অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শিলিগুড়ির চিকেনস নেক-সহ পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ করে সুরক্ষিত করতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে। শুধুমাত্র বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ করে নয় সীমান্তকে সুরক্ষিত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর তুলতে হবে শক্তপোক্ত কাঁটাতারের বেড়া ও যাবতীয় ব্যবস্থা করতে হবে দেশকে সুরক্ষিত করার জন্য।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় প্রচারে এসে বারে বারে এই দাবি তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর থেকে সব থেকে দ্রুত গতিতে বিএসএফের হাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় জমি হস্তান্তর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারে বাংলায় সীমান্ত সুরক্ষার জন্য শুভেন্দু অধিকারী কি কি কাজ করেছেন এবং আরো কি কি করা আশু প্রয়োজনীয় তা দেখার জন্য ছুটে এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে।
তিনদিনের সফরে রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ শিলিগুড়িতে ৭৭.০৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়ে উত্তরকন্যায় বিশেষ সমন্বয় বৈঠক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-সহ কেন্দ্রের একাধিক এজেন্সি ও রাজ্য একাধিক এজেন্সিকে নিয়ে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁদের সঙ্গে হাই টি-তেও অংশ নেন অমিত শাহ।কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি চারা গাছও রোপণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা দিয়েই শিলিগুড়ির কর্মসূচি শেষ করেন অমিত শাহ। শিলিগুড়ির ঝুমাগাছ সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন অমিত শাহ।মোট ৭৭.০৬ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্তের ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তরকন্যায় যে বৈঠক করেছেন, তাতে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল সীমান্তে নজরদারি এবং সুরক্ষা। আলোচনা হয়েছে গুন্ডাদমন আইন, জন্ম-মৃত্যুর নথি ডিজিটাইজ়েশন, অবৈধ ভোটার এবং আধার কার্ড বিষয় নিয়েও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তো ছিলেনই। যোগ দেন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দুই দিনাজপুর এবং মালদহের বিজেপির জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও।
জানা গিয়েছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ যে কটি নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে সবথেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বলা হয়েছে,
সীমান্ত এলাকায় দ্রুত শেষ করতে হবে ফেন্সিংয়ের কাজ, এর জন্য প্রয়োজনে আরো আধুনিক যন্ত্র আনতে হলে আনতে হবে।নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এর বলেই সূত্রের খবর।
অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত উপদ্রুত এলাকায় চাই ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং।
চিকেন নেককে কেন্দ্র করে পরিকাঠামো বাড়াতে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন জানিয়েছে এসএসবি, আইটিবিপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর সামনে। ইতিমধ্যই তা রাজ্যকে জানানো হয়েছে বৈঠকে বলা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
সীমান্তবর্তী এলাকায় কোন অবৈধ জমায়েত দেখলে পুলিশ এবং বিএসএফ যৌথভাবে সেই এলাকা অবৈধ জমায়েত মুক্ত করবে। বৈঠকের নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।

বাংলায় বাড়তে পারে সেনা ছাউনির সংখ্যা। তার জন্য প্রয়োজন জমি বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর সামনে তা প্রস্তাব রাখা হয় বলেই সূত্রের খবর।
বিএসএফ, এনআইএ, এসএসবি, আইটিবিপির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও পর্যালোচনা বৈঠক করবে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা।বৈঠকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বলেই সূত্রের খবর।