সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“আমার অফিসের ও আইপ্যাকের নাম করে পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক গ্রেফতার হয়েছে। নম্বর দিচ্ছি ৮১৪২৬৮১৪২৬ – যদি কেউ বলে আইপ্যাক থেকে এসেছি এই নম্বরে ভেরিফাই করবেন।” এভাবেই আজ দলের সর্বস্তরের প্রায় সাড়ে চার হাজার নেতা কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি জেলা স্তরে অথবা তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাছে অভিষেকের অফিস অথবা আইপ্যাড থেকে কোন প্রতিনিধি কথা বলতে গেলেও তা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করে অভিষেক বলেন, “আমার অফিস থেকে গেলে আগাম বার্তা যাবে জেলা সভাপতির কাছে। না হলে তাকে এন্টারটেন করবেন না। আমার অফিসে রিপোর্ট করবেন।”
প্রসঙ্গত আইপ্যাক নিয়ে তৃণমূলের বিভিন্ন জেলার স্তরের নেতা সম্প্রতি বিতর্কিত একাধিক মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের সাংগঠনিক সভা থেকেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা জানিয়ে দিয়েছিলেন, পিকে-র আইপ্যাক এটা নয়। ওরা একটা রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। এরা একটা নতুন টিম। এদের সহযোগিতা করতে হবে। এদের নামে উল্টোপাল্টা বলা বন্ধ করুন। কাজটা সবাইকে মিলে করতে হবে।
এর পাশাপাশি নেতাজি ইন্ডোরের সাংগঠনিক বৈঠক থেকে মমতা বাংলায় ভুতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভোটার লিস্ট পরিষ্কার করার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা কার্যকর করার জন্যে জেলা থেকে শুরু করে ব্লক ও বুথ স্তর পর্যন্ত নতুন কমিটি গঠন করে দিয়েছেন অভিষেক। জেলাভিত্তিক কমিটি গড়তে হবে পাঁচ দিনের মধ্যে। আর ২১ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে ব্লক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। ব্লক কমিটির সভাপতিকে স্ক্রুটিনির দায়িত্ব নিতে হবে না। ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে তৃণমূলের ব্লক স্তরে ব্লক ইলেক্টোরাল রোল সুপার ভাইজার নামে পদও তৈরি করছে তৃণমূল।
পাশাপাশি বৈঠকে পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের সতর্ক করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি আসনই জিতেছে বিজেপি। এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুরে নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার জন্য কাঁথি আসন হেরেছি। যদি সর্বশক্তি প্রয়োগ করতাম তাহলে জিততে পারতাম।” গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের নেতাদের এদিন সতর্ক করে দেন অভিষেক। পশ্চিম মেদিনীপুরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষ তো ভুল বোঝেননি। পাশের জেলায় মানুষ ভুল বুঝলেন কেন?”
কারও নাম না নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমাদের দলের একাধিক নেতা রয়েছেন, যাঁরা অন্যকে ছোট করতে গিয়ে দলের ক্ষতি করছেন। আমি নেতাজি ইন্ডোরের সভায় বলেছিলাম। এই কাজ করবেন না। দলকে বিপদে ফেলবেন না। আমি কিন্তু প্রত্যেকের গতিবিধি নজরে রেখেছি। আমি জানি, নির্বাচনের সময় কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। আমি কিন্তু যা বোঝার বুঝে গিয়েছি।”
ভুতুড়ে ভোটার ইস্যুতে কিভাবে দলের নেতা কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিরা কাজ করবেন তার গাইডলাইন বেঁধে দিয়ে অভিষেক আজ বলেন,
আমাদের অবস্থান কমিশনে জানানো হয়েছে। আমরা ভূতুড়ে ভোটারের বিষয় ধরে ফেলেছি বলে গায়ে খুব জ্বালা।
পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট দিতে না দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি।
মহারাষ্ট্র এবং দিল্লি, দুই বিধানসভা নির্বাচনেই ভুতুড়ে ভোটার কায়দা করে ভোটার লিস্টে ঢুকিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি এবং তাদের শরিক দলগুলি।
লোকসভার সাত মাস পরে দিল্লিতে বিধানসভা ভোট হয়েছে। ৪ লক্ষ ১২ হাজার নতুন ভোটার যোগ করেছে।
মহারাষ্ট্রে চার মাসের ব্যবধানে ৩৯ লক্ষ নয়া ভোটার যোগ করেছে। খুব ঠান্ডা মাথায় এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাই সবাইকে বলছি অত্যন্ত সাবধানে, ঠান্ডা মাথায় সতর্ক হয়ে কাজ করবেন।
মহারাষ্ট্রে ৭৮ এমন বিধানসভা আছে যেখানে ১৮ লক্ষ নতুন ভোটার যোগ হয়েছে। যার মধ্যে ৬৮ বিধানসভায় বিজেপি জিতেছে। এটা কাকতালীয় হতে পারে না।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল ৪ হাজার ভোটে হেরেছেন। ওনার বিধানসভায় ৩৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। এটা ওরা ভোটের পরে ধরতে পেরেছে। তার আগে কারচুপি করে ফেলেছে। আমরা কারচুপি ধরে ফেলেছি।
এর আগে বাংলাকে টাকা দিয়েছে বলেছিল। কিন্তু যেই তথ্য প্রকাশ করতে বলেছি, সেটা পারেনি।
বিজেপির প্ল্যান ২৫ লাখ ভোটারের নাম কেটে আরও ২৫ লাখ যোগ করার। বিজেপির পরিকল্পনা হচ্ছে ভোটার ২৫ লাখ বাদ দেবে।
কমিশনে আমাদের দাবি কোন কোন নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল আর কাদের নাম যোগ হল, সেই তালিকা বের করুন।

ভোটার লিস্টে কারচুপি ধরতে এবার পূর্ণ সময়ের জন্য তৃণমূল জেলায় জেলায় দুটি পদ তৈরি করছে। ব্লক ইলেকটোরাল রোল সুপারভাইজার এবং তার অধীনে টাউন ইলেকটোরাল রোল সুপারভাইজার ও পঞ্চায়েত ইলেকটোরাল রোল সুপারভাইজার গঠন করা হবে। ভোটার তালিকায় কারচুপি ধরতে সারা বছর এই কর্মীরা কাজ করবেন।
রাজ্যের কোন কোন বুথে তৃণমূল খুব অল্প বা বেশি ব্যবধানে হেরেছে, সেগুলি চিহ্নিত করে হারের কারণ খুঁজে বের করতে হবে।