব্যাসিলিকা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

আর ২০২৬ সালে এসে পোপ লিও চতুর্দশের আশীর্বাদে সম্পূর্ণতার মুকুট পেল গাউদির জীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।

১৪৪ বছর আগে শুরু হওয়া এক অসমাপ্ত স্বপ্ন অবশেষে পূর্ণতা পেল। কিন্তু প্রশ্ন একটাই— প্রযুক্তি, বিশ্বাস আর শিল্পের এই অভূতপূর্ব মিলনের পর সাগরাদা ফামিলিয়া কি আগামী শতাব্দীরও সবচেয়ে বড় স্থাপত্য বিস্ময় হয়ে থাকবে?

আজকের খবর