কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।

 

“আমি আপনাদের ছোট চৌকিদার। দেশের বড় চৌকিদার নরেন্দ্র মোদী। আমি হয়তো আপনাদের আনন্দে একবার আসব। দুঃখে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাব।” এভাবেই আজ রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ২৬-শের ভোটের দামামা বাজালেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজেকে দেশবাসীর চৌকিদার বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, তিনি ছোট চৌকিদার। একইসঙ্গে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি যেখানেই কাজ করুন না কেন, তাঁর মন্দির হল নন্দীগ্রাম।

রবিবার নন্দীগ্রামে বিজেপির একটি সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ছাব্বিশের সেই নির্বাচনে তৃণমূল হারবে বলে এদিন ফের মন্তব্য করেন তিনি। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “আট মাস বাকি আছে। মমতা থাকবেন না। প্রাক্তন হবেন।” এরপর সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ছাব্বিশ সালের লড়াইতে সকলের সাহায্য চাইব নন্দীগ্রামকে সুরক্ষিত রাখবেন।”

প্রসঙ্গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবথেকে সাড়া জাগানো বিধানসভা কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বারে বারে সেখানকার মানুষের পাশে থাকার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু। দল বললে এবারও যে তিনি এখানে দাঁড়াতে প্রস্তুত, তা বুঝিয়ে দিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। বলেন, “আমার সঙ্গে নন্দীগ্রামের সম্পর্ক অনেক পুরনো। আমি নন্দীগ্রামে প্রথম আসি ২০০৩ সালে। আজকে ২০২৫। আমাকে যদি পার্টি ও আপনারা দাঁড়াতে বলেন তাহলে ছাব্বিশের নির্বাচনে একুশের সুদ-হিসাব মানুষের ভালবাসার মাধ্যমে নিয়ে যাব। এটা আমি জানি।”

তৃণমূলকে আক্রমণ করে বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, “আমরা চব্বিশ সালে লোকসভা ভোটে এখানে জিতেছি। কেউ বলতে পারবে না, তৃণমূলের কারও বাড়িতে হামলা হয়েছে। আর একুশের নির্বাচনের ফল বেরনোর পর এখানে বিভিন্ন জায়গায় ঝামেলা করেছে তৃণমূল। আমরা চাই, সবাই মিলেমিশে শান্তিতে থাকুক।”

অন্যদিকে, রথযাত্রার দিন একাধিক কর্মসূচি রয়েছে বঙ্গ বিজেপির। রথের দিন কলকাতায় রয়েছে দুটি কর্মসূচি। সেখানে অংশ নেবেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তমলুক ও মেচেদায় রথযাত্রার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন শুভেন্দু। রবিবার ইতিমধ্যেই রথযাত্রা কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই কমিটিগুলিকে আর্থিক সাহায্য করার কথাও বলা হয়েছে।

সাধু সন্তদের নিয়ে একটি বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ”একতা যদি গড়ি না তুলি, কী হতে পারে বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। সিরাজগঞ্জের রবিঠাকুরের কাছাড়িবাড়িটাও ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। যা বলেছি, প্রমাণ হয়েছে। মনটা বিচলিত। পুলিশ এখন সক্রিয়, যখন হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়েছে। রামনবমীর মতো শক্তি দেখাক হিন্দুরা। রাস্তা ভরিয়ে দিতে হবে, সাজিয়ে দিতে হবে। সনাতনের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *