সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘বিচারাধীন ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এর মধ্যে ১০ লক্ষের বেশি হিন্দু বাঙালির নাম কাটা গিয়েছে।’ জাতীয় নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পরে এভাবেই উত্তরবঙ্গের নাটা বাড়ির জনসভা থেকে অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার কোচবিহারের নাটাবাড়িতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি বলেন, ‘এ বার লড়াইটা অনাচার বনাম উন্নয়নের, অবহেলা বনাম সম্মানের, শোষণ বনাম হার না মানার মানসিকতার লড়াই।’
অসম থেকে ফরেন ট্রাইব্যুনালকে কাজে লাগিয়ে বাংলার মানুষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, সে কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক। একই সঙ্গে এ দিন কোচবিহারের মাটিতে দাঁড়িয়ে কোচবিহারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ও বিদায়ী পদ্ম বিধায়ককে নিশানা করেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। অভিষেকের অভিযোগ, সাংসদ থাকাকালীন দিল্লিতে বসে থাকতেন তিনি। কোচবিহারের মানুষের জন্য কিছুই করেননি। অন্যদিকে নাটাবাড়ির বিদায়ী বিধায়ক বিজেপির মিহির গোস্বামীকে মানুষ কোনও দিন কাছেই পাননি। গত পাঁচ বছরে মানুষের জন্য কিছুই করেননি। অভিষেকের কথায়, ‘বিজেপির যিনি বিধায়ক ছিলেন, তাঁকে ডাকা হতো সুইচঅফ বিধায়ক বলে। সব সময়ে মোবাইল ফোন বন্ধ। খালি ছবি তুলে সংবাদমাধ্যমে টিকে থাকা।’
নাটাবাড়ি থেকে অভিষেক বলেন, ‘অবৈধ ভাবে যাঁদের নাম বিজেপি কেটেছে, যে ২৭ লক্ষ নাম আন্ডার অ্যাজুডিকেশনের নামে অবৈধ ভাবে কাটা হয়েছে, তার মধ্যে ১০ লক্ষের বেশি হিন্দু বাঙালির নাম রয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, যে সম্প্রদায়েরই হোন, এই বাংলা সবার। দলমত নির্বিশেষে আগামিদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের মৌলিক অধিকার, ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবেন। কেউ ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। আমাদের টাকা আটকেও আমাদের রুখতে পারেনি, আমাদের নাম কেটেও আমাদের রুখতে পারবে না। বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে আমাদের টাইট করতে পারবে না। বাংলা মাথা নত করতে জানে না।’

জলপাইগুড়ি সদরে এবার বিজেপি প্রার্থী করেছে আইনজীবী অনন্তদেব অধিকারীকে৷ নির্বাচনী জনসভার মঞ্চ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘জলপাইগুড়ির বিজেপির প্রার্থী সারাদিন ঠিক অবস্থাতেই থাকেন না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন। মদ্যপানে আশক্ত। তাঁর চারিত্রিক সীমাবদ্ধতা আছে। মহিলাদের ওপর খারাপ আচরণ করেন। আমি ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে আঘাত করি না৷’