রাহুল সিংহ মজুমদার। কলকাতা সারাদিন।
বেনারসীর লাল রঙে মোড়া এক সন্ধ্যা। আলো-ছায়ার মাঝে গঙ্গার ধারের বাতাসে যেন ঝলমল করছিল নতুন জীবনের ঘোষণা। হলুদ পাঞ্জাবিতে আত্মবিশ্বাসী হিরণ চট্টোপাধ্যায়, আর পাশে লাল বেনারসিতে স্নিগ্ধ কিন্তু স্পষ্টভাবে আত্মপ্রত্যয়ী ঋতিকা গিরি—এক ঝলকেই এই বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন ধরিয়ে দেয়। রেড কার্পেট নয়, তবু ভিজ্যুয়ালটা ছিল নিখুঁত সিনেম্যাটিক। ক্যামেরা, ক্লিক, আর তারপরই শুরু প্রশ্নের বৃষ্টি।
বিয়ে মানেই তো গ্ল্যামার—কিন্তু এখানে গ্ল্যামারের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে এল বিতর্ক। ২১ বছরের মডেল ও আইনের ছাত্রী ঋতিকা গিরির সঙ্গে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিযোগের তীর ছুড়লেন প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা। দাবি, ২০০০ সালে হওয়া তাঁদের বিয়ে আইনত ভাঙেনি, ডিভোর্সের মামলাও নেই। ১৯ বছরের মেয়ের বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী বয়সে মাত্র দু’বছরের বড়—এই তথ্যই মুহূর্তে খবরকে ভাইরাল করে দেয়।
এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিরণের ভক্তদের উচ্ছ্বাসও কম নয়। “দাদা আমার যেমন তেমন, বৌদি আমার মডার্ন”—এই ধরনের পোস্টে ঋতিকার ফিটনেস, যোগব্যায়ামে জাতীয় স্তরের গোল্ড মেডেল, মডেলিং প্রোফাইল—সব মিলিয়ে তাঁকে গ্ল্যামার গার্ল হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে। কেউ কেউ তো সরাসরি সিনেমার পর্দায় তাঁকে দেখতে চাওয়ার দাবিও তুলেছেন। ইনস্টাগ্রাম-চালিত এই যুগে, আলোচনার কেন্দ্রে থাকা মানেই ট্রেন্ডিং।
কিন্তু গ্ল্যামারের মাঝেই ঋতিকা নিজে মুখ খুলে স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিয়ে নতুন নয়—পাঁচ বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে আছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর দেওয়া বয়স সংক্রান্ত তথ্য ভুল, এবং তাঁকে ডিভোর্স নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বেনারসের মতো পবিত্র স্থানে, মা গঙ্গার জলকে সাক্ষী রেখে, অগ্নিকে সামনে রেখে এই বিয়ে—এখানে কোনও শো-অফ ছিল না, ছিল মানসিক পরিতৃপ্তি। তাঁর সোজাসাপ্টা চ্যালেঞ্জ, “যদি বেআইনি মনে হয়, আইনি পথে যান।”
এই বিতর্কে আরও আবেগ যোগ করেছে হিরণের কন্যা নিয়াসা চট্টোপাধ্যায়ের শেয়ার করা ছোট্ট ভিডিয়ো। সেখানে মা অনিন্দিতার প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা—“তুমিই আমার মা, তুমিই বাবা”—এই কথাগুলো নেটদুনিয়ায় আলাদা করে আলোড়ন ফেলে। একদিকে গ্ল্যামার, অন্যদিকে পারিবারিক যন্ত্রণা—দু’য়ের সংঘর্ষেই এই খবর থামতে চাইছে না।
চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে হিরণ মানেই ‘মজনু’, ‘জামাই ৪২০’, ‘জিও পাগলা’র মতো পরিচিত মুখ। ২০২০-র পর বড়পর্দা থেকে দূরে থাকলেও, এই বিয়ে তাঁকে ফের শিরোনামে ফিরিয়ে আনল। তবে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম থেকে সব ছবি মুছে ফেলেছেন তিনি—নীরবতার মধ্যেও যে সিদ্ধান্তের ভার আছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
রাজনীতি, গ্ল্যামার আর ব্যক্তিগত জীবনের এই মিশেলে হিরণ-ঋতিকা অধ্যায় এখন টক অফ দ্য টাউন। বেনারসের সেই লাল বেনারসির মতোই, এই গল্পও রয়ে গেল উজ্জ্বল—কিন্তু প্রশ্নচিহ্নে ভরা।