সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে আইপ্যাক-এর অন্যতম পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি।
দিল্লি থেকে তাঁকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ আইনে চান্দেলকে হেফাজতে নিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেল। সোমবার রাতে ইডি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে।
মধ্যরাতে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন জাজের বেঞ্চে পেশ করা হয় তাঁকে। ভোর পর্যন্ত চলে শুনানি। তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতেই তল্লাশি চালানো হয়েছিল। আর্থিক তছরূপ ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ভিনেশকে। ভোট-কুশলী সংস্থা আইপ্যাকে ৩৩ শতাংশ শেয়ার আছে তাঁর।
মূলত আর্থিক তছরূপ ও বিভিন্ন হিসেব বহির্ভূত টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা নিয়ে হাওয়ালা মারফত বাইরে পাঠানো হয়েছে। এমনকী আন্তর্জাতিক হাওয়ালা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি ইডি-র। অন্তত ৫০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের কথা বলা হয়েছে ইডি-র অভিযোগে।
এছাড়া, কোনও বৈধ নথি ছাড়াই ঋণ নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন ভিত্তিহীন বিল ও ইনভয়েস পেশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। ইডি-র দাবি, থার্ড পার্টি থেকে টাকা নিয়ে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন করা হত। আইপ্যাকে যেত এমন অনেক টাকা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার ভিত্তিতেই ভিনেশের নাম সামনে আসে। আগেই কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস ও আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
এদিকে, আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধার ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারির পর গর্জে উঠে এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক নিজের এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ভিনেশ চান্দেল-এর গ্রেফতারি কেবল উদ্বেগজনকই নয়, বরং এটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারণাকেই নাড়িয়ে দিচ্ছে। যেখানে বাংলার সাধারণ মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ছবি ফুটে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এই ধরনের পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত ভয়ের বার্তা দিচ্ছে। ভয়ের রাজনীতি চলছে। এটা গণতন্ত্রের লক্ষ্মণ নয়। গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব যে সকল প্রতিষ্ঠানের কাঁধে, তখন তারাই যখন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে,তখন মানুষের আস্থা ক্ষয় হতে শুরু করে। একদিকে নির্বাচন কমিশন, অন্যদিকে ইডি, এনআইএ এবং সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলির সাহায্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি গ্রেপ্তারের বিষয় নয়। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীন রয়েছে কি না।অমিত শাহ আপনি ৪ ও ৫ মে বাংলায় থাকুন। সঙ্গে জ্ঞানেশ কুমার ও এজেন্সিকেও রাখুন। বাংলা কখনও ভয় পায় না,কখনও নীরব থাকে না এবং কখনও মাথা নত করে না। এটি এমন এক ভূমি,যা ভয়ের জবাব প্রতিরোধের মাধ্যমে দেয়-আর তা আপনাদের স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেবে।’

তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ ও চুঁচুড়ার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো আগেই বলে দিয়েছিলেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, মধ্যরাত থেকে তাদের কাজ শুরু হবে। এটাই হয়েছে। শুধু এটা কেন, আমাদের পূর্ব মেদিনীপুরের কত নেতাকে এনআইএ-এর নোটিশ দেওয়া হয়েছে দেখছেন না। আমি নিজে যখন তমলুকে নির্বাচন লড়তে গিয়েছিলাম, ময়না নন্দীগ্রাম সহ একাধিক জায়গায় এনআইএ-এর নোটিশ দেওয়া শুরু হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সুজিত বসু, দেবাশীষ কুমার এদেরকে হঠাৎ করে ইডি নোটিশ দিতে শুরু করল। এগুলো দেখার পর কি কারোর সন্দেহ কিছু থাকে, যে এই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে বিজেপি কীভাবে ব্যবহার করছে। দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার। সেই কেজরিওয়াল বেকসুর খালাস হয়ে গেলেন। ঝাড়খণ্ডেও এক। এই জিনিসগুলো আমরা দেখছি। বাংলার ক্ষেত্রে চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে।’