ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাতেই রাজ্যসভার টিকিট! তৃণমূলের ৩ প্রাক্তন সাংসদের ‘দ্রুত পুরস্কার’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাতেই রাজ্যসভার টিকিট! তৃণমূলের ৩ প্রাক্তন সাংসদের ‘দ্রুত পুরস্কার’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইককে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির। তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপির পাল্টা দাবি—‘যোগ্যতার স্বীকৃতি’। ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণে সরগরম বাংলা রাজনীতি। সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। কলকাতা (Kolkata): রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল বিকেল থেকেই।....

বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাতেই রাজ্যসভার টিকিট! তৃণমূলের ৩ প্রাক্তন সাংসদের ‘দ্রুত পুরস্কার’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • বিকেলে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাতেই রাজ্যসভার টিকিট! তৃণমূলের ৩ প্রাক্তন সাংসদের ‘দ্রুত পুরস্কার’ ঘিরে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইককে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির। তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপির পাল্টা....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইককে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির। তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপির পাল্টা দাবি—‘যোগ্যতার স্বীকৃতি’। ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণে সরগরম বাংলা রাজনীতি।

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

কলকাতা (Kolkata): রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল বিকেল থেকেই। আর রাত গড়াতেই সেই জল্পনাই কার্যত বাস্তবে পরিণত হল। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হল তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) এবং প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)-এর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এত দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বিজেপির স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেক (Salt Lake)-এ বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)-এর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এই তিন নেতা। যোগদানের পর থেকেই তাঁদের রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ দিল্লি থেকে বিজেপির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ে।

আগামী ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই তিনটি আসনই শূন্য হয়েছিল কারণ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছাড়ার আগে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের সাংসদ হিসেবে মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত, আর সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এবার তাঁরা ফের রাজ্যসভায় ফিরতে চলেছেন, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে।

এই উপনির্বাচন ঘিরে সংখ্যার অঙ্কও বিজেপির পক্ষেই। বর্তমানে বিধানসভার সমীকরণ অনুযায়ী তৃণমূলের পক্ষে এই তিনটি আসনে প্রার্থী জেতানো সম্ভব নয়। ফলে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবস্থাতেই বিজেপির ঝুলিতে তিনটি আসন চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।

 

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে বিজেপির অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে। নির্বাচনের আগে বারবার বিজেপির তরফে বলা হয়েছিল, তৃণমূলের নেতাদের জন্য দলের দরজা কার্যত বন্ধ। সেই অবস্থান থেকে হঠাৎ তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদকে দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তার ব্যাখ্যা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

 

তিনি বলেন, “ভারতের রাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও পশ্চিমবঙ্গে বিগত ৫০ বছর ধরে, ৩৪ বছর ধরে সিপিআইএম ও গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূলের শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্বীকার করা হচ্ছিল। যে রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে চলছিল, তাতে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘর্ষ চলছিল। সব উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপরে আস্থা রেখে রাজ্যসভার তিন তৃণমূল সাংসদ, যারা নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছিলেন, সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিলেন।”

 

দলবদল নিয়ে বিজেপির অবস্থান বদলের প্রশ্নে শমীক ভট্টাচার্যের জবাবও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”

 

একইসঙ্গে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যারা মানুষের সম্পত্তি লুট করেছেন, তাদের জন্য দরজা বন্ধ। নির্বাচনের আগে আমি বারবার আহ্বান জানিয়েছিলাম কংগ্রেসের ভোটারদের কাছে, বামপন্থী ভোটারদের কাছে এবং স্পষ্ট করে এটা বলেছিলাম যারা চাকরি বিক্রি করেননি, চাকরি কেনেননি, সিন্ডিকেটে অংশগ্রহণ করেননি, যারা নিরাপরাধ মানুষের উপরে নিজের আধিপত্যবাদ চাপিয়ে দেননি, মানুষের অধিকারকে পদদলিত করেননি, তাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। আশা করব, এরা প্রত্যেকেই গুণীজন, বিদ্বগ্ধ মানুষ। এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”

 

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, দলবদলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার টিকিট ঘোষণা হওয়ায় বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট। যদিও বিজেপির দাবি, এটি কোনও পুরস্কার নয়, বরং অভিজ্ঞ ও সংসদীয় কাজের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের প্রতি দলের আস্থা।

এখন নজর ২৪ জুলাইয়ের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের দিকে। ফলাফল নিয়ে বিশেষ অনিশ্চয়তা না থাকলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন কী পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই তিন মুখের বিজেপিতে নতুন ইনিংস কি আরও বড় রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত? উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।

আজকের খবর