কলকাতা সারাদিন প্রতিবেদন।
উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে! বাংলায় নির্বাচনী প্রচারের মাঝে এমন ঘটনা প্রায় দিন ঘটিয়ে বাংলার মানুষকে হাসির খোরাক জুগিয়ে চলেছেন একের পর এক ভাজপা নেতা। কখনো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বোলপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলছেন রবীন্দ্রসঙ্গীতকে ভারতজুড়ে জনপ্রিয় করেছিলেন রবি শংকর।
আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কে বানিয়ে দিচ্ছেন স্বামী রামকৃষ্ণ আর স্বামী বিবেকানন্দ কে বানিয়ে দিচ্ছেন বিবেকানন্দ ঠাকুর! মাঝেমধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা অথবা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বানানোর মতো ঘটনা তো রয়েছেই। আসলে বাংলা এবং বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে কোনদিন চর্চা না করলে যা হয় আর কি!
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বুলডোজার চালিয়ে কটা ঘর ভাঙতে হবে আর কোথায় কোথায় হিন্দু-মুসলিম নিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে হবে। সেই নিয়ে ব্যস্ত থাকা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গুলিয়ে ছেড়ে দিলেন স্বামী বিবেকানন্দ আর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। বাংলা কথা বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে কমনসেন্স না থাকুক, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও যে কখনো তিনি পড়েননি তার প্রমাণ দিলেন আজ নির্বাচনী জনসভা থেকে।
নিজেকে অতি বড় বাঙালি প্রমাণ করতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ দাবি করে বসলেন, স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি স্বাধীনতা দেব। বর্তমানে মোদিজীর নেতৃত্বে ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে, এখন ইউপিতে সবাই স্বনির্ভর। আপনাদের কাছে শেষ সুযোগ, বাংলায় হিন্দুত্ববাদী মোদিজীর সরকার তৈরি করার। যদিও স্বামী বিবেকানন্দ আর নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মধ্যে গুলিয়ে ফেললেও নিজে যে বিষয়ে ডক্টরেট করে ফেলেছেন সেই বুলডোজার চালানোর বিষয়টাই কিন্তু কোন ভুল-ভ্রান্তি করেনি যোগী। পুরুলিয়ার জয়পুর বিধানসভার ভাজপা প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাহাতোর সমর্থনে জয়পুরে ডাকবাংলো ময়দানে এদিন যোগী আদিত্যনাথ এর জনসভার মঞ্চের সামনেই রাখা হয়েছিল বুলডোজার। কারণ পুরুলিয়াতেও ভোটের প্রচারে যোগীর বুলডোজার অস্ত্র। এদিন সরাসরি তৃণমূলের নাম করে আক্রমণ করে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের যত গুণ্ডা আছে ধমকি দিচ্ছে মনে রাখবেন। মনে রাখবেন ইউপির মতো ওই মাফিয়াদের উপর বুলডোজার চলবে।

আর এইভাবে বাংলার মনীষীদের নাম এবং বাণী নিয়ে ক্রমাগত বিকৃত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তৃণমূল।