বিধানসভায় ঐতিহাসিক উদ্যোগ, রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে এবার বাংলায় চালু হচ্ছে ‘সেরা বিধায়ক’ পুরস্কার
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এবারে বাংলার বিধানসভায় চালু হচ্ছে সেরা বিধায়ক পুরস্কার। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেরা পুরস্কার তুলে দেওয়া হলেও এতদিন বিধানসভায় সেরা বিধায়ক অথবা সেরা মন্ত্রী ক্যাটেগরিতে কখনো পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানা নেই। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পরে এবারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এমন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস।
এবার কাজের নিরিখে বিধায়কদের পুরস্কৃত করবে রাজ্য বিধানসভা। কোন বিধায়ক কেমন কাজ করছেন তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে একটি এজেন্সি। তার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে প্রতি বছর একজন করে বিধায়ককে পুরস্কৃত করা হবে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস।
সেরা বিধায়ক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখা হবে হাজিরা ও ভূমিকা। বিধানসভার অধিবেশনে একজন বিধায়কের উপস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। দ্বিতীয়ত, দেখা হবে ওই বিধায়ক তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থে কোন কোন কাজ করেছেন। সেসব খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করবে একটি এজেন্সি। তাদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে প্রতি বছর সেরা বিধায়ককে পুরস্কৃত করা হবে। স্পিকারের এই সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার ফলে বিধায়কদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের উৎসাহ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
21 July commission : ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে মমতার প্রতারণা ফাঁস শুভেন্দুর
শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রথমবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে আসা নবাগতদের কাজ শেখার জন্য শাসক এবং বিরোধী দলের প্রবীনদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বোস বলেন, ‘নিজের এলাকা এবং সামগ্রিক রাজ্য উন্নয়নের স্বার্থে কীভাবে বিধানসভার মঞ্চকে সঠিক ও কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা অভিজ্ঞ বিধায়কদের কাছ থেকে শিখে নিতে পারেন প্রথমবার জয়ী হওয়া বিধায়করা।’
মিটমাট করলেন কুনাল
বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর পরই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় স্পিকারকে বলেন, ‘গতকালের ঘটনা নিয়ে আমার কিছু বলার আছে।’ পালটা স্পিকার বলেন, ‘কী আবার বলবেন? গতকালের ঘটনা অত্যন্ত কলঙ্কজনক।’ এতেই ক্ষুব্ধ হয় মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বুধবার তুমুল হইচই ও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মার্শাল দিয়ে বিধানসভা থেকে বের করে দিতে হয়। যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে অচলাবস্থা তৈরি হয় বিধানসভার অন্দরে। অভিযোগ, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক আখরুজ্জামানের বক্তব্য চলাকালীন তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা কুণাল ঘোষকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
বৃহস্পতিবারও ফের স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির ‘কলঙ্কজনক’ শব্দটির তীব্র প্রতিবাদ করেন। এরপরই উঠে স্পিকারের কাছে চলে যান কুণাল। বলেন, ‘বিধানসভা ওয়াকআউট, বাদানুবাদ, মার্শাল ডেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। তাহলে গতকালের ঘটনাকে কলঙ্কজনক কেন বললেন?’ পালটা স্পিকারকে নিজের জায়গায় গিয়ে বসার নির্দেশ দেন। কিন্তু কুণাল নিজের বক্তব্য পেশে অনড়। এদিন ফের তাঁর পাশে দেখা যায় মার্শালদের। তবে বের করে দেওয়ার ঘটেনি। এরপরই নিজের জায়গায় গিয়ে বসেন কুণাল। যদিও তারপরও একাধিকবার উঠে আসতে দেখা যায় তাঁকে। অধিবেশন কক্ষে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেও কথাকাটাকাটিতে জড়ান তৃণমূল বিধায়করা।