ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • বুলডোজারে ব্রেক! হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত বন্ধ হকার উচ্ছেদ, স্বস্তির নিঃশ্বাস যাদবপুরে

বুলডোজারে ব্রেক! হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত বন্ধ হকার উচ্ছেদ, স্বস্তির নিঃশ্বাস যাদবপুরে

মাঝরাতের অভিযানের পর তুমুল বিতর্ক, আদালতের হস্তক্ষেপে ১৭ জুন পর্যন্ত স্থগিত উচ্ছেদ; নজর এবার পরবর্তী শুনানিতে শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।   যাদবপুরে (Jadavpur Railway Station) বুলডোজারের গর্জন, উত্তপ্ত রাস্তা, গ্রেফতারি আর রাজনৈতিক সংঘাতের আবহের মাঝেই বড় মোড়। হকার উচ্ছেদ নিয়ে....

বুলডোজারে ব্রেক! হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত বন্ধ হকার উচ্ছেদ, স্বস্তির নিঃশ্বাস যাদবপুরে

  • Home /
  • কলকাতা /
  • বুলডোজারে ব্রেক! হাইকোর্টের নির্দেশে আপাতত বন্ধ হকার উচ্ছেদ, স্বস্তির নিঃশ্বাস যাদবপুরে

মাঝরাতের অভিযানের পর তুমুল বিতর্ক, আদালতের হস্তক্ষেপে ১৭ জুন পর্যন্ত স্থগিত উচ্ছেদ; নজর এবার পরবর্তী শুনানিতে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

মাঝরাতের অভিযানের পর তুমুল বিতর্ক, আদালতের হস্তক্ষেপে ১৭ জুন পর্যন্ত স্থগিত উচ্ছেদ; নজর এবার পরবর্তী শুনানিতে

শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।

 

যাদবপুরে (Jadavpur Railway Station) বুলডোজারের গর্জন, উত্তপ্ত রাস্তা, গ্রেফতারি আর রাজনৈতিক সংঘাতের আবহের মাঝেই বড় মোড়। হকার উচ্ছেদ নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) আপাতত ব্রেক কষল রেল কর্তৃপক্ষের অভিযানে।

 

বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে। ফলে আপাতত রেলের জমিতে আর কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। এই নির্দেশ সামনে আসতেই যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে।

 

গত কয়েকদিন ধরে যাদবপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি কার্যত সরগরম। কারণ শুধু উচ্ছেদ নয়, এই ঘটনাকে ঘিরে উঠে এসেছে পুনর্বাসন, জীবিকা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রশ্নও।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার গভীর রাতে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারেই রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways) আরপিএফ (RPF) ও কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতে যাদবপুর স্টেশন চত্বরে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। বহু দোকান, অস্থায়ী কাঠামো এবং ব্যবসায়িক পরিকাঠামো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়।

 

এই অভিযান শুরু হতেই এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আগে থেকে পর্যাপ্ত সময় বা বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে বহু পরিবার রাতারাতি জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় পড়ে।

 

উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হয় বামফ্রন্ট (Left Front West Bengal) ও কংগ্রেস (Congress West Bengal)। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশিকায় পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও বাস্তবে সেই দিকটি উপেক্ষা করা হয়েছে।

 

প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন সিপিএম যুব নেতা সৃজন ভট্টাচার্য (Srijan Bhattacharyya)। তাঁর নেতৃত্বে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরাতে হস্তক্ষেপ করে এবং সৃজন সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। যদিও পরদিন আদালত থেকে তাঁরা জামিন পান।

 

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের জীবিকা বিপন্ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, রেলের জমি দখলমুক্ত করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

 

এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হকার ও ব্যবসায়ীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পুনর্বাসনের প্রশ্নে স্পষ্ট নীতি ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদ কার্যত মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।

 

আবেদন শুনে বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য (Justice Hiranmay Bhattacharyya) জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি গ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ফলে আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকছে।

 

আদালতের এই নির্দেশকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ এর ফলে শুধু যাদবপুর নয়, ভবিষ্যতে অনুরূপ উচ্ছেদ অভিযানগুলির ক্ষেত্রেও পুনর্বাসন ও মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। কারণ আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশ স্থায়ী সমাধান নয়। আগামী শুনানিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের পথ।

এখন প্রশ্ন একটাই—১৭ জুনের শুনানির পর কি স্থায়ী স্বস্তি মিলবে হকারদের, নাকি ফের গর্জে উঠবে বুলডোজার? যাদবপুরের দিকে তাকিয়ে এখন শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই নন, নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।

আজকের খবর