সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“এত গরমে বসে আছেন কেন? আমি তো বলেছি স্কুলে যান। যারা চাকরি খেয়েছে তাদের বিশ্বাস করবেন না। স্কুলে যান, ক্লাস করান, যারা উস্কানি দিচ্ছে তারা কিন্তু বেতন দেবে না, সরকার দেবে।” মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ের প্রশাসনিক সভা মঞ্চ থেকে এভাবেই আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্কুলে ফেরার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যোগ্য অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের দাবিতে সল্টলেকে আচার্য সদনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী গোয়ালতোড়ে, সরকারি প্রকল্প সোলার পার্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে। সেখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আমি কলকাতায় থাকলে এক সেকেন্ডেই বিষয়টা মিটিয়ে দিতাম।”গোয়ালতোড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি কাল সন্ধ্যা থেকে কমপক্ষে ১০ বার ফোনে কথা বলেছি। আমি কলকাতায় থাকলে হয়তো এক সেকেন্ডে বিষয়টা মিটিয়ে দিতাম। আমি রাত বারোটা পর্যন্তও কথা বলে দেখেছি, কেউ কেউ জেদি হয়ে রয়েছেন। যে যোগ্য অযোগ্য তালিকা বার করতে হবে। ”
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, “শিক্ষক শিক্ষিকারা যাঁরা বসে রয়েছেন, তাঁরা কেন কষ্ট করে বসে রয়েছেন এই গরমের মধ্যে? আপনারা স্কুলে যান।” চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকারা বেতন পাবেন, সেটা আরও একবার সুনিশ্চিত করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আপনাদের চাকরি বাতিল করেছিল, টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা তো রিভিউ পিটিশন করেছিলাম, তাতে তো আমরা বলেছিলাম, আপনারা মাইনে পাবেন। সিস্টেম অনুযায়ী বেতন চলে যাবে। কারোর প্ররোচনা দেওয়ার দরকার নেই।”
চাকরি বাতিল কান্ডে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরের প্রশাসনিক সভা থেকে বলেন, “আমরা চাকরি দেব আর ওরা চাকরি খাবে। গতকাল থেকে যারা বসে আছেন তাদের প্রতি বার্তা, আপনারা স্কুলে যান। আমরা রিভিউ পিটিশন করেছি। সিস্টেম অনুযায়ী মাইনে আপনারা পাবেন। গ্রুপ সি/ডি যেটা বাতিল হয়েছে আমদের আইনজীবিদের সঙ্গে কথা বলতে দিন। যারা চাকরি ফিরিয়ে দিতে পারে তাদের উপর ভরসা করুন। আপনাদের চিন্তার কোন কারণ নেই। যারা উস্কাচ্ছেন তাদের উপর ভরসা করবেন না। আমি চাইবো না রাজ্যে বেকার বাড়ুক। প্রাইমারির ৩৫ হাজার চাকরি বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে পিটিশন।
রাজনীতি করতে গেলে দানবিক নয় মানবিক মুখের প্রয়োজন। আইনের মধ্য থেকে রাজ্য সরকার আপনার কাজ করে দেবে। টাকা কিন্তু যারা আপনাদের উস্কে দিচ্ছেন তারা দেবে না, সরকার দেবে। আমি কলকাতা থাকলে এক সেকেন্ডে সমস্যা মিটিয়ে দিতে পারতাম। লিস্ট নিয়ে আপনার কী? ওটা দেখার জন্য রাজ্য আছে, কোর্ট আছে। উত্তরপ্রদেশে ৬৯ হাজার চাকরি গেছিলো, সেটা কিন্তু তারা ফেরত পাইনি। আমরাই তো কোর্টে আপনাদের হয়ে লড়েছি।”
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেন, “আমি তো চাইব না, আমার রাজ্যে বেকার বাড়ুক। আবার দেখছি হাইকোর্টে একটা কেস করে বসে আছে, ৩৫ হাজার প্রাথমিক শিক্ষককে ছাঁটাই করতে হবে!”